অনেকেই কেনাকাটা করে আসার পর শপিং বিল জমিয়ে রাখেন। কিন্তু এসব একটুকরো থার্মাল পেপারে শুধু কেনাকাটার হিসেবনিকেশ থাকে না। আরও বড়ো সারসত্য লুকিয়ে আছে। এসব শপিং বিল জমিয়ে রেখে নিজের অজান্তেই কোন বিপদকে হাতছানি দিয়ে ডাকছেন জানেন?
বিভিন্ন রকমের গবেষণায় দেখা গেছে, এসব থার্মাল পেপারে রয়েছে বিসফেনল এ আর বিসফেনল বি নামক ক্ষতিকর রাসায়নিক যা হরমোনের নিঃসরণে ব্যাঘাত ঘটায়। ২০১১ সালে প্রকাশিত জার্নাল অফ এনভায়রনমেন্টাল হেলথ পার্সপেক্টিভ নামক জার্নালে গবেষণা রিপোর্টে দেখা গেছে, থার্মাল পেপারে উদ্বেগজনক মাত্রায় বিসফেনল এ আর বিসফেনল বি নামক রাসায়নিক থাকে। তাপের সংস্পর্শে আসলেই রঙ বদলে যায়। প্লাস্টিকের গঠনের মধ্যে বিসফেনল ভেতরে থাকে। কিন্তু থার্মাল পেপারে বিসফেনল এতই খোলামেলা ভাবে থাকে যে ত্বকের মাধ্যমে রক্তে সহজে মিশে যায়। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে রক্তে ত্বকের মাধ্যমে মিশে যায় বিসফেনল। বিভিন্ন রকমের গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র ১০ সেকেন্ডের জন্য থার্মাল পেপার স্পর্শ করলেই ত্বকে ভালো রকম ভাবে মিশে যায় বিসফেনল। বিসফেনল অ্যালকোহলে দ্রবিত হয় তাই অ্যালকোহল মিশ্রিত স্যানিটাইজার বা লোশন ব্যবহার করলে রক্তে ১০০ গুণ মিশে যায় বিসফেনল।
বিসফেনল মেয়েদের শরীরে ইস্ট্রোজেন রিসেপ্টর থাকে তাতে ব্যাঘাত ঘটায়। প্রজনন ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। মাসিক ঋতুস্রাবে বিঘ্ন ঘটায়। ডিম্বাণুর মানে ঘাটতি তৈরি করে। বিভিন্ন রকমের গবেষণায় দেখা গেছে, বিসফেনল বিপজ্জনক ট্রিপল নেগেটিভ ব্রেস্ট ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। স্নায়ুঘটিত সমস্যা দেখা যায়। অনেকেই প্লাস্টিককে বেশি ক্ষতিকর বলে মনে করে কিন্তু তার চেয়েও বেশি পরিমাণে ক্ষতিকর রাসায়নিক বিসফেনল। কারণ থার্মাল পেপারে বিসফেনল পাউডারের মতো থাকে তাই সহজে ত্বকের মাধ্যমে রক্তে মিশে যায়।
কীভাবে ক্ষতি এড়াবেন
ডিজিটাল পদ্ধতিতে বিল নেবেন। হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করে থার্মাল পেপারে হাত দেবেন না। সাবান দিয়ে হাত ধোবেন। ব্যাগেও থার্মাল পেপার জমিয়ে রাখবেন না। ঘষবেন না থার্মাল পেপার। এতে বেশি পরিমাণে মিশে যায় বিসফেনল। নিতান্তই শপিং বিলে হাত দিলে ভালো করে হাত ধুয়ে নিন সাবান দিয়ে। না হাত ধুয়ে খাবেন না বা মুখে লাগাবেন না হাত।
আরও পড়ুন: রোজ ২ কোয়া রসুন—সর্দি নয়, ক্যানসারও দূরে রাখে! জানুন রসুনের আশ্চর্য গুণ
