শীত পড়তেই বিভিন্ন শহরে উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়ছে বায়ুদূষণের সমস্যা। নয়াদিল্লির এইমসের চিকিৎসকদের করা গবেষণা রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, বায়ুদূষণের কারণে শুধু ফুসফুস ও হার্টই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না। বায়ুদূষণের সমস্যা ডেকে আনছে অ্যাংজাইটি ডিজঅর্ডার ও প্যানিক অ্যাটাকের মতো সমস্যাও।বায়ুদূষণের প্রভাব পড়ছে মানসিক স্বাস্থ্যর ওপরও। নয়াদিল্লির এইমস হাসপাতালের চিকিৎসক নন্দ কুমার জানান, দূষিত বাতাসের জেরে বাতাসের মান কমে যায়। অক্সিজেনের মাত্রা কমে যায়। মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বিঘ্নিত হয়। কারণ, মস্তিষ্ক ঠিকমতো কাজ করতে অক্সিজেনের সরবরাহ ঠিক থাকা জরুরি। কারণ, অক্সিজেনের মাত্রা কম থাকলে ইমোশনাল ডিসকানেকশন হয়।
শুধু বায়ুদূষণ নয়, অনেক পরিবারের কাছেই শিশুদের হাতে স্মার্টফোন, আইপ্যাড তুলে দেওয়া স্বাভাবিক রুটিন হয়ে উঠেছে।
সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির গবেষক আই পেং তানের নেতৃত্বে দীর্ঘ সময় ধরে একটানা গবেষণা চালানো হয়। সেই গবেষণায় দেখা যায় ২-৩ বছরের শিশুর হাতে যদি স্মার্টফোন বা আইপ্যাড ধরিয়ে দেওয়া হয় তবে শিশুর মস্তিষ্কের ওপর দীর্ঘ মেয়াদি প্রভাব পড়ছে। শিশুর শৈশব থেকে কৈশোর পর্যন্ত গবেষণা চালানো হয়। ডিজিটাল জগতে স্বচ্ছন্দ শিশু হয়ত শৈশবে তাৎক্ষণিকভাবে তাড়াতাড়ি প্রশ্নর জবাব দিচ্ছে কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে কৈশোরে গিয়ে অ্যাংজাইটি বা মানসিক উদ্বেগে ভুগতে শুরু করছে।
ব্যস্ততা বা সামাজিক মাধ্যমে নিজেদের সময় কাটানোর অছিলায় অনেক বাবা-মাই পরিবারের খুদে সদস্য নিজেদের সন্তানের হাতে তুলে দিচ্ছেন স্মার্টফোন, আইপ্যাড। বা খুদে সদস্যর সামনে খুলে দিচ্ছেন ল্যাপটপ, কম্পিউটার। ভার্চুয়াল জগতে বুঁদ হয়ে থাকছে শিশুমন। শিশুর মনোজগত জুড়ে ডিজিটাল মাধ্যমের উজ্জ্বল রঙ, চলাফেরা করা নানান ছবি, চরিত্র। এতে কয়েক ঘণ্টা ধরে হয়ত শান্ত থাকছে শিশুরা।
মস্তিষ্কের স্ক্যান, থিংকিং টেস্ট আর মানসিক সুস্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমীক্ষা চালিয়ে গবেষণা চালান গবেষকরা। ২-৩ বছরের শিশুর মস্তিষ্কর গ্রোথ দ্রুত হয়। মস্তিষ্কের ভলিউম বাড়ে। মস্তিষ্কের যে সব অঞ্চল দৃষ্টিশক্তি, চিন্তাভাবনাকে নিয়ন্ত্রণ করে তা অর্গানাইজড হয়। শৈশবের অভিজ্ঞতাই পরবর্তী সময় শিশুর মস্তিষ্ক কীভাবে কানেক্ট আর কমিউনিকেট করবে তা নিয়ন্ত্রণ করে। গবেষকরা ১৬৮ শিশুর ওপর গবেষণা চালান। শিশুদের সাড়ে ৪, ৬ ও সাড়ে ৭ বছর বয়সে মস্তিষ্কের স্ক্যান পর্যালোচনা করা হয়।
সাধারণত ফোকাস বা মনঃসংযোগ ঠিক থাকলে মস্তিষ্কের নেটওয়ার্ক ইন্টিগ্রেশন ঠিক থাকে। ২ বছর বয়সের আগে শিশুর হাতে স্মার্টফোন ধরালে মস্তিষ্কের যে জায়গা দৃষ্টিশক্তি ও কগনিটিভ কন্ট্রোলকে নিয়ন্ত্রণ করে তাতে দ্রুত বদল ঘটে যায়। স্ক্রিনের ভিজ্যুয়াল ইনপুট দ্রুত বদলে যায়। এরকম স্টিমিউলেশন শিশুর ভিজ্যুয়াল সিস্টেমকে দ্রুত পরিপক্ব করে তোলে। শিশুর মস্তিষ্কের ডেভেলপমেন্ট নির্দিষ্ট পথ ধরে ধাপে ধাপে হয়। দ্রুত বদলে সবকিছু ঘেঁটেঘুঁটে একশা হয়ে যায়। সেন্সরি প্রসেসিং ডেভেলপমেন্ট নির্দিষ্ট মেনে না হলে কৈশোরে অ্যাংজাইটি ডিজঅর্ডার তৈরি হয়। সিদ্ধান্ত গ্রহণের সমস্যা দেখা যায়। কিন্তু গবেষকদের মতে স্মার্টফোন হাতে তুলে না দিয়ে যদি অভিভাবকরা শিশুদের গল্পের বই পড়ে শোনান তবে এমন সমস্যা হয় না। কারণ গল্পের বই পাঠে মনঃসংযোগ বৃদ্ধি পায়, ভাষা শেখার আগ্রহ বৃদ্ধি পায় শিশুর মনে আর আবেগঘন সম্পর্ক তৈরি হয়। মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়ে।


