কেরল সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিল—রাজ্যে কেন্দ্রের নতুন শ্রম আইন (Labour Codes) কার্যকর করা হবে না। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী ভি শিবঙ্কুট্টি জানান, অধিকাংশ রাজ্য শ্রম কোড বাস্তবায়নের পথে এগোলেও কেরল সে পথে হাঁটছে না।
শিবঙ্কুট্টির কথায়, “গত মাসে কেন্দ্রীয় শ্রম মন্ত্রক সব রাজ্যের সঙ্গে একটি বৈঠক করেছিল। সেখানে আমরা পরিষ্কার জানিয়েছি—কেরল নতুন শ্রম কোড বাস্তবায়ন করবে না।”
কেন্দ্রের চাপের অভিযোগ নাকচ করলেন মন্ত্রী
সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি জানান, কেরল কোনওভাবেই কেন্দ্রের চাপের কাছে নতি স্বীকার করেনি। শিবঙ্কুট্টি বলেন, “চাপের কাছে নতি স্বীকার করলে আমরা শ্রম কোড গ্রহণের চিঠিতে সই করতাম। আমরা তা করিনি।”
২০২১ সালের ১৪ ডিসেম্বর প্রকাশিত খসড়া বিধির প্রসঙ্গ উঠতেই তিনি জানান—তা কোনওভাবেই গোপনে প্রস্তুত করা হয়নি। মন্ত্রী বলেন, “বিধির খসড়া প্রকাশ্যে করা হয়েছিল এবং জনমত নেওয়ার সুপারিশও আমি নিজেই করেছি। গত তিন বছরে এ নিয়ে কোনও অগ্রগতি হয়নি। তাই উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।”
কেন্দ্রের চারটি শ্রম আইন — নতুন সংস্কারের রূপরেখা
কেন্দ্রীয় সরকার সম্প্রতি চারটি শ্রম কোড (Labour Codes) কার্যকর করার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে, যেগুলি ২০২০ সাল থেকেই ঝুলে ছিল। আইনগুলি কার্যকর হলে—
- গিগ কর্মীদের জন্য সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা
- সব কর্মীর জন্য নিয়োগপত্র বাধ্যতামূলক
- সব ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন মজুরি নিশ্চিতকরণ
- সময়মতো মজুরি প্রদান ইত্যাদি বড় পরিবর্তন আসবে।
কেন্দ্রের দাবি, শ্রম কোডগুলি দেশের শ্রমবাজারে যুগান্তকারী সংস্কার আনবে। তবে কেরল বলছে—কর্মীস্বার্থকে উপেক্ষা করা যাবে না।
তবে দেশের বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন এবং বিশেষজ্ঞদের মতে, চার শ্রম কোড আপাত দৃষ্টিতে শ্রমিকপন্থী মনে হলেও আসলে তা শ্রমিকদের অধিকারকে সঙ্কুচিত করবে। তাদের মতে এই আইনে সংস্থাগুলির জন্য ছাঁটাইয়ের অধিকারের পথ আরও প্রশস্থ করা হচ্ছে।
এই আইনের প্রতিবাদে দেশ জুড়ে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে ট্রেড ইউনিয়নগুলি।
কেরল সরকারের অবস্থান
বুধবার শিবঙ্কুট্টি আরও একবার স্পষ্ট করেন, “কেরল কোনও অবস্থাতেই কর্মীবিরোধী নীতি নেবে না। শ্রম কোড প্রয়োগ করতে গেলে যেখানে কর্মীদের ক্ষতি হবে, সেখানে আমরা আপস করব না।”
ট্রেড ইউনিয়নদের সঙ্গে বৈঠকের ডাক
শ্রমমন্ত্রী জানান, কেন্দ্রের শ্রম কোড নিয়ে আলোচনার জন্য শীঘ্রই ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে। শ্রম দফতরের কর্মকর্তাদের মতে, ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে তিরুবনন্তপুরমে একটি শ্রম সম্মেলন (Labour Conclave) আয়োজনের কথাও বিবেচনা করা হচ্ছে।
কেরল যে শ্রম কোড বাস্তবায়নে কেন্দ্রের সঙ্গে কোনওভাবেই একমত নয়, শিবঙ্কুট্টির বক্তব্যে তা ফের পরিষ্কার হল। আগামী দিনে ট্রেড ইউনিয়ন ও সরকারের আলোচনা এই ইস্যুকে আরও গুরুত্ব দেবে বলেই মনে করছে শ্রমমহল।


