পশ্চিমবঙ্গের কৃষিক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত কীটনাশক এখন শুধু ফসল নয়, ধীরে ধীরে প্রভাব ফেলছে কৃষকদের মনের উপরও। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে, নিয়মিত ও দীর্ঘমেয়াদি কীটনাশক ব্যবহারের ফলে বহু কৃষকের মধ্যে স্মৃতিভ্রংশ, মনোযোগের সমস্যা এবং অবসাদের লক্ষণ দেখা দিচ্ছে। গবেষণার কেন্দ্রে ছিল রাজ্যের এক কৃষিপ্রধান জেলা, যেখানে কয়েক দশক ধরে কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত ৫০ বছরের ঊর্ধ্বে কৃষকদের মানসিক ও স্নায়বিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা বছরের পর বছর নিয়মিত কীটনাশক ছিটিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে স্মৃতি দুর্বল হওয়া, ধীর চিন্তাশক্তি এবং সিদ্ধান্ত নিতে অসুবিধা অনেক বেশি। প্রায় ২০ শতাংশেরও বেশি কৃষকের মধ্যে মানসিক অবনতি বা অবসাদের লক্ষণ ধরা পড়েছে। তুলনায় যাঁদের কীটনাশকের সংস্পর্শ কম, তাঁদের মধ্যে এই সমস্যা অনেক কম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কীটনাশক মূলত পোকামাকড়ের স্নায়ুতন্ত্র নষ্ট করার জন্য তৈরি হলেও, দীর্ঘদিন মানবদেহে ঢুকলে তা মস্তিষ্কের স্নায়ু কোষ, স্মৃতি ও আবেগ নিয়ন্ত্রণকারী রাসায়নিকের উপর প্রভাব ফেলে। ধীরে ধীরে হওয়ায় এই পরিবর্তন অনেক সময় স্বাভাবিক বার্ধক্য ভেবে এড়িয়ে যাওয়া হয়।
গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এটি শুধু শারীরিক নয়, এক বড় জনস্বাস্থ্য সংকট। কৃষকদের জন্য সচেতনতা, সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহার, কম বিষাক্ত চাষপদ্ধতি এবং নিয়মিত মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা এখন সময়ের দাবি। নাহলে নীরবে বেড়ে উঠবে এমন এক সমস্যা, যা কৃষি ও সমাজ—দুটির ভবিষ্যৎকেই বিপন্ন করতে পারে।
