আগামী ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে সুন্দরবনে শুরু হতে চলেছে বহুল প্রতীক্ষিত পাখি উৎসব। চলবে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত। ইতিমধ্যেই উৎসবে অংশগ্রহণের আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করেছে সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভ (এসটিআর)। ২৫ নভেম্বর থেকে অনলাইনে আবেদন গ্রহণের জন্য চালু করা হয়েছে দুটি অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্ম।
এসটিআর সূত্রের খবর, এবারের উৎসব পাঁচ দিনের হবে। প্রথম বছর তিন দিন, দ্বিতীয় বছর চার দিন এবং তৃতীয় বছর পাঁচ দিন ধরে উৎসব চলেছিল। গতবারের তুমুল সাড়া পাওয়ার পর এ বছরও উৎসব পাঁচ দিনের রাখার সিদ্ধান্ত করেছে বনদফতর।
১৪৫ প্রজাতির পাখি, দর্শন ৫ হাজারের বেশি—রেকর্ড তৈরি সুন্দরবনে
প্রথম পাখি উৎসবের সমীক্ষা বিশ্লেষণে বনদফতর জানিয়েছিল, সুন্দরবনে দেখা মিলেছে ১৪৫ প্রজাতির পাখির। সেই উৎসবে অংশগ্রহণকারীরা তিন দিনে প্রত্যক্ষ করেছিলেন প্রায় ৫ হাজারেরও বেশি পাখি।
গতবার মোট ৫০৬৫টি পাখির দর্শন পেয়েছিলেন পাখিপ্রেমীরা। এ বছর উৎসব দীর্ঘ হওয়ায় পাখিদর্শনের সংখ্যা আরও বাড়বে বলেই আশাবাদী দফতরের আধিকারিকরা।
উৎসবে প্রতি বছর বাড়ছে আবেদনকারীর সংখ্যা
প্রথম বছর ছ’টি দলে ৩৪ জন অংশগ্রহণের অনুমতি পেয়েছিলেন।
দ্বিতীয় বছরে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল ৮টি দলকে।
তৃতীয় বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে ৬টি দলের মোট ২৪ জন অংশগ্রহণ করেছিলেন।
এসটিআর জানিয়েছে, এবছরও ৬টি দলে মোট ২৪ জন পাখিপ্রেমীকে মাঠে নামার অনুমতি দেওয়া হবে। মাথাপিছু খরচ প্রায় ১৫ হাজার টাকা।
পাখিদের নিরাপত্তায় বাড়তি নজরদারি
গত বছরের পাখি উৎসবের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বনদফতর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাখির নিরাপত্তার স্বার্থে।
শীতের মরশুমে পরিযায়ী পাখিদের সুন্দরবন ও আশপাশে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে—
- টহলদারি বৃদ্ধি,
- শিকার রোধে কঠোর নজরদারি,
- স্থানীয় গ্রামবাসীদের সচেতনতা বৃদ্ধি
—এই তিন দিকেই জোর দিচ্ছে বনদফতর।
সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের এক আধিকারিক জানান,
“গতবার উৎসবে ব্যাপক সাড়া মিলেছিল। এবারও তাই সুন্দরবনে পাখি উৎসব শুরু হচ্ছে। পাখিদের নিরাপদ রাখাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
কীভাবে আবেদন করবেন
এবার সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভ অনলাইনেই আবেদন ব্যবস্থা চালু করেছে। আবেদন করা যাবে এই দুটি অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে—
২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। ওয়েবসাইটে উৎসব, যাতায়াত, অংশগ্রহণ ফি ও সময়সূচি সম্পর্কিত সমস্ত বিস্তারিত তথ্য আপলোড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এসটিআর।
সুন্দরবনের অনন্য পাখি জীববৈচিত্র্যকে সামনে রেখে এই উৎসব এখন শুধু সমীক্ষা বা পাখি–দর্শনের অনুষ্ঠান নয়; বরং পাখি সংরক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্ষিক উদ্যোগে পরিণত হয়েছে।
