বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছে। সোমবার দীর্ঘ শুনানির পর বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদার, বিচারপতি মহম্মদ শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মহম্মদ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর বেঞ্চ এই ঐতিহাসিক রায় দেয়। জুলাই অভ্যুত্থানের সময় দেশত্যাগের পর থেকেই হাসিনার বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে মামলা চলছিল। বিপ্লবী ছাত্রদের উপর গুলি চালানোর নির্দেশ, রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে দমনপীড়ন চালানো এবং ‘আয়নাঘর’ সংক্রান্ত অভিযোগ সহ মানবতাবিরোধী অপরাধের একাধিক ধারায় তাঁকে অভিযুক্ত করা হয়।
ট্রাইব্যুনাল জানায়, হাসিনার নির্দেশের প্রমাণ হিসেবে থাকা ফোনকল রেকর্ড প্রযুক্তিগতভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে এবং তা কৃত্রিম বা এআই-নির্মিত নয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং পুলিশ প্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন যৌথভাবে ছাত্র আন্দোলন দমনের পরিকল্পনা করেছিলেন এবং পুলিশের উপর চাপ সৃষ্টি করে আন্দোলনকারীদের উপর প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়। আদালতে ৫৪ জন সাক্ষী তাঁদের বিরুদ্ধে জবানবন্দি দিয়েছেন। বিচারপতি আরও জানান, হাসিনা ও আসাদুজ্জামান বহুবার পরোয়ানা জারি সত্ত্বেও আত্মসমর্পণ না করে পলাতক ছিলেন।
এই মামলায় প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, রাজসাক্ষী হওয়ায় প্রাক্তন পুলিশকর্তা আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই আদালতকক্ষের একাংশ হাততালিতে ফেটে পড়লেও বিচারপতিরা শান্ত থাকার নির্দেশ দেন।
রায়কে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল’ বলে দাবি করে আওয়ামি লিগ জানিয়েছে, এটি জামাত প্রভাবিত ‘ক্যাঙারু কোর্ট’-এর সিদ্ধান্ত, যেখানে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনও সুযোগই রাখা হয়নি। তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জোর দিয়ে জানিয়েছে, সমস্ত প্রমাণ ও সাক্ষ্য বিচার করেই রায় দেওয়া হয়েছে এবং এটি সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া।
শেখ হাসিনা এখনও পলাতক। আদালতের রায় কার্যকর করতে তাঁদের গ্রেফতারি পরোয়ানা বহাল থাকছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই রায় নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে এবং পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে পরবর্তী পদক্ষেপগুলির উপর।
