Home খবর দেশ এসআইআর নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে তৃণমূল সাংসদ ডেরেক, সময়সীমা বাড়ানোর আর্জি

এসআইআর নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে তৃণমূল সাংসদ ডেরেক, সময়সীমা বাড়ানোর আর্জি

বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। সময়সীমা বাড়ানোর আর্জি, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একাধিক পদ্ধতিগত অনিয়মের অভিযোগ।

গঙ্গাসাগর থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়–এর কড়া বার্তার পরই ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হল তৃণমূল কংগ্রেস। মঙ্গলবার শীর্ষ আদালতে মামলা দায়ের করলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। তাঁর আবেদন, বাংলায় এসআইআরের সময়সীমা বাড়ানো হোক। পাশাপাশি এই প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনের একাধিক গুরুতর ভুল রয়েছে বলেও সুপ্রিম কোর্টে দাবি করা হয়েছে।

ডেরেকের দায়ের করা মামলায় এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের সময়সীমা বাড়ানোর আর্জির পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পদ্ধতিগত অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়েছে। মামলায় দাবি করা হয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় একাধিক নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে, যা নাগরিকদের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকারের উপর সরাসরি আঘাত।

তৃণমূল দীর্ঘদিন ধরেই নির্বাচন কমিশনকে ‘হোয়াটসঅ্যাপ কমিশন’ বলে কটাক্ষ করে আসছে। সেই সূত্র ধরেই ডেরেক ও’ব্রায়েনের অভিযোগ, বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও) ও অন্যান্য আধিকারিকদের হোয়াটসঅ্যাপের মতো ‘অনানুষ্ঠানিক চ্যানেল’-এর মাধ্যমে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে স্বচ্ছতা ও নিয়ম মানা হয়নি এবং ভোটারদের অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

শীর্ষ আদালতে আরও দাবি করা হয়েছে, প্রায় ৫৮ লক্ষ ভোটারকে অবৈধভাবে খসড়া তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বহু ক্ষেত্রেই কোনও শুনানি ছাড়াই নাম বাদ পড়েছে। উল্লেখ্য, কমিশন আগেই জানিয়েছিল—বুথওয়ারি মৃত, স্থানান্তরিত ও ভুয়ো ভোটার চিহ্নিত করার পরে প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছে। তবে তৃণমূলের দাবি, সেই তালিকাতেও গুরুতর ত্রুটি রয়েছে। এর প্রমাণ হিসেবে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কমিশনের খাতায় ‘মৃত’ হিসেবে চিহ্নিত তিন জন ভোটারকে জনসভার মঞ্চে হাজির করেছিলেন।

ডেরেকের মামলায় আরও বলা হয়েছে, অতিরিক্ত সিইও-র জারি করা এক স্মারকলিপিতে স্বীকার করা হয়েছে যে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকার পিডিএফ রেকর্ড সিএসভি ফরম্যাটে রূপান্তর করে ডিজিটালাইজ করার সময় ভোটার ডেটা ম্যাপিংয়ে ব্যাপক ও পদ্ধতিগত ত্রুটি দেখা দিয়েছে। অভিযোগ, এই ডিজিটাইজেশন প্রক্রিয়া বুথ স্তরের যাচাইকরণ বা সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের তত্ত্বাবধান ছাড়াই করা হয়েছিল।

সূত্রের খবর, মঙ্গলবার এই মামলার মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। এসআইআর নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে যে বিতর্ক তীব্র হয়েছে, তার জেরে এ বার বিষয়টি পৌঁছে গেল দেশের শীর্ষ আদালতে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Exit mobile version