বিশ্বকাপ ২০২২: রামোসের হ্যাটট্রিক, সুইৎজারল্যান্ডকে গোলের মালা পরিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পর্তুগাল

0
পর্তুগালের খেলোয়াড়দের উচ্ছ্বাস। ছবি twitter থেকে নেওয়া।

পর্তুগাল ৬ (রামোস ৩, পেপে, গুয়েরেইরো, লিয়াও) সুইৎজারল্যান্ড ১ (আকানজি)

কাতার: মঙ্গলবার বিশ্বকাপের খেলায় একটা উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটল। বিশ্বখ্যাত ফুটবলার ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোকে রিজার্ভ বেঞ্চে বসিয়ে রাখা হল। তা সত্ত্বেও পর্তুগাল আধ ডজন গোল দিল সুইৎজারল্যান্ডকে। এর মধ্যে হ্যাটট্রিক করলেন গনকালো রামোস। এ বারের বিশ্বকাপে এটাই প্রথম হ্যাটট্রিক। কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর মুখোমুখি হবে পর্তুগাল।

মঙ্গলবার লুসাইল স্টেডিয়ামে আয়োজিত ‘রাউন্ড অফ ১৬’-র ম্যাচে পর্তুগাল ৬-১ গোলে হারায় সুইৎজারল্যান্ডকে। ৯০ মিনিটের ম্যাচে প্রায় নিয়মিত সময়ের ব্যবধানে গোল করে গিয়েছে পর্তুগাল। যার মধ্যে ৩টি গোল ২১ বছর বয়সি উদীয়মান স্ট্রাইকার গনকালো রামোসের।

শেষ ১৬ মিনিট খেললেন রোনাল্ডো

এ দিন পর্তুগালের কোচ ফার্নান্ডো সান্টোস একটি সাহসী সিদ্ধান্ত নেন। পর্তুগালের হয়ে সর্বাধিক গোল করার রেকর্ড যাঁর রয়েছে সেই ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোকে বসিয়ে গনকালো রামোসকে খেলানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এই সিদ্ধান্ত যে কতটা সঠিক ছিল, তার প্রমাণ দিলেন রামোস।  

ম্যাচের ৭৪ মিনিটে রোনাল্ডো নামেন পরিবর্ত খেলোয়াড় হিসাবে। ৮৪ মিনিটে তিনি সুইৎজারল্যান্ডের গোলে বলও ঢুকিয়ে দেন। কিন্তু ততক্ষণে অফসাইডের ফ্ল্যাগ উঠে গিয়েছে। রোনাল্ডো নিজেও জানতেন, ওটা অফসাইড।

প্রথমার্ধে পর্তুগালের ২ গোল     

এ দিনের খেলাই ছিল রামোসের কার্যত প্রথম বিশ্বকাপ খেলা। এর আগে এক দিন তিনি ১০ মিনিটের জন্য পরিবর্ত খেলোয়াড় হিসাবে নেমেছিলেন। এ দিন তিনি প্রমাণ করলেন, বড়ো ম্যাচের জন্য তিনি ভালো রকমই প্রস্তুত। পর্তুগালের হয়ে প্রথম গোল করেন রামোসই। ম্যাচের ১৭ মিনিটে একটি থ্রো-ইন থেকে বল পান জোয়াও ফেলিক্স। তাঁর তীক্ষ্ণ পাসে পা ছুঁইয়ে সুইৎজারল্যান্ডের বক্সে থাকা রামোস দুরূহ কোণ থেকে গোল করে পরাস্ত করেন গোলকিপার ইয়ান সোমেরকে।

পর্তুগালের দ্বিতীয় গোল ম্যাচের ৩৩ মিনিটে। ব্রুনো ফার্নান্ডেজের কর্নার কিকে মাথা ছুঁইয়ে গোল করলেন পেপে। হেড করার সময় ৩৯ বছরের বর্ষীয়ান ফুটবলার যে ভাবে সুইৎজারল্যান্ডের দুই ডিফেন্ডারকে ছাপিয়ে গেলেন, তা বিস্ময়ের সৃষ্টি করে।

প্রথমার্ধে পর্তুগাল ২-০ গোলে এগিয়ে থাকে। প্রথমার্ধের ঠিক শেষ মুহূর্তে আরও একটা গোল প্রায় করে ফেলেছিলেন রামোস। তাঁর নিচু হয়ে আসা শট দুর্দান্ত ভাবে বাঁচিয়ে দিলেন সুইস গোলকিপার।

দ্বিতীয়ার্ধে গোলের বন্যা    

কিন্তু রামোসকে আটকে রাখা গেল না। দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার ৬ মিনিট পরেই ডিয়োগো ডালোটের ক্রস পেয়ে যান রামোস। ঠিক জায়গাতেই ছিলেন তিনি। দুরন্ত ক্ষমতায় বল ঢুকিয়ে দেন সুইৎজারল্যান্ডের গোলে। পর্তুগাল এগিয়ে যায় ৩-০ গোলে।

৪ মিনিট পরেই আবার গোল। এ বার গোলদাতা রাফায়েল গুয়েরেইরো। তাঁকে বল বাড়িয়েছিলেন সেই রামোস। এর ৩ মিনিট পরেই একটি গোল শোধ করে সুইৎজারল্যান্ড। কর্নার পেয়েছিল সুইৎজারল্যান্ড। দূরের পোস্টে অরক্ষিত দাঁড়িয়েছিলেন দলের ডিফেন্ডার ম্যানুয়েল আকানজি। তাঁর কাছে বল আসতেই তিনি পর্তুগালের গোলে বল ঢুকিয়ে দিতে দ্বিধা করেননি। ফল দাঁড়ায় পর্তুগালের পক্ষে ৪-১।  

মনে হচ্ছিল, এ বার বোধ হয় ঘুরে দাঁড়াবে সুইৎজারল্যান্ড। কিন্তু না, আবার তেড়েফুঁড়ে ওঠে পর্তুগাল। এবং তার ফলও পেয়ে যায় ৬৭ মিনিটে। তৃতীয় গোল করলেন রামোস। এ বারের বিশ্বকাপে রামোসের পা থেকেই প্রথম হ্যাটট্রিক এল। যখন মনে হচ্ছিল ফেলিক্সের পাসে তিনি পা ছোঁয়াতে পারবেন না, ঠিক সেই মুহূর্তেও দুর্দান্ত টাচে সুইস গোলকিপারকে পরাস্ত করলেন রামোস। পর্তুগাল এগিয়ে গেল ৫-১ গোলে।

এখানেই শেষ নয়। পর্তুগালের চূড়ান্ত গোল এল অতিরিক্ত সময়ের ২ মিনিটে। ম্যাচের ৮৭ মিনিটে পর্তুগালের পরিবর্ত খেলোয়াড় হিসাবে নামেন রাফায়েল লিয়াও। তিনিই গোল করে সুইৎজারল্যান্ডের বিদায়ের ঘণ্টা বাজিয়ে দিলেন।  

আরও পড়ুন       

বিশ্বকাপ ২০২২: ইতিহাস সৃষ্টি করে মরক্কো কোয়ার্টার ফাইনালে, পেনাল্টি শুটআউটে পরাস্ত স্পেন

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন