Home খবর কলকাতা পরিবেশ সচেতনতার বার্তা দিতে ‘সবুজপুকুর মেলা’ অনুষ্ঠিত হল ঢাকুরিয়া যুবতীর্থ শিশু উদ্যানে

পরিবেশ সচেতনতার বার্তা দিতে ‘সবুজপুকুর মেলা’ অনুষ্ঠিত হল ঢাকুরিয়া যুবতীর্থ শিশু উদ্যানে

দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর গড়ফা-ঢাকুরিয়া-হালতু অঞ্চলে সবুজপুকুর জলাশয়ের সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে।

সবুজপুকুর মেলায় পরিবেশ বাঁচানোর বার্তা।

নিজস্ব প্রতিনিধি:  দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর গড়ফা-ঢাকুরিয়া-হালতু অঞ্চলে সবুজপুকুর জলাশয়ের সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে গড়ফা-ঢাকুরিয়া-হালতু জলাশয় রক্ষা মঞ্চ আর ঢাকুরিয়া যুবতীর্থ এক অভিনব ‘সবুজপুকুর মেলা’র আয়োজন করে। প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোড এবং ইএম বাইপাস কানেক্টরের মোড়ের কাছে ঢাকুরিয়া যুবতীর্থ ক্লাব। তারই কাছে গাঙ্গুলিপুকুর বাসস্ট্যান্ড। সেখানেই ঢাকুরিয়া যুবতীর্থ শিশু উদ্যানে বসেছিল পরিবেশবান্ধব মেলা। ৯ জানুয়ারি থেকে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন বেলা ৩টে থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলেছে মেলা।

ঢাকুরিয়া যুবতীর্থ শিশু উদ্যানে বসেছিল পরিবেশবান্ধব মেলা।

মেলায় বসেছিল পরিবেশবান্ধব নানান হস্তশিল্পের সম্ভার। চলেছে প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সংক্রান্ত আলোচনা। ছিল পড়ুয়াদের জন্য হাতে-কলমে বিজ্ঞান কার্যক্রম এবং গাছ-পাখি চেনার কর্মসূচি। ছিল বইয়ের স্টল, লিটল ম্যাগাজিনের স্টল। এ ছাড়াও প্রতিদিন নানা রকম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়েছে। এতে ছিল সংগীত পরিবেশন, কবিতা আবৃত্তি, বিতর্কসভা, ক্যুইজ প্রতিযোগিতা এবং আঁকা প্রতিযোগিতা।

ফেলে দেওয়া জিনিস থেকে তৈরি ঘর সাজানোর সামগ্রী বিক্রি হয়েছে এই মেলায়।

মেলায় ধান, পাট, সুতোর মতো নানান পরিবেশবান্ধব জিনিস দিয়ে তৈরি গয়না, রেডিমেড পোশাকের সম্ভার, পরিবেশবান্ধব জিনিস দিয়ে তৈরি ব্যাগ বিক্রি হয়েছে।  বাঙালির যে কোনো অনুষ্ঠানই পেটপুজো বা খাওয়াদাওয়া ছাড়া অসম্পূর্ণ। ‘সবুজপুকুর মেলা’তেও ছিল পিঠেপুলি, ঘুগনি, দই ফুচকা, ভেজিটেবল চপের মতো নানান রকম সুস্বাদু খাবারের আয়োজন। এ ছাড়াও মধু, বিভিন্ন প্রজাতির ঢেঁকিছাঁটা চাল, ডাল, আচার, শুকনো তুলসীপাতার মতো নানান রকম বিষমুক্ত খাবার মিলছিল।

পরিবেশবান্ধব নানান হস্তশিল্পের সম্ভার।

‘সহকার’ নামে নদিয়ার কল্যাণীর একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা দুঃস্থ মহিলাদের তৈরি কাপড় দিয়ে তৈরি বিভিন্ন রকমের ব্যাগ বিক্রি করেছে। বেঁচে যাওয়া কাপড় দিয়ে তৈরি এ সব ব্যাগ বিক্রি করা হয় খুব কম দামে। সেই অর্থ তুলে দেওয়া হয় দুঃস্থ মহিলাদের হাতে।

মেলায় ‘সহকার’-এর স্টল।

বেশ কয়েক বছর ধরে কলকাতা-সহ রাজ্যর বড়ো বড়ো শহরে নগরায়ন বাড়ছে। সবুজের পরিসর কমছে। সৌন্দর্যায়নের লক্ষ্যে পার্ক, জলাশয়ের পাড়, জলাধার, খালপাড় কংক্রিটে মুড়ে ফেলা হচ্ছে। কমছে গাছ বসানোর সুযোগ। গাছের গোড়া কংক্রিট দিয়ে বাঁধাইয়ের ফলে মাটিতে জল পৌঁছোতে পারছে না। গাছ দুর্বল, ভঙ্গুর হয়ে যাচ্ছে। মেলায় যোগ দেওয়া ‘স্ট্যান্ড ফর গ্রিন কলকাতা’ নামক সংস্থার পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হয়।

ছবি: রাজীব বসু

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Exit mobile version