খবর অনলাইনডেস্ক: পে লোডারের ধাক্কায় নবম শ্রেণির পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে বুধবার সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তপ্ত বাঁশদ্রোণী। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ছাত্রের মৃত্যুর পর থেকে এলাকায় দেখা মেলেনি স্থানীয় কাউন্সিলর অনিতা কর মজুমদারের। ক্ষোভ জমেছে রাস্তার বেহাল দশা নিয়ে। রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখান এলাকাবাসীরা।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাটুলি থানায় চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিক্ষোভ দেখানোর কারণে বিজেপি নেত্রী রুবি মণ্ডল-সহ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে কাউন্সিলরের দেখা না মেলায় বাসিন্দাদের ক্ষোভ চরমে পৌঁছেছে।
বিক্ষোভের মধ্যেই বুধবার রাতে বাঁশদ্রোণী থানায় পৌঁছে যান বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা। নেতৃত্বে রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। থানার ভিতরে প্রবেশ করেন রূপা। বাইরে বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করেন বিজেপি কর্মীরা। তাঁদের বক্তব্য, কোনো অভিযোগ ছাড়াই বিজেপি নেত্রী রুবি মণ্ডলকে আটক করে বাঁশদ্রোণী থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। কিন্তু ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্তদের কাউকে এখনও গ্রেফতার করা হয়নি। এই ঘটনার প্রতিবাদে বাঁশদ্রোণী থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে বিজেপি। রূপা বলেন, “আমি রাতটা থানাতেই থাকব। সকাল থেকে ওঁরা ধরতে পারেননি অভিযুক্তদের। তবে আমি আশা করছি ওঁরা ধরে ফেলবেন। যতদিন না অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হচ্ছে ততক্ষণ আমি বসে থাকব এখানে।”
উল্লেখ্য, বুধবার সকালে পড়ুয়ার মৃত্যুর পর থেকেই রাস্তার বেহাল দশা নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল। এমনকি পাটুলি থানার ওসি ঘটনাস্থলে গেলে তাঁকেও বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছিল। ওসিকে রাস্তার কাদাজলে দাঁড় করিয়ে চলে বিক্ষোভ প্রদর্শন। পরে কলকাতা পুলিশের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনারকে ঘিরেও বিক্ষোভ চলেছিল।
কলকাতা পুরসভার ১১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ওই ছাত্র। ওই এলাকার রাস্তায় খোঁড়াখুঁড়ির কাজ চলছিল। অভিযোগ, কোচিং সেন্টারে যাওয়ার সময় ছাত্রকে ধাক্কা মারে জেসিবি। গাছের সঙ্গে তাকে পিষে দেয়। মাথায় গুরুতর আঘাত নিয়ে ছাত্রকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। কিন্তু তাকে বাঁচানো যায়নি। তবে এত কিছু ঘটনার পরেও বাসিন্দাদের মুখোমুখি হননি স্থানীয় কাউন্সিলর অনিতা।
