সুপ্রিম কোর্ট সোমবার নির্দেশ দিয়েছে, দেশের সমস্ত বাঘ অভয়ারণ্যে ছয় মাসের মধ্যে কোর ও বাফার এলাকা সীমা চিহ্নিত করতে হবে। এই নির্দেশের পরে বন দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভ (এসটিআর)-এর ক্ষেত্রে একই প্রক্রিয়া চালুর বিষয়টি আগেই ভাবা হয়েছিল। সম্প্রতি ১,০৪৪ বর্গকিলোমিটার অতিরিক্ত এলাকা সুন্দরবনে যুক্ত হওয়ায়, কাগজে-কলমে এটি এখন দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম টাইগার রিজার্ভ—অন্ধ্রপ্রদেশের নাগার্জুনাসাগর-শ্রীশৈলম টাইগার রিজার্ভের পরেই।
যদিও জাতীয় বন্যপ্রাণ পর্ষদ গত ১৯ আগস্ট রাজ্যের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে এবং সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বৈঠকের মিনিটস প্রকাশও করেছে, তা সত্ত্বেও ইউনেসকো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট সুন্দরবন এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম টাইগার রিজার্ভ নয়। কারণ, রাজ্য সরকার এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও গেজেট নোটিফিকেশন জারি করেনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শীর্ষ বনকর্তা জানান, বর্তমানে এসটিআরের সরকারি আয়তন ২,৫৮৫ বর্গকিলোমিটারই ধরা হয়। গেজেট প্রকাশের পরই এটি আনুষ্ঠানিকভাবে ৩,৬২৯ বর্গকিলোমিটার হয়ে ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম টাইগার রিজার্ভের মর্যাদা পাবে। তার পরেই কোর-বাফার সীমারেখা নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু হবে। ফলে আপাতত সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের আওতায় এসটিআর পড়ছে না বলে বন দফতরের মত।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাইয়ের বেঞ্চ এদিন বাঘ সংরক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে বিভিন্ন নির্দেশ দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাফার এলাকা চিহ্নিতকরণ, সংরক্ষণ কাঠামোর উন্নতি এবং মনিটরিং ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা।
সুন্দরবনে যে অতিরিক্ত ১,০৪৪ বর্গকিমি যুক্ত হয়েছে, সেখানে রয়েছে মতলা, রায়দিঘি এবং রামগঙ্গা রেঞ্জের বাঘ সমৃদ্ধ অঞ্চল। দক্ষিণ ২৪ পরগনা ফরেস্ট ডিভিশনের এই অংশগুলি দীর্ঘদিন ধরেই টাইগার-বেয়ারিং জোন হিসেবে চিহ্নিত ছিল।

রাজ্যের বন দফতরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি এবং হেড অফ ফরেস্ট ফোর্স দেবল রায় জানান, তাঁরা এখনও সুপ্রিম কোর্টের রায় হাতে পাননি। সুন্দরবনের ক্ষেত্রে গেজেট নোটিফিকেশন কবে হবে, তা পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
২০১৪ সালে এসটিআরের ফিল্ড ডিরেক্টর থাকাকালীন অতিরিক্ত এলাকার বাফার জোনে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব তৈরি করেছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন হেড অফ ফরেস্ট ফোর্স সৌমিত্র দাশগুপ্ত, যিনি এখন International Big Cat Alliance-এর ডিরেক্টরদের একজন। তাঁর কথায়, “বাফার জোন ঘোষণা হলে মাছধরা কিংবা স্থানীয় মানুষের জীবিকায় কোনও প্রভাব পড়বে না। এই ভুল ধারণাই হয়তো সিদ্ধান্তকে দেরি করিয়েছে। কেন্দ্র প্রয়োজনীয় সবুজ সংকেত দিয়েছে, এখন রাজ্যের নোটিফিকেশন প্রয়োজন।”
রাজ্যের প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছিল, এই সংহতির ফলে সমগ্র বাঘসমৃদ্ধ ম্যানগ্রোভ অরণ্য একক নিয়ন্ত্রণে আসবে, যার ফলে ন্যাশনাল টাইগার কনজারভেশন অথরিটির নির্দেশিকা বাস্তবায়ন দ্রুত হবে এবং ব্যবস্থাপনায় একরূপতা আসবে।
এই প্রসঙ্গে রাজ্য বন্যপ্রাণ উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্য জয়দীপ কুণ্ডু বলেন, “সুন্দরবনে統一 tiger protection protocol-এর সুযোগ তৈরি হয়েছে। বাঘ সংরক্ষণের ভবিষ্যতের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”


