চার মাসের নীরবতা ভেঙে প্রথমবার জনসমক্ষে উপস্থিত হলেন প্রাক্তন উপ-রাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) ভোপালের রবীন্দ্র ভবনে আরএসএস নেতা মনমোহন বৈদ্যের নতুন বই ‘হম অউর ইয়ে বিশ্ব’ প্রকাশ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি নিজের আকস্মিক পদত্যাগ থেকে হিন্দুত্ব—একাধিক বিষয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন। বৈদ্যের এই বইটি তাঁর আগের ইংরেজি বই We and the World Around–এর হিন্দি সংস্করণ।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই ধনখড় বলেন, “চার মাস পরে কথা বলছি… এই বই, এই শহরে—দ্বিধা থাকা উচিত নয়।” তাঁর এই বক্তব্যেই শ্রোতারা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন।
তিনি বইটিকে “চোখ খুলে দেওয়া” বলে উল্লেখ করে জানান—আরএসএসের শতবর্ষ উদযাপনের সময়ে এর প্রকাশ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। সংগঠনটিকে তিনি “ভারতের সবচেয়ে স্থিতিশীল শক্তি” বলে মন্তব্য করেন।
নিজের ইস্তফা ঘিরে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য
নিজের হঠাৎ পদত্যাগ ও পরবর্তী নীরবতা নিয়ে ধনখড় কয়েকটি পরোক্ষ মন্তব্য করেন। “কখনও বর্ণনার (narratives) ফাঁদে পড়া উচিত নয়। একবার পড়লে বেরোনো কঠিন। আমি আমার উদাহরণ দিচ্ছি না,”—এমন মন্তব্যে দর্শকরা হাসিতে ফেটে পড়েন।
এক তরুণ তাঁকে জানাতে এলে যে তাঁর বিমান ধরার সময় হয়ে এসেছে, ধনখড় শ্রোতাদের উদ্দেশে বলেন, “আমি দায়িত্ব ফেলে বিমান ধরতে পারি না। আর বন্ধুরা, সাম্প্রতিক অতীতই তার প্রমাণ।”
সিএএ–অসন্তোষ প্রসঙ্গেও মন্তব্য
বক্তৃতার এক পর্যায়ে সিএএ বিরোধী আন্দোলনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আমরা কঠিন সময়ে বাস করছি। কেউ আমার চেয়ে বেশি জানে না। ঠিক বলছি তো?” তবে তিনি বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি।
ধনখড়ের পদত্যাগ এখনও রহস্যঘেরা
২১ জুলাই রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন ধনখড়, যদিও সেদিনই তিনি রাজ্যসভার কার্যভার সভাপতিত্ব করেছিলেন এবং কোনও ইঙ্গিত দেননি। ২২ জুলাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক সংক্ষিপ্ত পোস্টে তাঁর পদত্যাগ স্বীকার করেন।
এরপর ধনখড় জনসমক্ষে দেখা দেন ১২ সেপ্টেম্বর, তাঁর উত্তরসূরি সি.পি. রাধাকৃষ্ণনের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে।
হিন্দুত্বের নানা বক্তব্য রেখে বৈদ্যের বইয়ের প্রশংসা
ধনখড় ভাষণে একাধিক হিন্দুত্ব-ঘেঁষা মন্তব্য করেন। তিনি বলেন—বৈদ্যের বই আরএসএসকে ‘অতি-ডানপন্থী’ বা ‘অসংযুক্ত’ বলে যে ধারণা তৈরি করা হয়েছে, তা ভেঙে দেয়।
তিনি বলেন, “এই বইটি দেখিয়ে দেয়—আরএসএসকে সংখ্যালঘুবিরোধী বলা বা গান্ধী হত্যা পর্যন্ত টেনে নেওয়া—এসব ধারণা পুরোপুরি ভিত্তিহীন।”
সভ্যতার ইতিহাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমাদের সভ্যতার উপর দুটি বড় আক্রমণ এসেছে—ইসলামিক ও ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকতা। আমরা টিকে গেছি, অন্য সভ্যতারা টিকতে পারেনি।” তিনি আরও দাবি করেন যে “সনাতন, আধ্যাত্মিকভাবে স্থিতিবদ্ধ এই সভ্যতাই নিজেকে বারবার নতুন করে গড়ে তুলেছে।”
ধনখড়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য ও চার মাস পর হঠাৎ বই প্রকাশে উপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে তিনি কোনও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বা নিজের পদত্যাগের আসল কারণ নিয়ে মুখ খোলেননি।
আরও পড়ুন: চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের বড় সুখবর: পাঁচ বছর নয়, এক বছর কাজেই মিলবে গ্র্যাচুইটি
