hand of god and devil
Arunava Gupta
অরুণাভ গুপ্ত

হাফ টিম প্রতিপক্ষ ঘিরে ধরলেও বল পায়ে অনায়াসে বেরিয়ে যাচ্ছেন তিনি। উল্টে তাঁর লোহার মতো শক্তি শরীরে স্পর্শ করলে ছিটকে যেতে হচ্ছে প্রতিপক্ষকে। ১৯৮৬-র মেক্সিকো বিশ্বকাপে মারাদোনা-ম্যাজিক আরও ঝলসে উঠল ইংল্যান্ডের সঙ্গে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে। ওই ম্যাচে মারাদোনার প্রথম গোল, যাকে বলে-‘চুরি বিদ্যা মহা বিদ্যা যদি না পড়ে ধরা’। বল বাতাসে ভেসে আসছে। ইংল্যান্ডের গোলকিপার পিটার শিলটন আর মারাদোনা এক সঙ্গে লাফালেন। শিলটন বল তালুবন্দি করার মুহূর্ত আগে চোখের পলকে বল ঢুকে গেল গোলের ভিতরে।

বল যখন জালে তখন গোল তো বটেই। রেফারি নিয়ম মতেই ফুঁ দিলেন গোলের বাঁশিতে। আর্জেন্টিনা সমর্থকরা ভেসে গেলেন আনন্দ-হাসিতে। মারাদোনা হাত দিয়ে সেই বল গোলে ঢুকিয়েছেন, এমন অভিযোগে শিলটন রেফারির কাছে আবেদন করলেন গোল বাতিলের। ও দিকে সারা মুখে শিশুসুলভ নিষ্পাপ প্রলেপ লাগিয়ে মারাদোনা দেখছেন একবার রেফারি আর একবার শিলটনকে। তাঁর সেই সারল্য অভিব্যক্তি যেন বলতে চাইছে-‘তা হলে কি গোল করে অন্যায় করলাম’।

maradona

রেফারি অবশ্য যে কোণে ছিলেন, সেখান থেকে তাঁর মনে হতেই পারে, মারাদোনা হেড দিয়ে গোল করেছেন। অতএব কোনো ভুলচুক নেই। জবরদস্ত অভিনয় মারাদোনার। তবে ওই ম্যাচেই দ্বিতীয় গোলটা ছিল সোনার ফ্রেমে বাঁধিয়ে রাখার মতোই। এমনকী রাগ-ক্ষোভ ভুলে ইংল্যান্ড কোচ ববি রবসন বলেছিলেন-‘বিস্ময়কর’।

মারাদোনার অবশ্য কোনো হেলদোল ছিল না। সেই রহস্যঘন গোলের নেপথ্য কারণ হিসাবে মারাদোনা তুলে ধরেছিলেন ‘ঈশ্বরের হাত’ তত্ত্ব। অন্য দিকে ইংল্যান্ডের কাছে যা ‘শয়তানের হাত’ হিসাবেই চিহ্নিত।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here