Home খবর দেশ ইথিওপিয়ার আগ্নেয়গিরির বিশাল ছাইমেঘ ভারতে: কত দূর এসেছে? কোথায় কতটা কী প্রভাব?

ইথিওপিয়ার আগ্নেয়গিরির বিশাল ছাইমেঘ ভারতে: কত দূর এসেছে? কোথায় কতটা কী প্রভাব?

আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুত্পাতের ছাইমেঘ ভারতে ঢুকে পড়েছে। গুজরাত, রাজস্থান, দিল্লি, পঞ্জাব-সহ উত্তর ও পশ্চিম ভারতের আকাশে হালকা অন্ধকার ও ঝাপসা ভাব। বিমান চলাচলে বিলম্ব, রুট পরিবর্তন-সহ একাধিক সতর্কতা জারি হয়েছে।

ইথিওপিয়ায় আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুতপাত। ছবি 'X' থেকে নেওয়া।

খবর অনলাইন ডেস্ক: ইথিওপিয়ার হাইলি গুব্বি আগ্নেয়গিরি থেকে উদ্গীরণ হওয়া বিশাল আগ্নেয়ছাই সোমবার সন্ধ্যায় ভারতের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছে ইন্ডিয়া মেট স্কাই ওয়েদার (IndiaMetSky Weather)। প্রথমে ছাইমেঘ গুজরাতের আকাশে দেখা যায়, এর পর দ্রুতগতিতে তা রাজস্থান, উত্তর-পশ্চিম মহারাষ্ট্র, দিল্লি, হরিয়ানা ও পঞ্জাবের দিকে এগিয়ে যায়। সোমবার রাত ১০টার মধ্যে এটি বিস্তৃত হয়ে উত্তর ভারতের আকাশে ছড়িয়ে পড়ে এবং ধীরে ধীরে হিমালয়ের দিকেও ধাবিত হয়। ফলে উত্তর ও পশ্চিম ভারতের আকাশে হালকা অন্ধকার ও ঝাপসা ভাব রয়েছে।

কী ভাবে কোথা থেকে আসছে ছাইমেঘ

টুলুজ ভলকানিক অ্যাশ অ্যাডভাইজরি সেন্টার (ভাক, VAAC) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রবিবার সকাল সাড়ে ৮টায় হাইলি গুব্বি আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুত্পাত শুরু হয়। প্রায় ১০ হাজার বছর ঘুমন্ত থাকা আগ্নেয়গিরিটি হঠাৎ বিস্ফোরণে ১৪ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত ঘন ছাই ও গ্যাস ছুড়ে দেয়। আফার অঞ্চলে অবস্থিত আগ্নেয়গিরিটি রিফট ভ্যালির টেকটনিক প্লেটের সংযোগস্থলে হওয়ায় সেখানে ভূ-প্রাকৃতিক সক্রিয়তা বেশি।

ভাক জানায়, অগ্ন্যুত্পাত বন্ধ হলেও সেখান থেকে সৃষ্টি হওয়া বিশাল ছাইমেঘ লোহিত সাগর অতিক্রম করে ইয়েমেন, ওমান হয়ে পূর্ব দিকে ভারত ও উত্তর পাকিস্তানের দিকে ভেসে আসে।

কোন কোন শহরে বেশি প্রভাব

সোমবার রাতেই ছাইমেঘ গুজরাত ও রাজস্থান পেরিয়ে দিল্লি-এনসিআর (ন্যাশনাল ক্যাপিটাল রিজিয়ন), হরিয়ানা, পঞ্জাব ও উত্তরপ্রদেশের কিছু অংশের ওপর দিয়ে এগিয়ে যায়। ইন্ডিয়া মেট স্কাই ওয়েদার জানায়, মেঘটি ঘণ্টায় ১০০-১২০ কিমি বেগে উত্তর ভারতের দিকে এগোচ্ছে। আকাশ অস্বাভাবিকভাবে ম্লান ও ঝাপসা লাগতে পারে বলে সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।

ছাই মেঘটি ১৫,০০০–২৫,০০০ ফুট উচ্চতায় ভেসে যাচ্ছে, কোথাও কোথাও স্তর ৪৫,000 ফুট পর্যন্ত পৌঁছেছে। এতে আগ্নেয়ছাই, সালফার ডাই-অক্সাইড-সহ ক্ষুদ্র কাচ ও পাথরের কণা রয়েছে।

এতে কি বাতাসের গুণগত মান (একিউআই) খারাপ হবে?

ভারতের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, মেঘটি মধ্য-স্তরের বায়ুমণ্ডলে থাকায় ভূমির কাছাকাছি বাতাসের গুণগত মান বা একিউআই (AQI) তেমন খারাপ হবে না।

যদিও আকাশ ধুলোঝড়ের মতো দেখা যেতে পারে, তবে ক্ষতিকর ঘনত্বে কণা ভূমিতে নামার সম্ভাবনা কম। সতর্কতার অংশ হিসেবে বাসিন্দাদের মাস্ক পরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সালফার ডাই-অক্সাইডের কিছু প্রভাব হিমালয় অঞ্চল, নেপালের পাহাড়ি এলাকা এবং উত্তরপ্রদেশের তরাই অঞ্চলে দেখা যেতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

বিমান চলাচলে কী প্রভাব

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে ছাইমেঘ প্রবেশ করায় আন্তর্জাতিক বিমান রুটগুলোতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ভারতের অসামরিক বিমান পরিবহণের অধিকর্তা (ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল অ্যাভিয়েশন, DGCA) সোমবার বিমান সংস্থাগুলিকে ছাই-প্রভাবিত আকাশপথ এড়িয়ে চলার নির্দেশ দিয়েছেন।

রুট পরিবর্তন, অতিরিক্ত জ্বালানি বহন এবং জরুরি বিকল্প পরিকল্পনা রাখতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া ছাই-দূষণের সন্দেহে বিমানবন্দরগুলোকে রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়ে তৎক্ষণাৎ পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আকাসা এয়ার, ইন্ডিগো, কেএলএম-সহ বেশ কয়েকটি সংস্থা উড়ান বাতিল করেছে। মুম্বই বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক রুটে সম্ভাব্য বিলম্বের বিষয়ে যাত্রীদের সতর্ক করেছে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Exit mobile version