ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সস্ত্রীক বন্দি করে দেশছাড়া করা হয়েছে— এমনই বিস্ফোরক দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি অনুযায়ী, শুক্রবার মধ্যরাত থেকে (স্থানীয় সময় অনুযায়ী রাত ২টো) ভেনেজ়ুয়েলায় সামরিক অভিযান শুরু করেছে আমেরিকা। সেই অভিযানের পর এই প্রথম প্রকাশ্যে মুখ খুলে মাদুরোকে দেশছাড়া করার কথা ঘোষণা করেন ট্রাম্প।
এই দাবির পরই গোটা ভেনেজ়ুয়েলায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে বলে খবর। আমেরিকার পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রিটেন-সহ একাধিক দেশ তাদের নাগরিকদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে আমেরিকার বিমান পরিবহণ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফেডেরাল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন আপাতত ভেনেজ়ুয়েলার আকাশসীমায় সমস্ত বাণিজ্যিক উড়ান চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত কয়েক দিন ধরেই আমেরিকা ও ভেনেজ়ুয়েলার মধ্যে তীব্র চাপানউতর চলছিল। এর মধ্যেই ভেনেজ়ুয়েলার তেল ট্যাঙ্কার চলাচলের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, ভেনেজ়ুয়েলার সীমান্তে কোনও তেল ট্যাঙ্কার ঢুকতে বা বেরোতে পারবে না। একই সঙ্গে ভেনেজ়ুয়েলা সরকারকে ফের ‘জঙ্গি গোষ্ঠী’ আখ্যা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
এর আগেও নিকোলাস মাদুরোকে ‘অবৈধ শাসক’ বলে অভিহিত করে তাঁকে অবিলম্বে পদত্যাগ করার দাবি জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। এমনকি প্রয়োজনে ভেনেজ়ুয়েলার বিরুদ্ধে স্থলপথে সামরিক অভিযান চালানোর কথাও প্রকাশ্যে বলেছিলেন তিনি। আমেরিকার অভিযোগ, মাদক পাচার ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে অর্থ জোগাতে তেল ব্যবহার করছে ভেনেজ়ুয়েলা সরকার। তাদের দাবি, দেশের বিভিন্ন খনি থেকে তেল চুরি করে তা বিক্রি করা হচ্ছে এবং সেই অর্থ জঙ্গি কার্যকলাপে ব্যয় করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরে ভেনেজ়ুয়েলাকে ঘিরে ক্যারিবিয়ান সাগরে বিপুল সংখ্যক যুদ্ধজাহাজ ও পরমাণু ডুবোজাহাজ মোতায়েন করেছে আমেরিকা। কার্যত সর্বক্ষণ দেশটিকে ঘিরে রেখেছে মার্কিন সেনা। আন্তর্জাতিক মহলের একাংশের মতে, বিশ্বের বৃহত্তম খনিজ তেলের ভান্ডারগুলির একটি রয়েছে ভেনেজ়ুয়েলায়। প্রতিদিন প্রায় ১০ লক্ষ ব্যারেল তেল উৎপাদন হয় সে দেশে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক বছরগুলিতে চিন ও রাশিয়ার সঙ্গে মাদুরো সরকারের ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধিও ওয়াশিংটনের উদ্বেগ বাড়িয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
