২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পোদ্যোগকে আর্থিক ও পরিকাঠামোগত সহায়তা জোরদার করতে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগ (এমএসএমই) এবং বস্ত্র দফতরের উদ্যোগে শনিবার থেকে শুরু হল বিশেষ কর্মসূচি— “শিল্পের সমাধানে – এমএসএমই ক্যাম্পস ২০২৫”।
প্রথম দফা শুরু কলকাতা পুরসভার আটটি বরোতে
শনিবার থেকেই কলকাতা পুরসভার বিভিন্ন বরোতে এই শিবির শুরু হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে বরো নম্বর ৯, ১০, ১১ ও ১২–তে ২২-২৪ নভেম্বর পর্যন্ত ক্যাম্প চলবে। পরবর্তী পর্যায়ে ২৫-২৮ নভেম্বর বরো ৪, ১৩, ১৫ ও ১৬–তে অনুষ্ঠিত হবে এই কর্মসূচি।
উদ্যোক্তাদের সুবিধার্থে প্রতিটি শিবির সংশ্লিষ্ট বরো অফিসেই বসছে, যাতে স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী সরাসরি সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন।
এক জায়গায় মিলবে সব পরিষেবা
বস্ত্র দফতরের এক আধিকারিক বলেন,“এই শিবির প্রশাসনিক প্রকল্প নয়, বরং শিল্পোদ্যোগীদের বাস্তব সমস্যার সমাধানের সরাসরি প্ল্যাটফর্ম। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নয়—উদ্যোক্তাদের সাহায্য করাই মূল লক্ষ্য।”
এখানে উদ্যোক্তারা জানতে পারবেন—
- সরকারি ভর্তুকি ও ঋণ পাওয়ার নিয়ম,
- ব্যবসা নিবন্ধনের প্রক্রিয়া,
- ট্রেড লাইসেন্স, জিএসটি–সহ বিভিন্ন সরকারি পরিষেবার শর্ত,
- ব্যবসায়িক প্রশিক্ষণ ও শিল্প উন্নয়ন পরামর্শ।
সরকারি সূত্রের দাবি—এই ক্যাম্প ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সরকারি সহায়তা গ্রহণকে আরও সহজ করবে এবং ক্ষুদ্রশিল্প খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াবে।
বিধানসভা নির্বাচনকে মাথায় রেখেই উদ্যোগ?
রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখেই এই কর্মসূচি রূপায়ণ করছে সরকার। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগীদের বড় অংশ ভোটার হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ—তাই তাঁদের যুক্ত রাখতে চাইছে শাসক শিবির।
যদিও সরকারি দাবি, “ভোট নয়, শিল্পোন্নয়নই লক্ষ্য। এটি ধারাবাহিক প্রকল্প।”
কলকাতার পর শহরতলি–গ্রামাঞ্চলেও ক্যাম্প
কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপ শহরতলি এবং গ্রামীণ এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়া হবে, যাতে রাজ্যের সর্বস্তরের ক্ষুদ্র শিল্পোদ্যোগীরা সরকারি সুবিধা পান।
সরকার মনে করছে—‘শিল্পের সমাধানে – এমএসএমই ক্যাম্পস ২০২৫’-এর ফলে ক্ষুদ্র শিল্পক্ষেত্রে নতুন গতি আসবে এবং স্থানীয় উদ্যোগ বাড়বে।


