আর শুধু হিট নয়—ইতিহাস। মুক্তির এক মাসের মধ্যেই ভারতীয় বক্স অফিসে ₹৮০০ কোটি পার করে নজির গড়ল ‘ধুরন্ধর’। রণবীর সিং অভিনীত এই স্পাই থ্রিলারটি বলিউডের প্রথম ছবি হিসেবে দেশের বাজারে এই অঙ্ক ছুঁয়ে রেকর্ডবুকে ঢুকে পড়েছে।
গত ৫ ডিসেম্বর মুক্তি পাওয়া পরিচালক আদিত্য ধর-এর ছবিটি শুরুতেই ঝড় তুললেও আশ্চর্যজনক ভাবে সময়ের সঙ্গে তার গতি কমেনি। বরং মুখে-মুখে প্রশংসা ছড়িয়ে পড়তেই সপ্তাহের পর সপ্তাহ প্রেক্ষাগৃহে দর্শক টেনেছে ‘ধুরন্ধর’।
৩০ দিনেই ₹৮০০ কোটির ক্লাবে
প্রযোজনা সংস্থা জিও স্টুডিয়োজ রবিবার জানিয়েছে, মুক্তির ৩০ দিনের মধ্যেই ছবিটি ভারতীয় বক্স অফিসে আয় করেছে ₹৮০৬.৮০ কোটি। সপ্তাহভিত্তিক আয়ের ছবিই প্রমাণ করছে ছবিটির ধারাবাহিক দাপট—
- প্রথম সপ্তাহ: ₹২১৮ কোটি
- দ্বিতীয় সপ্তাহ: ₹২৬১.৫ কোটি
- তৃতীয় সপ্তাহ: ₹১৮৮.৩ কোটি
- চতুর্থ সপ্তাহ: ₹১১৫.৭০ কোটি
সাম্প্রতিক সপ্তাহান্তে শনিবার ₹৯.৭০ কোটি ও রবিবার ₹১২.৬০ কোটি আয় করেছে ছবি। এর ফলে ‘ধুরন্ধর’ হয়ে উঠল প্রথম হিন্দি ছবি, যা ভারতের বক্স অফিসে ₹৮০০ কোটি পার করল। বিশ্বজুড়ে ছবিটির মোট আয় এখন ₹১১৮৬.২৫ কোটি। এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত প্রযোজনা সংস্থা লিখেছে— “জেগে ওঠো। রেকর্ড গড়ো। পুনরাবৃত্তি করো। হিন্দি সিনেমার জন্য একটি নতুন সর্বকালের রেকর্ড!”
অন্য সুপারহিটদের সঙ্গে তুলনা
এর আগে বলিউডের কোনও ছবিই দেশে ₹৮০০ কোটির গণ্ডি ছুঁতে পারেনি। একমাত্র অন্য ভারতীয় ছবি হিসেবে এই মাইলফলক পার করেছে পুস্পা ২: দ্য রুল—যার মোট ভারতীয় নেট আয় ₹১২৩৪.১ কোটি (এর মধ্যে হিন্দি সংস্করণ থেকেই ₹৮১২.১৪ কোটি)। তুলনায় জওয়ান দেশে আয় করেছিল প্রায় ₹৬৪০ কোটি, আর ছাভা-র ঘরোয়া বক্স অফিস থেমেছে আনুমানিক ₹৬০০ কোটিতে।
‘ধুরন্ধর’ কী নিয়ে
‘ধুরন্ধর’ পরিকল্পিত দুই পর্বের সিরিজের প্রথম ছবি। কাহিনিতে এক ভারতীয় গুপ্তচরের করাচির অপরাধ ও রাজনৈতিক জগতের গভীরে অনুপ্রবেশের গল্প বলা হয়েছে। ১৯৯৯-এর আইসি-৮১৪ বিমান অপহরণ, ২০০১-এর সংসদ হামলা, ২০০৮-এর মুম্বই হামলা এবং অপারেশন লিয়ারি—এই বাস্তব ভূ-রাজনৈতিক ঘটনার ছায়া রয়েছে ছবির বুননে।
ছবিতে রণবীর সিংয়ের সঙ্গে অভিনয় করেছেন অক্ষয় খান্না, অর্জুন রামপাল, আর, মাধবন এবং সঞ্জয় দত্ত। সহ-অভিনয়ে রয়েছেন রাকেশ বেদি, সারা অর্জুন ও ড্যানিশ পাণ্ডোর।
সমালোচকদের মতামত মিশ্র হলেও দর্শকদের বিপুল সাড়া ছবিটিকে পৌঁছে দিয়েছে অভূতপূর্ব উচ্চতায়। ‘ধুরন্ধর’-এর এই দৌড় যে বলিউডের বক্স অফিস ইতিহাসে নতুন মানদণ্ড তৈরি করল, তা বলাই বাহুল্য।
