বায়ুদূষণ ক্রমশ প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে। কিন্তু হিমাচল প্রদেশের রাজধানী শিমলার হিমাচল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিদ্যা ও নৌনির ডক্টর ওয়াইএস পারমার ইউনিভার্সিটি অফ হর্টিকালচার অ্যান্ড ফরেস্ট্রির গবেষকদের করা গবেষণায় পরিবেশ দূষণ ঠেকাতে আশার আলো দেখা গেছে। গবেষকদের দাবি শালগাছ (বৈজ্ঞানিক নাম: Shorea robusta) বায়ুদূষণ প্রতিরোধকারী সেরা এয়ার পিউরিফায়ারের কাজ করতে পারে।
২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত হিমাচল প্রদেশের নাহান থেকে পাওন্টা সাহিব পর্যন্ত ৪০ কিলোমিটার এলাকা জাতীয় সড়কের ওপর গবেষণা চালান হিমাচল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিদ্যার গবেষক কল্যাণী সুপ্রিয়া আর ওয়াইএস পারমার ইউনিভার্সিটির গবেষক আর কে আগরওয়াল ও রিয়া চৌহান। কোন গাছ দূষণ রোধ করতে পারে এনিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ফিল্ড স্টাডি করেন গবেষকরা। গবেষকরা জাতীয় সড়কের দু’পাশ থেকে বিভিন্ন গাছের পাতা নমুনা হিসাবে সংগ্রহ করেন। তাঁরা পরীক্ষা চালান কোন গাছ কীভাবে দূষণ রোধ করতে পারে এটা দেখতে।
গবেষণায় দেখা যায়, শালগাছ, ইউক্যালিপ্টাস, অশ্বত্থ গাছ ও রক্তপুষ্প গাছ দূষণ রোধ করতে পারে। সবচেয়ে বেশি বায়ুদূষণ প্রতিরোধ করে বাতাস পিউরিফায়েড বা পরিশুদ্ধ করতে পারে শালগাছ। শালগাছকে যে কোনো জঙ্গলের প্রাণশক্তি বলে মনে করা হয়। শালগাছের আয়ু অনেক বেশি। যে কোনো রকমের প্রাকৃতিক বদল সহ্য করতে পারে। শালগাছের পাতা মোটা ও আঠালো হয় বলে তাতে ধুলো, ময়লা, কার্বন, ফাইন পার্টিকেলস আটকে যায়। শালগাছের পাতায় অন্য গাছের তুলনায় বেশি পরিমাণে ক্লোরোফিল পাওয়া যায় যা বাতাসে থাকা কার্বন ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস, সালফার ডাই-অক্সাইড গ্যাস প্রতিরোধ করতে পারে। শালগাছের ঘন সবুজ পাতার আস্তরণ প্রাকৃতিক ফিল্টার হিসাবে কাজ করে। হিমাচল প্রদেশের মতো পাহাড়ি এলাকায় মাটি ঝুরঝুরে আলগা হয়। শালগাছ মাটির ধারণ ক্ষমতা বাড়ায়।
