পর্তুগালের জয়, খুশি রোনাল্ডো। ছবি সৌজন্যে Reuters

পর্তুগাল ৩ (রোনাল্ডো, ফেলিক্স, লিয়াও) ঘানা ২ (আইউ, বুকারি)  

উরুগুয়ে ০ দক্ষিণ কোরিয়া ০

কাতার: না, এ বার আর কোনো অঘটন ঘটল না। শেষ পর্যন্ত ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোর পর্তুগালই জয় তুলে নিল। গোলের হিসাবে পর্তুগালের সঙ্গে পাল্লা দিল ঘানা। ম্যাচের ফল ৩-২। সব ক’টি গোল হল দ্বিতীয়ার্ধের ২৪ মিনিটের মধ্যে।

বৃহস্পতিবার স্টেডিয়ামে ৯৭৪-এ অনুষ্ঠিত গ্রুপ এইচ-এর ম্যাচে নায়ক ছিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোই। প্রথমার্ধ গোলশূন্য অবস্থায় শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে তিনিই পর্তুগালের হয়ে জয়ের দরজা খোলেন। এবং সৃষ্টি করেন ইতিহাস। রোনাল্ডোই বিশ্বের একমাত্র ফুটবলার যিনি পাঁচটি বিশ্বকাপে গোল করলেন। এই নিয়ে বিশ্বকাপে তাঁর ৮টি গোল হল। এবং তাঁর আন্তর্জাতিক গোলের সংখ্যা দাঁড়াল ১১৮।

শুরু থেকেই সক্রিয় রোনাল্ডো    

রোনাল্ডোর খাতায় হয়তো আরও দু’টো গোল লেখা হতে পারত যদি প্রথমার্ধের মধ্যে যে দু’টো গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন তা কাজে লাগাতে পারতেন। কিন্তু তা হল না। খেলার শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল পর্তুগালের পায়ে। ১০ মিনিটেই গোলের সুযোগ পেয়ে যান রোনাল্ডো। কিন্তু তাঁর শট বাঁচিয়ে দেন ঘানার গোলকিপার লরেন্স আতি-জিগি।

১৩ মিনিটে কর্নার পায় পর্তুগাল। কর্নার কিকে লাফিয়ে উঠিয়ে মাথা ছোঁয়ানোর চেষ্টা করেন রোনাল্ডো। কিন্তু হেডটা ঠিকমতো হয়নি। ঘানার পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায় রোনাল্ডোর হেড। প্রথম ১৫ মিনিটের মধ্যে পর্তুগাল ঘানার গোল লক্ষ্য করে চারটি শট নেয়। ঘানা তখনও পর্তুগালের বক্সে হানা দিতে পারেনি। ৩১ মিনিটে আবার ঘানার গোলে বল ঢুকিয়ে দেন রোনাল্ডো। কিন্তু তার আগেই রেফারি পর্তুগালের তারকার বিরুদ্ধে ফাউলের বাঁশি বাজিয়ে দিয়েছেন।

ম্যাচের ৩৭ ও ৩৮ মিনিটে পর পর কর্নার পায় ঘানা। এটাই ছিল তাদের প্রথম আক্রমণ। তবে লাভ কিছু হয়নি। প্রথমার্ধের একেবারে শেষ লগ্নে পর্তুগালের ওতাভিও দুরূহ কোণ থেকে শট নেন, কিন্তু তা ঘানার ক্রসবারের উপর দিয়ে বেরিয়ে যায়। প্রথমার্ধ গোলশূন্য শেষ হলেও পর্তুগালের আক্রমণ ছিল নিঃসন্দেহে অনেক বেশি।

দ্বিতীয়ার্ধে ৫ গোল

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই ঘানার উপরে আবার চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করে পর্তুগাল। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ৬৫ মিনিটে অচলাবস্থা ভাঙে। ঘানার বক্সে রোনাল্ডোকে ফেলে দিয়েছিলেন মহম্মদ সালিসু। পেনাল্টি থেকে গোল করতে ভুল করেননি রোনাল্ডো।

৮ মিনিট পরেই গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরাল ঘানা। মুহম্মদ কুদুসের পাস থেকে গোল করেন আন্দ্রে আইউ। ম্যাচের ৭৮ মিনিটে পর্তুগালকে জয়ের রাস্তায় নিয়ে আসেন জোয়াও ফেলিক্স। ঘানার গোলকিপারের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে দেন ফেলিক্স।

২ মিনিট পরেই পর্তুগাল ব্যবধান আরও বাড়ায়। ব্রুনো ফার্নান্ডেজের কাছ থেকে নিখুঁত পাস পেয়ে তাকে কাজে লাগান পরিবর্ত খেলোয়াড় রাফায়েল লিয়াও। শেষ পর্যন্ত ৮৯ মিনিটে ঘানার হয়ে জয়ের ব্যবধান কমান ওসমান বুকারি। পর্তুগাল জেতে ৩-২ গোলে।

এ দিনের গোলের পর ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোই হলেন বিশ্বের দ্বিতীয় সব চেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড় যিনি বিশ্বকাপে গোল দিলেন। বর্তমানে রোনাল্ডোর বয়স ৩৭ বছর ২৯২ দিন। সব চেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড় হলেন ক্যামেরুনের রজার মিলার যিনি ১৯৯৪-এর বিশ্বকাপে গোল দিয়েছিলেন। তখন তাঁর বয়স ছিল ৪২ বছর ৩৯ দিন।      

সুযোগ নষ্টের খেলা উরুগুয়ে বনাম দক্ষিণ কোরিয়া  

বৃহস্পতিবার এডুকেশন সিটি স্টেডিয়ামে আয়োজিত গ্রুপ এইচ-এতে উরুগুয়ে বনাম দক্ষিণ কোরিয়ার ম্যাচে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়। দু’ দলই গোল করার বেশ কিছু সুযোগ পায়, কিন্তু কাজে লাগাতে পারেনি।     

প্রথমার্ধের প্রথম সাত মিনিটের মধ্যেই দু’-দু’টি কর্নার পায় দক্ষিণ কোরিয়া। কিন্তু তাতে উরুগুয়ে কোনো বিপদে পড়েনি। এই সময়ে বলের উপর দখলদারি দক্ষিণ কোরিয়ারই বেশি ছিল।

লাতিন আমেরিকার দেশটি ধাতে আসতে একটু সময় নিয়েছিল। ধীরে ধীরে তারা ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। ম্যাচের ১৬ মিনিটে তারা প্রতিপক্ষের গোল লক্ষ্য করে শটও নেয়। তবে তা কাজে আসেনি। ২২ মিনিটে তারা দুর্দান্ত একটি সুযোগ মিস করে। দক্ষিণ কোরিয়ার গোলের একেবারে সামনে বল এসেছিল। কিন্তু উরুগুয়ের ডারউইন নুনেজ তা ধরতে পারেননি। এর পরেই সুয়ারেজ একটি সুযোগ পান, কিন্তু তা কাজে লাগাতে পারেননি। এর পরেও পর পর সুযোগ পায় উরুগুয়ে। ইতিমধ্যে বলের দখলদারিতেও তারা এগিয়ে যায়।

৩৪ মিনিটে দারুন সুযোগ পেয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়া। উরুগুয়ের গোলের ১০ গজ দূর থেকে হোয়াং উই-জো যে শট নেন তা ক্রসবারের উপর দিয়ে চলে যায়। ৪৩ মিনিটে কর্নার পায় উরুগুয়ে। সেই কর্নার কিক থেকে দিয়েগো গোদিন যে হেড করেন তা দক্ষিণ কোরিয়ার পোস্টে লেগে ফিরে আসে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও পর পর কর্নার পায় দক্ষিণ কোরিয়া। ম্যাচে ফিরে আসতে একটু সময় নেয় উরুগুয়ে। ম্যাচের ৮১ মিনিটে আবার সুযোগ পায় তারা। ডারউইন নুনেজের শট দক্ষিণ কোরিয়ার বারের অনেকটা উপর দিয়ে চলে যায়। ৮৯ মিনিটে অল্পের জন্য বেঁচে যায় দক্ষিণ কোরিয়া। উরুগুয়ের ফেডেরিকো ভালভার্দের শট প্রতিপক্ষের কাছের পোস্টে লাগে। পরের মিনিটেই দক্ষিণ কোরিয়ার সন হিয়ুং-মিনের শট উরুগুয়ের গোলের উপর দিয়ে চলে যায়। আরও ৬ মিনিট অতিরিক্ত সময়েও গোলের মুখ কেউ দেখল না।

আরও পড়ুন

বিশ্বকাপ ২০০২: ক্যামেরুন-জাত এমবোলোর গোলেই সুইৎজারল্যান্ড হারাল ক্যামেরুনকে

বিশ্বকাপ ২০২২:  কানাডার বিরুদ্ধে নামমাত্র গোলে জিতল বিশ্বের দু’ নম্বর বেলজিয়াম

বিশ্বকাপ ২০০২: জার্মানিকে হারিয়ে বাজিমাত জাপানের, কোস্তারিকাকে গোলের মালা স্পেনের, হতাশ করল ক্রোয়েশিয়া

 

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন