Homeখবরদেশভোররাতে কেঁপে উঠল অসম, মরিগাঁওয়ে ৫.১ মাত্রার ভূমিকম্প, আতঙ্ক ছড়াল বিস্তীর্ণ অঞ্চলে

ভোররাতে কেঁপে উঠল অসম, মরিগাঁওয়ে ৫.১ মাত্রার ভূমিকম্প, আতঙ্ক ছড়াল বিস্তীর্ণ অঞ্চলে

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোথাও প্রাণহানি বা সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই বলে জানিয়েছেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা।

প্রকাশিত

অরূপ চক্রবর্তী

গুয়াহাটি: ভোরের নীরবতা ভেঙে সোমবার কেঁপে উঠল অসম। ভোর ৪টা ১৭ মিনিট নাগাদ মরিগাঁও জেলাকে কেন্দ্র করে ৫.১ মাত্রার এক ভূমিকম্প আঘাত হানে। আচমকা কম্পনে ঘুম ভেঙে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বহু মানুষ। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোথাও প্রাণহানি বা সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই বলে জানিয়েছেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা।

ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির (এনসিএস) তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ২৬.৩৭ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ ও ৯২.২৯ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে, ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৫০ কিলোমিটার গভীরে। এই কম্পন মধ্য অসমের বিস্তীর্ণ এলাকায় স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়। এমনকি পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতেও এর রেশ পৌঁছোয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ভোররাতে হঠাৎ এই কম্পনে অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্কের খবর। যদিও প্রশাসনের তরফে দ্রুত জানানো হয়, পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির কোনও নিশ্চিত তথ্য নেই।

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞদের মতে, অসম ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই উচ্চ ভূমিকম্প ঝুঁকির অঞ্চলের মধ্যে পড়ে। ভারতীয় টেকটোনিক প্লেটের সঙ্গে ইউরেশীয় ও বার্মিজ প্লেটের সংঘর্ষের ফলেই এই এলাকায় ঘন ঘন ভূকম্পন ঘটে। এই ভৌগোলিক বাস্তবতার কারণেই রাজ্যের বিস্তীর্ণ অংশ সর্বদা ভূমিকম্পের আশঙ্কার মধ্যে থাকে।

বিশেষত গুয়াহাটি ও ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলি মাঝারি থেকে শক্তিশালী ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বলে মত বিশেষজ্ঞদের। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ৫.৮ মাত্রার একটি ভূমিকম্প গুয়াহাটি-সহ রাজ্যের একাধিক অংশ কাঁপিয়ে দিয়েছিল। সেই সময়েও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না হলেও আতঙ্ক ছড়িয়েছিল সর্বত্র।

ইতিহাস বলছে, অসমে ভূমিকম্প নতুন কোনও ঘটনা নয়। ১৮৯৭ সালের প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্প—যার মাত্রা ছিল ৮-এরও বেশি—ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা জুড়ে ব্যাপক ধ্বংস ডেকে এনেছিল। সেই স্মৃতি আজও ভৌগোলিক ও সামাজিক ইতিহাসে গভীরভাবে ছাপ রেখে গেছে।

বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, নিয়মিত মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পের ঘটনাগুলি স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, ভূমিকম্প-সহনশীল পরিকাঠামো গড়ে তোলা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি আরও জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো ও জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দিচ্ছেন তাঁরা।

আপনার প্রশ্ন, আমাদের উত্তর

সাম্প্রতিকতম

এসআইআর নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে তৃণমূল সাংসদ ডেরেক, সময়সীমা বাড়ানোর আর্জি

বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। সময়সীমা বাড়ানোর আর্জি, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একাধিক পদ্ধতিগত অনিয়মের অভিযোগ।

বিতর্কের কেন্দ্রে ব্রুকলিনের এমডিসি, আইনজীবীরাই যাকে বলেন ‘নরকের মতো’, সেই কারাগারেই মাদুরো

‘নরকের মতো’ বলে পরিচিত নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে আটক ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। কারাগারের ভয়াবহ অবস্থা ও বিতর্কের বিস্তারিত।

১২ বছরের মধ্যে জানুয়ারিতে নজিরবিহীন শীত, কলকাতায় পারদ নামল ১০.২ ডিগ্রিতে, দক্ষিণবঙ্গে আরও নামার সতর্কতা

জানুয়ারিতে নজিরবিহীন শীত কলকাতায়। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছে ১০.২ ডিগ্রিতে—ভেঙেছে ১৫ বছরের রেকর্ড। দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গে শীতল দিন ও ঘন কুয়াশার সতর্কতা।

কর্নাটকে প্রথম বার ধরা পড়ল বিরল ‘স্যান্ডালউড লেপার্ড’, ট্র্যাপ ক্যামেরায় চন্দনরঙা চিতাবাঘ

দক্ষিণ আফ্রিকা ও তাঞ্জানিয়ার পরে এবার কর্নাটকের বিজয়নগর জেলায় প্রথম বার দেখা মিলল বিরল চন্দনরঙা বা ‘স্যান্ডালউড লেপার্ড’-এর। জিনগত কারণেই লালচে গোলাপি রঙ, মত বিজ্ঞানীদের।

আরও পড়ুন

এসআইআর নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে তৃণমূল সাংসদ ডেরেক, সময়সীমা বাড়ানোর আর্জি

বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। সময়সীমা বাড়ানোর আর্জি, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একাধিক পদ্ধতিগত অনিয়মের অভিযোগ।

কর্নাটকে প্রথম বার ধরা পড়ল বিরল ‘স্যান্ডালউড লেপার্ড’, ট্র্যাপ ক্যামেরায় চন্দনরঙা চিতাবাঘ

দক্ষিণ আফ্রিকা ও তাঞ্জানিয়ার পরে এবার কর্নাটকের বিজয়নগর জেলায় প্রথম বার দেখা মিলল বিরল চন্দনরঙা বা ‘স্যান্ডালউড লেপার্ড’-এর। জিনগত কারণেই লালচে গোলাপি রঙ, মত বিজ্ঞানীদের।

উমর খালিদের জামিন নাকচ: ‘এটাই বিকশিত ভারত—প্রতিবাদ করলেই জেল’, কংগ্রেসের তীব্র কটাক্ষ

দিল্লি দাঙ্গা মামলায় উমর খালিদ ও শারজিল ইমামের জামিন খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট। পাঁচ অভিযুক্ত পেলেন জামিন। রায় ঘিরে কংগ্রেস-বিজেপির তীব্র প্রতিক্রিয়া।