ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পরই প্রতিক্রিয়া দিলেন দেশান্তরী হাসিনা। লিখিত বিবৃতিতে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই রায় তাঁর কাছে পক্ষপাতদুষ্ট এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একই সঙ্গে রায়ের প্রতিবাদে মঙ্গলবার দেশজোড়া বন্ধের ডাক দিয়েছে আওয়ামী লীগ।
হাসিনা তাঁর বিবৃতিতে দাবি করেছেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে কোনও প্রকৃত প্রমাণ আদালতে পেশ করা হয়নি। বরং তাঁর আমলে বাংলাদেশে মানবাধিকার রক্ষা ও উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে, সে নিয়েই তিনি গর্বিত। তাঁর অভিযোগ, অনির্বাচিত সরকারের নিয়ন্ত্রিত ‘অবৈধ’ ট্রাইব্যুনাল রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘‘এই রায় অন্তর্বর্তী সরকারের চরমপন্থী ব্যক্তিদের খুনি মনোভাবের প্রতিফলন। আমাকে অপসারণ করে আওয়ামী লীগকে দুর্বল করাই এদের লক্ষ্য।’’
তিনি আরও বলেন, গত বছরের জুলাই–আগস্টে যত মৃত্যু হয়েছে, তার জন্য তিনি শোকাহত হলেও কোনও নির্দেশ তিনি দেননি। আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি, এমনকি নিজের পছন্দমতো আইনজীবী বাছার অনুমতিও মেলেনি বলেও দাবি হাসিনার। তাঁর অভিযোগ, যেসব অভিজ্ঞ আইনজীবী ও বিচারপতি অতীতে সরকারের পক্ষে মত প্রকাশ করেছিলেন, তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বা চুপ করিয়ে রাখা হয়েছে। বেছে বেছে কেবল আওয়ামী লীগ নেতা–কর্মীদেরই অভিযুক্ত করা হয়েছে ট্রাইব্যুনালে।
মুজিবকন্যার মন্তব্য, তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করার রায় আগে থেকেই লিখে রাখা ছিল। তাঁর দাবি, মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী প্রশাসন নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে বিচারব্যবস্থাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। ‘‘বিশ্বের কোনও দক্ষ আইনজীবী এই রায় সমর্থন করবেন না,’’ বলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ইউনূসের আমলে বাংলাদেশ আরও বিশৃঙ্খল, সহিংস ও পশ্চাৎমুখী হয়ে উঠেছে; নারী, সংখ্যালঘু ও ভিন্নমতের মানুষদের উপর হামলা বেড়েছে; অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে; অথচ ক্ষমতায় থাকতে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
হাসিনা বলেন, তিনি বৈধ আন্তর্জাতিক আদালতে মুখোমুখি হতে ভয় পান না। তবে অন্তর্বর্তী সরকার সেই পথে যাবে না, কারণ তারা জানে—আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে গেলে তিনি অব্যাহতি পেতে পারেন। গত অগস্টে হাসিনার সরকারের পতনের পর দেশ ছাড়েন তিনি এবং পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল তাঁর বিরুদ্ধে প্রথম মামলার বিচার শুরু করে। বাংলাদেশে বিভিন্ন আদালত ও থানায় তাঁর বিরুদ্ধে ৫৮৬টি মামলা হয়েছে। ৩৯৭ দিন শুনানির পর সোমবার আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।
রায় প্রসঙ্গে আওয়ামি লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবীর নানক জানান, ‘‘এই আদালত অবৈধ। জনগণ এই রায় মানছে না। আগামীকাল সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা শাটডাউন হবে। যতক্ষণ না ইউনূস সরকার সরে যাচ্ছে, ততক্ষণ সংগ্রাম চলবে। হাসিনা একদিন বীরের বেশে ফিরবেন—এটাই বাংলার মানুষের আশ্বাস।’’
