২০২০ সালের উত্তর-পূর্ব দিল্লি দাঙ্গার পিছনে কথিত বৃহত্তর ষড়যন্ত্র সংক্রান্ত মামলায় সোমবার গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিয়েছে, এই মামলায় অভিযুক্ত উমর খালিদ ও শারজিল ইমামকে জামিন দেওয়া যাবে না। তবে একই মামলায় অভিযুক্ত গুলফিশা ফাতিমা, মীরান হায়দার, শিফা উর রহমান, মহম্মদ সলিম খান এবং শাদাব আহমদকে জামিন মঞ্জুর করেছে আদালত।
বিচারপতি অরবিন্দ কুমার ও বিচারপতি এন ভি অঞ্জারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ, উমর খালিদ ও শারজিল ইমাম এই মামলায় “গুণগত ভাবে সম্পূর্ণ আলাদা অবস্থানে” রয়েছেন। তদন্তকারী সংস্থার দাবি ও মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, অভিযুক্ত অপরাধে তাঁদের ভূমিকা ছিল “কেন্দ্রীয়”।
শীর্ষ আদালত স্বীকার করেছে, দীর্ঘ সময় ধরে কারাবন্দি থাকার বিষয়টি গুরুত্বহীন নয়। তবে আদালতের মতে, এই দীর্ঘ কারাবাস সংবিধানের নির্দেশ লঙ্ঘন করে না এবং প্রযোজ্য আইনের অধীনে থাকা আইনগত বাধাও (স্ট্যাচুটরি এমবার্গো) অতিক্রম করার মতো যথেষ্ট কারণ নয়।
রায়ের পর রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। কর্ণাটকের মন্ত্রী ও কংগ্রেস নেতা প্রিয়াঙ্ক খাড়গে শাসক শিবিরকে কটাক্ষ করে বলেন, “এটাই ‘বিকশিত ভারত’—যেখানে প্রতিবাদ করলেই জেলে যেতে হয়, আর ধর্ষণে অভিযুক্তরা সহজেই জামিন পেয়ে যায়।” সমাজমাধ্যমে করা এক পোস্টে তিনি গুরমিত রাম রহিম, আসারাম বাপু এবং কুলদীপ সিং সেঙ্গারের নাম উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, উমর খালিদের বাবা এস কিউ আর ইলিয়াস আদালতের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া দিয়ে বলেন, তাঁর বলার মতো কিছু নেই।
দিল্লি দাঙ্গায় নিহত রাহুল সোলাঙ্কির বাবা হরি সোলাঙ্কি বলেন, “উমর খালিদ ও শারজিল ইমামকে জামিন না দেওয়ার জন্য সুপ্রিম কোর্টকে ধন্যবাদ। কিন্তু পাঁচ জন অভিযুক্তকে জামিন দেওয়া মানে দাঙ্গায় যাঁরা পরিবার হারিয়েছেন, তাঁদের কাছে এক ধরনের মৃত্যুদণ্ডের সমান। আমরা চাই, দোষীদের এমন শাস্তি হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর এমন দাঙ্গা না হয়।”
বিজেপি সাংসদ বিবেক ঠাকুর বলেন, সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর দাবি, আদালত স্পষ্ট করেছে যে উমর খালিদ ও শারজিল ইমাম ছিলেন এই মামলার কেন্দ্রীয় চরিত্র এবং দাঙ্গায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন।
বিজেপির মুখপাত্র শাহজাদ পুনাওয়ালা রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “আজ বলা যায় ‘সত্যমেব জয়তে’। ‘টুকড়ে টুকড়ে গ্যাং’-এর পোস্টার বয় উমর খালিদ ও শারজিল ইমামের জামিন খারিজ হয়েছে। আদালত বলেছে, দিল্লির দাঙ্গা স্বতঃস্ফূর্ত ছিল না, ছিল সংগঠিত ও পরিকল্পিত। কংগ্রেস এত দিন যাঁদের রক্ষা করেছে, আজ তাদের ক্ষমা চাওয়া উচিত।”
এই রায়ের পর দিল্লি দাঙ্গা মামলা ঘিরে রাজনৈতিক তরজা ও বিতর্ক আরও তীব্র হল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।


