সংক্ষিপ্ত স্কোর
দক্ষিণ আফ্রিকা: ৪৮৯ & ২৬০/৫ ডিক্লেয়ার
ভারত: ২০১ & ১৪০
ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ৪০৮ রানে জয়
গুয়াহাটির পঞ্চম দিনের ক্ষয়ে যাওয়া উইকেটে ভরাডুবির মুখে পড়ল টিম ইন্ডিয়া। ২৫ বছর পর ভারতের মাটিতে প্রথমবারের মতো সিরিজ ক্লিন সুইপ করল দক্ষিণ আফ্রিকা। ৪০৮ রানের বিশাল ব্যবধানে হার—ঘরের মাঠে ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে পরাজয়। এর সঙ্গে যুক্ত হল আরও এক অস্বস্তিকর পরিসংখ্যান—শেষ সাতটি হোম টেস্টের মধ্যে পাঁচটিতেই হার, যেখানে এর আগে টানা ১২ বছর এবং ১৮টি সিরিজে ভারত ছিল অপরাজিত।
কলকাতার মতোই গুজরাটের গুয়াহাটিতেও শেষ দিনের নায়ক সাইমন হার্মার। অফস্পিনারের ৬/৩৭ বিধ্বংসী বোলিং ভারতীয় ব্যাটিংকে ভেঙে চুরমার করে দেয়। চারবার পাঁচ উইকেটের দোরগোড়ায় এসে এক উইকেটের জন্য বঞ্চিত হওয়া হার্মার অবশেষে পেলেন তাঁর প্রথম পাঁচ উইকেট ভারতের মাটিতে। দক্ষিণ আফ্রিকা যে চতুর্থ দিন দেরিতে ব্যাট করে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংস গভীর করেছিল—শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্তই বড়সড় লাভ এনে দিল প্রোটিয়াসদের।
ভারতের দ্বিতীয় ইনিংসে একমাত্র প্রতিরোধ গড়তে পেরেছেন রবীন্দ্র জাডেজা। তাঁর লড়াকু ৫৪ রানের ইনিংসও দলকে রক্ষা করতে পারেনি। কেশব মহারাজের বলে স্টাম্পড হয়ে মাটিতে মুখ থুবড়ে পড়া জাডেজার ভঙ্গি যেন প্রতীক হয়ে উঠল ভারতের বর্তমান টেস্ট সংকটের।
পঞ্চম দিনে ভারতের প্রয়োজন ছিল ৫২২ রান—বাস্তবে যা অনস্বীকার্যভাবে অসম্ভব। তবে চার মাস আগের ম্যানচেস্টার টেস্টের লড়াই মনে থাকায় শেষ দিনে প্রতিরোধের আশা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছিল না। কিন্তু হার্মার সেই সম্ভাবনার অঙ্ক কষার সুযোগই দিলেন না।
দিনের শুরুতেই একই ওভারে ‘নাইটহক’ কুলদীপ যাদবকে বোল্ড এবং ধ্রুব জুরেলকে স্লিপে ক্যাচ করিয়ে ভারতকে চাপে ফেলে দেন তিনি। এরপর ভারতের ভাগ্য রুদ্ধ হয় ঋষভ পন্থের বিদায়ে—রাফ থেকে উঠে আসা বলে তাঁর ব্যাটের স্প্লাইসে লেগে ক্যাচ যায় মার্করামের হাতে।
এরপর টি-পর্বের পর পতনের গতিপথ আরও খাড়া হয়। ১৩৯ বল ডিফেন্স করে টিকে থাকা সাই সুদর্শন সেশন শুরু হতেই প্রথম বলে সেঞ্চুরি করা সেনুরান মুথুসামির বলে মার্করামের হাতে ক্যাচ দেন। এই ক্যাচে আজিঙ্কা রাহানের ‘এক টেস্টে সর্বাধিক ক্যাচ’ রেকর্ডের সমান হলেন মার্করাম। কিছুক্ষণ পরই ওয়াশিংটন সুন্দরকে আউট করিয়ে রেকর্ডটি ছাড়িয়ে যান তিনি।
হার্মার সিরিজে ১৬ উইকেট নিয়ে শেষ করেন; শেষ দিকে তিনি আরও একটি উইকেট নেন—নিতীশ রেড্ডির বিপরীতে রিভার্স সুইপে গ্লাভ লেগে। বাকি দুটি উইকেট নেন মহারাজ। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হন মারকো ইয়ানসেন, যিনি শেষ উইকেটটিও ক্যাচ ধরে প্রোটিয়াসদের দুরন্ত সাফল্য পূর্ণ করেন।
ভারতের টেস্ট ইতিহাসে সবচেয়ে বড় হার (রানের হিসেবে)
- ৪০৮ রান – বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা (২০২৫)
- ৩৪২ রান – বনাম অস্ট্রেলিয়া (২০০৪)
- ৩৪১ রান – বনাম পাকিস্তান (২০০৬)
- ৩৩৭ রান – বনাম অস্ট্রেলিয়া (২০০৭)
- ৩৩৩ রান – বনাম অস্ট্রেলিয়া (২০১৭)
- ৩২৯ রান – বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা (১৯৯৬)
