অন্ধ্রপ্রদেশের আলুরি সীতারামরাজু জেলার ঘন জঙ্গলে নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষে নিহত হলেন দেশের অন্যতম কুখ্যাত মাওবাদী নেতা মাডবী হিডমা। মঙ্গলবার ভোরে অন্ধ্রপ্রদেশ, ছত্তীসগড় এবং তেলঙ্গানার সীমানায় অবস্থিত মারেদুমিলি অরণ্যে তাঁর অবস্থানের খবর পায় পুলিশ। খবর মিলতেই যৌথ বাহিনী তল্লাশি অভিযান চালায় এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই দু’পক্ষের মধ্যে গুলির লড়াই শুরু হয়। পুলিশের দাবি, এই সংঘর্ষে হিডমা-সহ মোট ছ’জন মাওবাদী নিহত হয়েছেন। মৃতদের মধ্যে হিডমার স্ত্রী রাজে ওরফে রাজাক্কাও রয়েছেন বলে সূত্রের খবর। যদিও নিরাপত্তাবাহিনী পুরো এলাকায় এখনও তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে।
অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশের ডিজি হরিশকুমার গুপ্ত জানিয়েছেন, সকাল ছ’টা থেকে সাতটার মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল এবং দীর্ঘদিন ধরে হিডমাকে খুঁজছিল বাহিনী। শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার তাঁর নাগাল পাওয়া যায়। হিডমা ছিলেন পিপল্স লিবারেশন গেরিলা আর্মির ১ নম্বর ব্যাটেলিয়নের প্রধান এবং মাওবাদীদের দণ্ডকারণ্য আঞ্চলিক কমিটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। বয়স প্রায় ৪০। ছত্তীসগড়ের সুকমা জেলার পুবর্তী গ্রামের বাসিন্দা হিডমা নব্বইয়ের দশকে মাওবাদী দলে যোগ দেন এবং পরে ১৮০–২৫০ জন মাওবাদীর একটি বড় বাহিনীর নেতৃত্ব সামলাতেন। গোয়েন্দা সূত্রে দাবি, সিপিআই (মাওবাদী)-র কেন্দ্রীয় কমিটির সবচেয়ে তরুণ সদস্যও ছিলেন তিনি। তাঁর সাম্প্রতিক কোনও ছবি নাকি গোয়েন্দাদের কাছেও ছিল না।
দেশজুড়ে বহু নৃশংস হামলার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন হিডমা। ২০১০ সালে দন্তেওয়াড়ায় সিআরপিএফ কনভয়ে হামলায় ৭৬ জন আধাসেনার মৃত্যু, ২০১৩ সালে ঝিরাম ঘাঁটিতে কংগ্রেস নেতাদের ওপর হামলা এবং ২০২১ সালে সুকমা–বিজাপুর সংঘর্ষ—এই প্রতিটি ঘটনার নেতৃত্বেই ছিলেন তিনি। ভীম মাণ্ডবী খুনের মামলায় এনআইএ তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিটও দাখিল করেছে। হিডমার মাথার দাম ছিল ৫০ লক্ষ টাকা।
অভিযান শেষে জঙ্গলে চিরুনি তল্লাশি চলছে এবং আরও মাওবাদী লুকিয়ে থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না নিরাপত্তা বাহিনী।
আরও পড়ুন: সোনভদ্রে পাথরখনি ধস: ১৫ জন শ্রমিকের আটকে থাকার আশঙ্কা, চলছে উদ্ধার অভিযান
