Home খবর বিদেশ গ্রিনল্যান্ড দখলে বাধা দিলে শুল্ক চাপানো হবে, হুমকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের...

গ্রিনল্যান্ড দখলে বাধা দিলে শুল্ক চাপানো হবে, হুমকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের  

গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইয়েন্স ফ্রেডেরিক নিলসেন পরিষ্কার করে বলেন, “এই মুহূর্তে যদি আমাদের যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে বেছে নিতে হয়, আমরা ডেনমার্ককেই বেছে নেব।"

খবর অনলাইন ডেস্ক: গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ সমর্থন না করলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপ করা হতে পারে বলে হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার হোয়াইট হাউসে এক স্বাস্থ্যবিষয়ক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ট্রাম্প বলেন, “গ্রিনল্যান্ড আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজন। যারা এই বিষয়ে আমাদের সঙ্গে একমত হবে না, তাদের ওপর আমি শুল্ক আরোপ করতে পারি।” তার এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে লক্ষ্য কত্রে এক মার্কিন সামরিক অভিযান পরিচালনা করার পর, ট্রাম্প আবার ডেনমার্কের অধীন আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখলের পুরোনো আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ্যে আনেন। রিপাবলিকান এই নেতা দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছেন, উত্তর মেরু অঞ্চলে রাশিয়া ও চিনের ক্রমবর্ধমান আগ্রহ —বিশেষ করে খনিজ সম্পদ ও কৌশলগত অবস্থান—গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

রাশিয়া অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্বেগকে ‘কল্পনা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

কী বলেছে হোয়াইট হাউস

হোয়াইট হাউস স্পষ্ট করেছে, গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। এক বিবৃতিতে বলা হয়, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বহুবার বলেছেন যে গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার অগ্রাধিকার। আর্কটিক অঞ্চলে আমাদের প্রতিপক্ষদের প্রতিরোধ করতে এটি জরুরি। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে, এবং সর্বাধিনায়ক হিসেবে মার্কিন সামরিক বাহিনী ব্যবহারের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতে সব সময়েই রয়েছে।”

সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো কূটনৈতিক অগ্রগতি হয়নি। তবে তিন পক্ষই আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

এ দিকে ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে গ্রিনল্যান্ডে ফ্রান্স ও জার্মানির সামরিক সদস্যদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়েছে, আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে ইউরোপীয় উদ্বেগেরই প্রতিফলন। তবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কারোলাইন লেভিট স্পষ্ট করে বলেন, “ইউরোপে সেনা মোতায়েন প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তে কোনো প্রভাব ফেলবে না এবং গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের লক্ষ্যে তাঁর অবস্থানেও কোনো পরিবর্তন আনবে না।”

ডেনমার্কের প্রত্যাখ্যান

ডেনমার্ক কড়া ভাষায় যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন বলেন, “গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। এটি ডেনমার্ক বা গ্রিনল্যান্ড—কোনো পক্ষই চায় না। এমন উদ্যোগ আন্তর্জাতিক আইন ও সার্বভৌমত্বের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।”

গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইয়েন্স ফ্রেডেরিক নিলসেনও একই সুরে অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, “এই মুহূর্তে যদি আমাদের যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে বেছে নিতে হয়, আমরা ডেনমার্ককেই বেছে নেব। আমরা ন্যাটোকে বেছে নেব। আমরা ডেনমার্ক রাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নকেই বেছে নেব।”

গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে এই টানাপোড়েন আর্কটিক অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিকে আরও জটিল করে তুলছে, পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের সম্পর্কেও নতুন চাপ সৃষ্টি করছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Exit mobile version