Homeপ্রবন্ধ'তুমকো মেরা আখরি সালাম, গুডবাই', 'বীরু' চলে গেলেন

‘তুমকো মেরা আখরি সালাম, গুডবাই’, ‘বীরু’ চলে গেলেন

বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্র ৮৯ বছর বয়সে প্রয়াত। প্রায় ৭০ বছরের অভিনয়জীবনে ৩০০-রও বেশি ছবিতে অভিনয় করে ভারতীয় সিনেমায় অমলিন ছাপ রেখে গিয়েছেন তিনি। শোলে-সহ একাধিক কালজয়ী ছবির নায়ক ধর্মেন্দ্র পদ্মভূষণ-সম্মানিত ছিলেন।

প্রকাশিত

পঙ্কজ চট্টোপাধ্যায়

ধর্মেন্দ্র — পূর্ণ নাম ধর্মেন্দ্র কেওয়ালাল কৃষণ দেওল, মাত্র ১৯ বছর বয়সে ভারতীয় চলচ্চিত্রে অবতীর্ণ হন। তিনি পাঞ্জাবের নাসরালির সাহনেওয়াল গ্রামের এক অতি শিক্ষিত জাট পরিবারে ১৯৩৫ সালের ৮ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। মায়ের নাম সতবন্ত কৌর, আর বাবা কেওয়ালাল কৃষণ দেওল ছিলেন একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক। আদি বাড়ি ছিল অবিভক্ত পাঞ্জাবের লুধিয়ানার পাকহোয়াল তহসিলের রাইকট এলাকার দাঙ্গোঁ গ্রামে।

তিনি পড়াশোনা শুরু করেন লুধিয়ানার লালটন কালাঁ স্কুলে। পরে ফাগোয়ারা থেকে ম্যাট্রিক পাশ করে কলেজে ভর্তি হন। কলেজে পড়াকালীন একটি অভিনয় ট্যালেন্ট সার্চ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে প্রথম হন এবং অভিনয়জগতে প্রবেশ করেন।

১৯৫৪ সালে পার্শ্বচরিত্রে প্রথম অভিনয় শুরু করেন তিনি। পরে ১৯৬০ সালে তাঁর নায়ক হিসাবে আত্মপ্রকাশ ঘটে দিল ভি তেরা, হাম ভি তেরা ছবিতে।

সারাজীবনে তিনি ৩০০–এরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তাঁর বিপরীতে নায়িকা হয়েছেন প্রায় সব যুগের মহানায়িকারা— নাদিরা, নূতন, বৈজয়ন্তীমালা, মধুবালা, লীলা চন্দ্রাভারকর, তনুজা, আশা পারেখ, নন্দা, সাধনা, সায়রা বানু, ববিতা, রাখী, শর্মিলা ঠাকুর, মমতাজ, রেখা, জিনাত আমান, ওয়াহিদা রহমন, শাবানা আজমি, জয়া ভাদুড়ী (বচ্চন), শ্রীদেবী, সুচিত্রা সেন, সুপ্রিয়া দেবী, হেমা মালিনী (পরবর্তীতে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী), প্রমুখ।

ধর্মেন্দ্রর একটি বাংলা সিনেমাও রয়েছে। সাহিত্যিক জরাসন্ধের কাহিনী অবলম্বনে নির্মিত পাড়ি (১৯৬৬)–তে তিনি অভিনয় করেন। ছবিটি পরিচালনা করেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। সঙ্গীত পরিচালনায় ছিলেন সলিল চৌধুরী। প্রণতি ঘোষ এই ছবিটির প্রযোজক ও নায়িকা ছিলেন। পরে ছবিটি ১৯৭০ সালে হিন্দিতে আনোখা মিলন নামে পুনর্নির্মিত হয়।

ধর্মেন্দ্র বহু সম্মানে সম্মানিত হয়েছেন। ১৯৯৭ সালে তিনি পান Filmfare Lifetime Achievement Award এবং ২০১২ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্ম ভূষণ সম্মান প্রদান করে।

তাঁর ৩০০–এরও বেশি ছবির মধ্যে সবথেকে জনপ্রিয় — ৫০ বছর অতিক্রান্ত হয়েও অমলিন শোলে (১৯৭৫)।

এ ছাড়া জীবন মৃত্যু, আয়া সাওয়ান ঝুম কে, মেরা গাঁও মেরা দেশ, গীতা অউর সীতা, রাজা জানি, ধর্মবীর, চাচা ভাতিজা, গুলামী, হুকুমত, আগ হি আগ, এলান-ই-জং, বন্দিনী, হকিকত, রেশম কি ডোরি, চুপকে চুপকে, অনুপমা, দ্য বার্নিং ট্রেন—সহ একাধিক কালজয়ী ছবিতে তিনি অভিনয় করেন।

ব্যক্তিগত জীবনে ধর্মেন্দ্র দু’বার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন—প্রথম স্ত্রী প্রকাশ কৌর, দ্বিতীয় স্ত্রী হেমা মালিনী

আক্ষরিক অর্থেই বলা যায়— ২৪ নভেম্বর ২০২৫ ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক বিশাল নক্ষত্রের পতনের দিন। ‘শোলে’-র তাঁর সেই সংলাপ দিয়েই যেন বিদায় জানাতে ইচ্ছে করে—
“তুমকো মেরা আখরী সালাম… গুডবাই।”

আপনার প্রশ্ন, আমাদের উত্তর

সাম্প্রতিকতম

অভিযানের বিরোধিতায় পাল্টা হাই কোর্টে আইপ্যাক কর্ণধারের পরিবার, নথি ছিনতাইয়ের অভিযোগে মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে ইডি—শুক্রবার দু’টি মামলার শুনানির সম্ভাবনা

ইডি-র অভিযানের বিরোধিতায় পাল্টা কলকাতা হাই কোর্টে আইপ্যাক কর্ণধারের পরিবার। নথি ছিনতাইয়ের অভিযোগে মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে ইডিও আদালতে। শুক্রবার দু’টি মামলার শুনানি হতে পারে।

আইপ্যাকের সল্টলেক দফতর ও কর্ণধারের বাড়িতে ইডি-র হানা, অভিযানস্থলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ও পুলিশ কমিশনার

সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের দফতর ও কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে ইডি-র তল্লাশি। কয়লাপাচার কাণ্ডের পুরনো মামলার সূত্রে এই অভিযান ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে জোর চাঞ্চল্য।

শুরু হচ্ছে সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবার পর্ষদ আয়োজিত ২০তম কলকাতা আন্তর্জাতিক ইতিহাস উৎসব

২০তম কলকাতা আন্তর্জাতিক ইতিহাস ও ঐতিহ্য প্রদর্শনী ২০২৬-এ বিশেষ আকর্ষণ ‘ফেমাস পিপল রেট্রোস্পেকটিভ’। দুর্লভ নথি ও স্মারকের মাধ্যমে তুলে ধরা হবে বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের জীবন ও অবদান।

আইএসআই ক্যাম্পাসে গাছ কাটা নিয়ে বিতর্ক, কীসের ভিত্তিতে অনুমতি, তদন্তে নামল বন উন্নয়ন পর্ষদ

কলকাতার আইএসআই ক্যাম্পাসে একাধিক গাছ কাটার সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্ক। কেন গাছ কাটা হল ও কী ভাবে অনুমতি মিলল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করল পশ্চিমবঙ্গ বন উন্নয়ন পর্ষদ।

আরও পড়ুন

শতবর্ষে সিপিআই: নতুন শতকে লড়াইটা আদর্শের না অস্তিত্বের?

রুশ বিপ্লবের অভিঘাত যখন সারা বিশ্বের বৌদ্ধিক মহলে আলোড়ন তুলছে, তখন ভারতের তরুণ বিপ্লবীরাও খুঁজছিলেন নতুন দিশা।

স্বাধীনতা আন্দোলনের অলিখিত ইতিহাস: ভুলে গিয়েছি অগ্নিস্নাত বিপ্লবী হেমচন্দ্র ঘোষকে  

পঙ্কজ চট্টোপাধ্যায় মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরুর সঙ্গে হ্যান্ডশেক করেননি। বিধানচন্দ্র রায়কে আশীর্বাদও করেননি। বল্লভভাই পটেলের...

স্বাধীনতা আন্দোলনের অলিখিত ইতিহাস: ‘এবার তবে আসি মা!’

পঙ্কজ চট্টোপাধ্যায় একটা সুবৃহৎ দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস এত পক্ষপাতিত্ব করে লেখা হয়েছে, যার উদাহরণ...