পশ্চিমবঙ্গের পর্যটনে সাফল্যের নতুন পালক যুক্ত হল। বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণের নিরিখে দেশের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বাংলা। ভারত সরকারের পর্যটন মন্ত্রকের প্রকাশিত India Tourism Data Compendium 2025–এর সাম্প্রতিক রিপোর্টেই এই তথ্য উঠে এসেছে। বাংলার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রের সৌন্দর্য, আতিথেয়তা, নিরাপত্তা এবং উন্নত পরিকাঠামো—সব মিলিয়ে বিদেশি পর্যটকদের পছন্দের তালিকায় এই মুহূর্তে শীর্ষস্থানে রয়েছে রাজ্য।
এই সাফল্য ঘিরে বুধবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স-এ (আগের টুইটার) একটি বার্তা দেন। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত সকলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন এবং পর্যটন বিভাগকে আরও এগিয়ে যাওয়ার বার্তাও দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য—“বাংলার পাহাড়, সমুদ্র, অরণ্য—প্রত্যেক জায়গার সৌন্দর্যই বিশ্বের পর্যটকদের মুগ্ধ করছে। এই সাফল্য আমাদের সকলের।”
প্রসঙ্গত, বিদেশি পর্যটকদের টানতে দেশের পর্যটগুলির কেন্দ্রগুলির মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বাংলা, এ খবর আগেই করেছিল খবর অনলাইন।
বাংলা বরাবরই দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়। একদিকে হিমালয়ের কোলে দার্জিলিং-কালিম্পংয়ের মনোরম পরিবেশ, অপরদিকে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ অরণ্য সুন্দরবনে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের উপস্থিতি—এই বৈচিত্র্যই বাংলাকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। পাশাপাশি দিঘা ও মন্দারমণির বিস্তীর্ণ সমুদ্রতট সারা বছর ভিড় টানে পর্যটকদের।
এছাড়াও শিলিগুড়ি, বোলপুর-শান্তিনিকেতন, মুর্শিদাবাদের ঐতিহাসিক স্থান, দুর্গাপুর-আসানসোল অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, তাজপুর-শঙ্করপুর, জঙ্গলে ভরা ঝাড়গ্রাম—এসব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গ আজ দেশের অন্যতম ‘ডাইভার্স’ পর্যটন রাজ্য।
শুধু সরকারি পরিকাঠামো নয়—হোম স্টে ব্যবসার প্রসারও রাজ্যের পর্যটন উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পাহাড়ে, জঙ্গলে, গ্রাম্য পরিবেশে বহু বাসিন্দা তাঁদের বাড়ি হোম স্টে-তে পরিণত করেছেন। এতে পর্যটকদের থাকার অসুবিধা কমেছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের আয় ও জীবনযাত্রার মানও বেড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে হোম স্টে ব্যবসা আরও প্রসারিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৫ সালের ডেটায় পশ্চিমবঙ্গ দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসায় রাজ্যের পর্যটন সম্ভাবনা আরও বিস্তৃত হবে। বিদেশি পর্যটকদের ভরসা, মমতা সরকারের পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ—সব মিলিয়ে বাংলা এখন জাতীয় পর্যটন মানচিত্রে নতুন উচ্চতায়।
