খবর অনলাইন ডেস্ক: প্রায় ১০ হাজার বছর চুপচাপ থাকার পর অগ্ন্যুৎপাত ঘটল ইথিওপিয়ার আফার অঞ্চলে অবস্থিত হাইলি গুবি আগ্নেয়গিরির। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির খালেজ টাইম্স-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নভেম্বরের ২৩ তারিখ ভোরে স্যাটেলাইট ডেটার মাধ্যমে এই অগ্ন্যুৎপাতের প্রথম লক্ষণ ধরা পড়ে। জনবসতি থেকে বিচ্ছিন্ন দানাকিল ডিপ্রেশনের এই অঞ্চলে কোনো স্থলনির্ভর ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা নেই। ফলে একমাত্র স্যাটেলাইটই তথ্য সংগ্রহের প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
ঘটনার পর অল্প সময়ের মধ্যেই আগ্নেয়গিরিটি থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠে যায় বিশাল ছাইয়ের মেঘ। ফরাসিভিত্তিক তুলুজ ভলকানিক অ্যাশ অ্যাডভাইজরি সেন্টার (VAAC) জানায়, ছাইয়ের মেঘ দ্রুত পূর্ব দিকে ভেসে ইয়েমেন ও ওমানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ সতর্কতা জারি করেছে এবং কিছু রুটে উড়ান কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
আরব উপদ্বীপে বায়ুগুণমান সতর্কতা
ওমান ও ইয়েমেনের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, ছাইয়ের সঙ্গে মিশে থাকা সালফার ডাই-অক্সাইড উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে। শ্বাসকষ্ট ও শ্বাসযন্ত্রের রোগে আক্রান্তদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ভারতের ওপরও সম্ভাব্য প্রভাব
উচ্চস্তরের বায়ুপ্রবাহের কারণে ছাইয়ের মেঘ ভারত অভিমুখেও অগ্রসর হতে পারে বলে প্রক্ষেপণ মডেলে দেখা গেছে। দিল্লি ও জয়পুরের আকাশপথে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে ভারতীয় বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।
ইতিমধ্যে ২৪ নভেম্বর কান্নুর থেকে আবুধাবিগামী ইন্ডিগোর ৬ই ১৪৩৩ উড়ান সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে অহমদাবাদে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করে এবং ফেরত উড়ানের ব্যবস্থা হচ্ছে।
পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলো স্যাটেলাইট ডেটার মাধ্যমে অবিরাম নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে এবং আরও তথ্য শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।
