বেলজিয়াম-৩     জাপান-২

ওয়েবডেস্ক: গোলরক্ষক বল ছুঁড়ে দিয়েছিলেন ডি ব্রুইনের দিকে। সেই বল নিয়ে দুরন্ত গতিতে মাঝমাঠ অবধি ছুটে ব্রুইন বল দিলেন থমাস মিউনিয়েরকে। ডান প্রান্তের দিক দিয়ে তরতর করে উঠে মিউনিয়ের পেনাল্টি বক্সে বল দিলেন লুকাকুকে। লুকাকু বল না ধরে ছেড়ে দিলেন ন্যাসের চ্যাডলিকে। এবং গোল। তখন ম্যাচের শেষ মিনিট। গোলের একটু পরই খেলা শেষ হয়ে গেল। এবারের বিশ্বকাপ থেকে শেষ হয়ে গেল এশিয়ার স্বপ্ন। আর দর্শকরা পেয়ে গেলেন কোনোদিন ভুলতে না পারার মতো একটি ফুটবল ম্যাচ দেখার স্বাদ।

সেই কবে, ১৯৬৬ সালে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে ৩-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও ৫-৩ গোলে জিতেছিল পর্তুগাল। একাই চার গোল দিয়েছিলেন ইউসেবিও নামে এক মহামানব। সেই ম্যাচের সঙ্গে মিল ছিল এদিনের ম্যাচেরও। সেটাও ছিল এশিয়া বনাম আফ্রিকার লড়াই। এটাও তাই। সেই ম্যাচেও ইউরোপের অভিজ্ঞতা, ফুটবল ঐতিহ্যর কাছে হার স্বীকার করেছিল এশিয়া। এবারও তাই করল।

কিন্তু অমিলও আছে। সেবার পর্তুগালে ছিলেন ‘কালো মুক্তো’ ইউসেবিও। বেলজিয়াম দলে তেমন কেউ না থাকলেও ছিলেন অনেক তারকা। কিন্তু তাঁরা কেউই এদিন গোল করতে পারেননি। লুকাকু একের পর এক মিস করেছেন(যদিও শেষ গোলের কোটি টাকার ফল্‌সটা তাঁরই দেওয়া)। হ্যাজার্ডের শট বারে লেগেছে বা লক্ষভ্রষ্ট হয়েছে ডি ব্রুইনেরও তাই। তারপরেও এই অসামান্য জয় থেকে বোঝা গেল, কেন তাঁদের এবারের সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন বলা হচ্ছে। কেন এই দলটাকে বলা হচ্ছে সে দেশের গোল্ডেন জেনারেশন।

ন্যআসের চ্যাডলির দেওয়া বেলজিয়ামের শেষ মিনিটের গোল

তবে এদিনের বেলজিয়ামের জয়ের পেছনে যেমন তাঁদের কৃতিত্ব রয়েছে, তেমনই চূড়ান্ত দুর্বলতা দেখিয়েছে জাপান। প্রথমার্ধ জুড়ে বেলজিয়ামের ঝড়ের মতো আক্রমণ সামলে দ্বিতীয়ার্ধে ৪৮ ও ৫২ মিনিটে জোড়া গোলে এগিয়ে যায় নীল সামুরাইরা। কিন্তু তারপর রক্ষণকে দৃঢ় করার বদলে তাঁরা চালিয়ে গেল আক্রমণ, ফলে যা হওয়ার তাই হল। ৬৯ মিনিটে ঐতি্হাসিক গেডে গোল করলেন ভারতোনঘেন। ৭৪ মিনিটে আরেক হেডে ম্যআচে সমতা আনলেন পরিবর্ত খেলোয়াড় ফেলাইনি। আর শেষের কথা তো শুরুতেই বলে দিয়েছি।

জাপান প্রাণ ঢেলে খেললেও বেলজিয়ামের থেকে সব দিকেই পিছিয়ে ছিল তাঁরা। তবু নিজেদের অর্জন করা সোনার সুযোগ যে তাঁরা ধরে রাখতে পারল না, তাতে নিশ্চয়ই খুশি হল না ব্রাজিল।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here