খবর অনলাইন ডেস্ক: ওয়াশিংটন ডিসিতে দুই ন্যাশনাল গার্ড সদস্যের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে নতুন করে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির নাগরিকত্ব ও ইমিগ্রেশন পরিষেবাকে (ইউএসসিআইএস, USCIS) নির্দেশ দিয়েছেন, ‘উদ্বেগের দেশ’ (countries of concern) হিসাবে চিহ্নিত ১৯টি দেশের সব গ্রিন কার্ডধারীর ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস পুনর্বিবেচনা করতে।
যুক্তরাষ্ট্র এই হামলাকে ‘সন্ত্রাসী তৎপরতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। হামলাকারী আফগান নাগরিক হওয়ায় অভিবাসীদের প্রতি বাড়তি নজরদারি শুরু হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ইউএসসিআইএস–এর নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আবেদনকারীর দেশই এখন থেকে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ নেতিবাচক বিষয়’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। অর্থাৎ গ্রিন কার্ড বা অন্য অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে দেশের নামই বড় ভূমিকা পালন করবে। এ নীতি পূর্ববর্তী প্রশাসনের অধীনে পাওয়া গ্রিন কার্ডগুলোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
ইউএসসিআইএস–এর পরিচালক জোসেফ এডলো বলেন, “প্রতিটি বিদেশিকে যে সর্বোচ্চ মাত্রায় যাচাই ও স্ক্রিনিং করা হয়েছে, এটা নিশ্চিত করাই আমার প্রথম দায়িত্ব হল, কারণ আমেরিকানদের জীবন সর্বাগ্রে।”
১৯ দেশের তালিকা
জুন মাসে জারি করা প্রেসিডেন্টের প্রোক্লেমেশনে যে ১৯টি দেশের নাম রয়েছে, তাদের লক্ষ্য করেই এই কড়া নজরদারি জারি করা হয়েছে। সেই ১৯টি দেশ হল আফগানিস্তান, মায়ানমার, চাদ, কঙ্গো, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, ইরিত্রিয়া, হাইতি, ইরান, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান, ইয়েমেন, বুরুন্ডি, কিউবা, লাওস, সিয়েরা লিওন, টোগো, তুর্কমেনিস্তান এবং ভেনেজুয়েলা।
ভারতীয়রা নিরাপদ
এই পদক্ষেপে ভারতীয় গ্রিন কার্ডধারীদের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি বৃহত্তর অভিবাসন কড়াকড়ির অংশ, যা ভবিষ্যতে আরও নীতি পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে।
হামলার পটভূমি
এই নীতি ঘোষণা করা হয়েছে ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসের কাছে দুই ন্যাশনাল গার্ড সদস্যকে গুলি করার ঘটনার পরদিন। আহতদের একজন পরে মারা যান। সন্দেহভাজন হামলাকারী রহমানুল্লাহ লাকানওয়াল (২৯), যিনি ২০২১ সালে অপারেশন অ্যালিস ওয়েলকাম (Operation Allies Welcome) কর্মসূচির আওতায় আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। তিনি আফগান সেনাবাহিনীতে এক দশকেরও বেশি সময় কর্মরত ছিলেন এবং মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের সঙ্গে কাজ করেছেন।


