ভারতীয় রান্নার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল রসুন বা গার্লিক। রান্নার স্বাদ বাড়াতে রসুন ব্যবহার করা হয়ে থাকে। শীত পড়ার সময় অনেকেই সর্দি, কাশি, ইনফ্লুয়েঞ্জার সমস্যায় ভুগতে থাকেন। ন্যাশনাল সেন্টর ফর কমপ্লিমেন্টারি অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটিভ হেলথ নামক জার্নালে প্রকাশিত ২০১৬ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, শীতের সময় টানা ৯০ দিন রসুনের রস খেলে সর্দি, কাশি, ইনফ্লুয়েঞ্জার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। প্রতিদিন ২ কোয়া রসুন খেলে সর্দিকাশির হাত থেকে সহজে রেহাই মেলে।
বিভিন্ন রকমের গবেষণায় দেখা গেছে, রসুন খুবই পুষ্টিকর। রসুনে থাকে ম্যাঙ্গানিজ, ভিটামিন বি৬, ভিটামিন সি, সেলেনিয়াম, ফাইবার, ক্যালশিয়াম, তামা, লোহা, পটাশিয়াম। কিন্তু রসুনে ক্যালরি কম থাকে। বাড়তি মেদ ঝরাতে সাহায্য করে রসুন। ফ্যাট বার্নিংয়ে সাহায্য করে রসুন। রসুনে অ্যালিসিন নামক উপাদান থাকে যা অতিরিক্ত ফ্যাটের অক্সিডেশনের মাত্রা কমায়। রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা কমায়। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
এ ছাড়াও রসুনে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট থাকে যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ফুসফুস, লিভার, পাকস্থলী, প্রস্টেট, কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়। ভিটামিন সি ও দস্তা থাকে বলে রসুন খেলে সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। রসুনে থাকা অ্যালিসিন নামক উপাদান অ্যান্টিবায়োটিক হিসাবে কাজ করে। ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করে।
২০১৮ সালের গবেষণায় দেখা গেছে রসুনে এমন উপাদান থাকে যা লিভারের ক্ষতি হওয়া আটকায়। রসুন ক্যালশিয়াম শুষে নেয়। হাড় মজবুত করতে পারে।
ব্রণ, ফুসকুড়ি, দাগছোপের মতো ত্বকের সমস্যা দূর করতে পারে রসুন। সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মির হাত থেকে রক্ষা করে রসুন। ত্বকের অকালে বুড়িয়ে যাওয়া আটকায়। এছাড়াও চুলের গোড়া মজবুত করে রসুন। চুল পড়া আটকায়। নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে।
আরও পড়ুন: ভারতে ৪০% বেড়েছে আল্ট্রা প্রসেসড খাবার খাওয়ার প্রবণতা: স্থুলতা ও ডায়াবেটিসে উদ্বেগজনক বৃদ্ধি


