খবর অনলাইন ডেস্ক: বিবাহ নামক পবিত্র প্রথাটিকে আজ বাণিজ্যিক লেনদেনে পরিণত করেছে পণপ্রথা। পণপ্রথাকে সমাজের এক ভয়াবহ ব্যাধি আখ্যা দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট শুক্রবার এই মন্তব্য করে। বিচারপতি বি ভি নাগরত্ন এবং বিচারপতি আর মহাদেবনের বেঞ্চ বলে, পণজনিত মৃত্যু শুধু একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধ নয়, গোটা সমাজের বিরুদ্ধে একটি জঘন্য অপরাধ।
পণের দাবিতে স্ত্রীকে বিষ দিয়ে হত্যা করার অভিযোগে অভিযুক্ত এক ব্যক্তির জামিন বাতিল করতে গিয়ে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানায়, বিবাহ মূলত পারস্পরিক আস্থা, সঙ্গ এবং সম্মানের ওপর প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু বর্তমানে পণের নামে সামাজিক অবস্থান প্রদর্শন ও লোভ মেটানোর প্রবণতা এই পবিত্র বন্ধনকে কলঙ্কিত করছে।
মাত্র চার মাসের মাথায় স্ত্রীকে বিষপ্রয়োগে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির জামিন মঞ্জুর করার যে সিদ্ধান্ত হাইকোর্ট নিয়েছিল, সেই সিদ্ধান্তকে সুপ্রিম কোর্ট ‘ভ্রান্ত ও অগ্রহণীয়’ বলে অভিহিত করে। আদালত জানায়, হাইকোর্ট অপরাধের গুরুত্ব, মৃতার একাধিক মৃত্যুপূর্ব-বয়ান এবং পণজনিত মৃত্যুর ক্ষেত্রে আইনের সুস্পষ্ট অনুমান—সবই উপেক্ষা করেছে।
বেঞ্চ আরও বলে, পণপ্রথা শুধু বিবাহের পবিত্রতাকেই ক্ষুণ্ণ করে না, এটি নারীদের ওপর অত্যাচার ও দমনপীড়নকে স্বাভাবিক চেহারা দেয়। পণের দাবিতে যখন অত্যাচার বাড়তে বাড়তে তরুণী স্ত্রীর অকালমৃত্যু ঘটে, তখন তা আর পরিবারের ব্যক্তিগত ঘটনা থাকে না; বরং তা সমাজের সমষ্টিগত বিবেককে আঘাত করে।
আদালত মন্তব্য করে, পণজনিত মৃত্যু এমন এক ঘৃণ্য অপরাধ, যা মানবিক মর্যাদাকে পদদলিত করে এবং সংবিধানের ১৪ ও ২১ অনুচ্ছেদের সমতা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের অধিকারকে লঙ্ঘন করে। এমন পরিস্থিতিতে বিচারব্যবস্থার কোনো শিথিলতা কেবল অপরাধীদের মনোবল বাড়াবে এবং জনসাধারণের বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা দুর্বল করবে।
সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, পণজনিত মৃত্যুর ক্রমবর্ধমান সংখ্যার প্রেক্ষাপটে কঠোর বিচারবিভাগীয় নজরদারি প্রয়োজন। এমন প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তকে মুক্ত অবস্থায় থাকতে দেওয়া আইপিসির ৩০৪বি এবং ৪৯৮এ ধারার প্রতিরোধমূলক লক্ষ্যকে অকার্যকর করে দেবে।
বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে সমাজে পণপ্রথাজনিত বর্বরতার বিরুদ্ধে আইন ও আদালত কঠোর অবস্থান নেবে, এমন বার্তা পাঠানো এখন সময়ের দাবি।


