কানাডার সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক বিরোধে ভারত তার শক্ত অবস্থান জানিয়েছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক একটি মধ্যরাতের বিবৃতিতে জানিয়েছে, কানাডা তাদের আনা গুরুতর অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেনি। এই কূটনৈতিক পরিস্থিতির সম্পূর্ণ দায় কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর উপর চাপিয়েছে ভারত।
বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আজকের ঘটনায় যা শোনা গিয়েছে, তা আমরা যে কথা এতদিন ধরে বলে আসছি, সেটিই প্রমাণ করে। কানাডা আমাদের কাছে কোনও প্রমাণ দেয়নি, অথচ তারা ভারতের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে।”
প্রধানমন্ত্রী ট্রুডোর ভূমিকার ওপর দায় চাপিয়ে বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “ভারত-কানাডা সম্পর্কের এই মারাত্মক অবনতির জন্য দায়ী একমাত্র প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো।”
বুধবার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো একটি কমিশন অফ ইনকোয়ারির সামনে সাক্ষ্য দেন এবং স্বীকার করেন যে, খলিস্তানি সন্ত্রাসী হরদীপ সিং নিজ্জার হত্যাকাণ্ডে ভারত সরকারের জড়িত থাকার বিষয়ে তার কাছে কোনও “প্রমাণিত তথ্য” নেই, বরং শুধুমাত্র গোয়েন্দা তথ্যের উপর ভিত্তি করে এই অভিযোগ তোলা হয়েছে।
ট্রুডোর এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায়, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ভারত কানাডার ছয়জন শীর্ষস্থানীয় কূটনীতিককে বহিষ্কার করে। ট্রুডোর বক্তব্যকে “রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” এবং “অযৌক্তিক” বলে অভিহিত করে ভারত। ট্রুডো এর জবাবে বলেন, “কানাডার নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বে এমন আক্রমণাত্মকভাবে হস্তক্ষেপ করে ভারত সরকার ভুল করছে।”
এছাড়াও, ট্রুডো অভিযোগ করেন যে, ভারতীয় কূটনীতিকরা কানাডার নাগরিকদের উপর নজরদারি করছে যারা ভারতের সরকারের সঙ্গে মতবিরোধে রয়েছে এবং এই তথ্য ভারত সরকার এবং দুষ্কৃতী গোষ্ঠীর কাছে সরবরাহ করছে। যদিও এই অভিযোগেরও কোনও প্রমাণ এখনো উপস্থাপন করা হয়নি।
ভারত এ ধরনের অভিযোগ আগেও অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, কানাডা তাদের আনা অভিযোগের পক্ষে একটি প্রমাণও ভারতকে সরবরাহ করেনি। ভারত বারবার বলেছে, আসল সমস্যাটি হলো, কানাডা, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, খলিস্তানপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের কানাডার মাটিতে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিয়ে চলেছেন।


