দক্ষিণ আফ্রিকা: ৪৮৯ ও ২৬০-৫ (ট্রিস্টান স্টাবস ৯৪, টোনি ডি জোর্জি ৪৯, রবীন্দ্র জাদেজা ৪-৬২)
ভারত: ২০১ ও ২৭-২ (যশস্বী জয়সোয়াল ১৩, কে এল রাহুল ৬, সাইমন হারমার ১-১)
খবর অনলাইন ডেস্ক: ২৫ বছর পর ভারতের মাটিতে প্রথম বারের মতো টেস্ট সিরিজ কি জিততে পারবে দক্ষিণ আফ্রিকা? চতুর্থ দিনে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে ব্যাট করে লিড বাড়িয়ে তারা ভারতের সামনে ইতিহাসের কঠিনতম লক্ষ্যমাত্রা দাঁড় করিয়ে দেয়। শেষ বিকেলে বল হাতে নেমে মাত্র ১৫.৫ ওভারে দুটি উইকেট তুলে নিয়ে আয়োজক দেশকে চাপে ফেলে দিয়েছে প্রোটিয়ারা। শেষ দিনে সিরিজ জিততে তাদের দরকার আরও আট উইকেট।
৬ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস স্টাবসের
দিনের শুরুতে প্রশ্ন ছিল—দক্ষিণ আফ্রিকা কি ডব্লিউটিসি-র নিয়ম অনুসারে পুরো ১২ পয়েন্টের জন্য ঝুঁকি নেবে, নাকি নিরাপদ অবস্থান বেছে নেবে। শেষ পর্যন্ত দেখা গেল তারা কোনো ঝুঁকিই নেয়নি। চতুর্থ দিনের সকালে বল টার্ন করা শুরু করলে ভারতীয় স্পিনারদের সামনে বেশিক্ষণ টিকে থাকেননি রায়ান রিকেলটন, আইডেন মার্করাম ও টেম্বা বাভুমা। জাডেজার টার্নে মার্করাম বোল্ড হন, আর ওয়াশিংটনের স্পর্শকাতর ডেলিভারিতে বাভুমা ক্যাচ দেন শর্ট লেগে।
তবে বিপর্যয় সামাল দেন ট্রিস্টান স্টাবস ও টনি ডি জোর্জি। নিয়মিত সুইপ ও রিভার্স সুইপে ভারতীয় স্পিন আক্রমণকে অকার্যকর করে তুলে তারা ১০১ রানের জুটি গড়েন। স্টাবস ১৯ বলে ৩২ রান করে ধীরে ধীরে সেঞ্চুরির দিকে এগোলেও জাডেজার ধীরগতির একটি বল বুঝতে না পেরে ৯৪ রানে আউট হন। তবু সিরিজের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হিসেবে (১৬৩) শেষ দিনের আগে তিনি শীর্ষে রয়েছেন।

দ্বিতীয় ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকার ৫টি উইকেটের মধ্যে ৪টি-ই নিলেন রবীন্দ্র জাদেজা। ছবি ‘X’ থেকে নেওয়া।
ভারতের বিরুদ্ধে প্রতি বলেই মনে হচ্ছিল উইকেট পড়বে
৫৪২ রানের লিড নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ইনিংস ঘোষণা করে। কিন্তু ব্যাট হাতে ভারতের ওপেনারদের নামতেই পিচ যেন পুরোপুরি অন্য চেহারায় হাজির হয় পিচ। মার্কো জানসেন প্রথম ওভার থেকেই ধারাবাহিক বাউন্সারে যশস্বী জয়সোয়ালকে বিব্রত করেন। অবশেষে তাঁর প্রিয় কাট শটেই ক্যাচ দেন জয়সোয়াল। এদিকে সিরিজের সেরা স্পিনার সাইমন হারমারের দুর্দান্ত অফব্রেকে বোল্ড হন কেএল রাহুল।
শেষ বিকেলে সাই সুদর্শনকে এলবিডব্লিউ করতে প্রোটিয়ারা প্রায় সফল হলেও আম্পায়ারের কলে বেঁচে যান তিনি। বাকিটা সময় ভারতের ব্যাটাররা কোনো রকমে শেষ করেন। তবু প্রতি বলেই মনে হচ্ছিল উইকেট পড়তে পারে। শেষ দিনে আলো ফুরানোর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার হাতে থাকবে ছয় ঘণ্টা, আর ভারতের সামনে থাকবে টিকে থাকার কঠিনতম পরীক্ষা।
এখন দেখার বিষয়—ভারত কি শেষ দিনে প্রতিরোধ গড়ে হার এড়াতে পারবে, নাকি দক্ষিণ আফ্রিকা পুরো ১২ পয়েন্ট নিয়ে সিরিজে ভারতকে চুনকাম করতে পারবে।
আরও পড়ুন
ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা ২য় টেস্ট: সমানে সমানে লড়াই, কুলদীপ নিলেন ৩ উইকেট