পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় নতুন নির্দেশিকা জারি করল নির্বাচন কমিশন। প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে বুথ স্তরের আধিকারিকদের (বিএলও) নির্দিষ্ট অ্যাপ ব্যবহার করে ভোটারদের ছবি তুলতেই হবে। প্রয়োজনে ভোটারের বাড়িতে দ্বিতীয় বারও যেতে হতে পারে বিএলওদের। যদিও এনুমারেশন ফর্মে পরিষ্কার ছবি লাগানো থাকলে নতুন ছবি তোলা বাধ্যতামূলক নয়। কমিশন জানিয়েছে, ফর্মে ছবি দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়, তবে চাইলে ভোটার যে কোনও মাপের ছবি ওই ফাঁকা স্থানে আটকাতে পারবেন। যাঁদের ছবি তোলা সম্ভব হবে না, তাঁদের পুরনো ছবিই ফর্মে থাকবে।
কমিশন জানিয়েছে, রাজ্যের প্রায় ৮০ লক্ষ ভোটারের এনুমারেশন ফর্ম ইতিমধ্যেই সংগ্রহ করে ডিজিটাইজ করা হয়েছে। নকল বা ভুয়ো ভোটারের বিরুদ্ধে কঠোর মনোভাব নিয়েছে কমিশন। ভোটারদের মুখের ছবির ভিত্তিতে তথ্য যাচাই করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-চালিত সফটওয়্যার ব্যবহার করা হচ্ছে বলেই কমিশন জানিয়েছে। এর ফলে নির্দিষ্ট অ্যাপের মাধ্যমে প্রতিটি ভোটারের ছবি তোলার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
সোমবার প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে আরও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মৃত, স্থানান্তরিত বা যাঁদের নাম ভোটার তালিকায় দ্বিগুণ রয়েছে, তাঁদের তথ্য সঠিক ভাবে জানাতে হবে বিএলওদের। একইসঙ্গে প্রতিদিন ৫০টি পর্যন্ত ফর্ম জমা দেওয়া বুথ লেভেল এজেন্টদের (বিএলএ) স্পষ্ট জানাতে হবে যে ভোটাররা তাঁদের উপস্থিতিতে সই করেছেন এবং ফর্মে দেওয়া তথ্য সঠিক। বিএলএদের ফোন নম্বর, ঠিকানা, পার্ট নম্বর ও সিরিয়াল নম্বরও নথিবদ্ধ করা বাধ্যতামূলক।
কমিশন সতর্ক করে জানিয়েছে, এনুমারেশন ফর্মে ভুল তথ্য দিলে জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৩১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এক বছর পর্যন্ত জেল বা জরিমানা বা উভয়ই হতে পারে। বিএলওরা যাচাই করে সই করার পরও যদি ফর্মে ভুল থাকে, তবে জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুসারে বিএলওরাই শাস্তির মুখে পড়তে পারেন। যেহেতু সমস্ত তথ্য এখন ডিজিটাল রেকর্ডে সংরক্ষিত থাকবে, তাই ভুল বা জালিয়াতি সহজেই চিহ্নিত হবে।
ফর্ম ভরতে ভুল হলে কেবল একটি দাগ টেনে কেটে দিতে হবে এবং একই লাইনের খালি স্থানে সঠিক তথ্য লিখতে হবে। ফর্ম পাওয়া যায়নি এমন ভোটারদের জন্য আলাদা হেল্পলাইনও চালু করেছে কমিশন। ১৯৫০ বা ০৩৩-২২৩১-০৮৫০ নম্বরে ফোন করে অভিযোগ জানানো যাবে। বিধানসভা কেন্দ্র, পার্ট নম্বর ও সিরিয়াল নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য লিখে ৯৮৩০০৭৮২৫০ নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপ করলেও পদক্ষেপ হবে—৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে কমিশন।
গত ৪ নভেম্বর থেকে ফর্ম বিলির কাজ শুরু হয়েছে। বুথ স্তরের আধিকারিকেরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ২০০২ সালের ভোটার তালিকা অনুযায়ী ফর্ম বিলি ও সংগ্রহ করছেন এবং নির্দিষ্ট অ্যাপে তথ্য আপলোড করছেন। রবিবার রাত ৮টার কমিশনের বুলেটিন অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে ৯৯ শতাংশের বেশি এনুমারেশন ফর্ম বিলি সম্পন্ন হয়েছে।
