দেশজুড়ে গিগ ও প্ল্যাটফর্ম কর্মীদের ডাকে বুধবার জাতীয় ধর্মঘট। ডেলিভারি এজেন্ট, অ্যাপ-ভিত্তিক পরিষেবা কর্মী, রাইডারসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের শ্রমিক সংস্থা Gig & Platform Services Workers Union (GIPSWU) এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছে। কমিশন নির্ভর আয়ের বদলে ন্যূনতম মাসিক ৪০,০০০ টাকা বেতন, কর্মক্ষেত্রে মৌলিক সুবিধা, ছুটি, সামাজিক সুরক্ষা ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন তাঁরা। ইউনিয়নের নির্দেশে, বুধবার কেউ তাঁদের কাজের অ্যাপ চালু করবেন না এবং কোনও পরিষেবা দেবেন না।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নির্মল গোরানা বলেন, গিগ কর্মীদের দিন দিন ‘অদৃশ্য শ্রমিক’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ন্যূনতম মজুরি নেই, বীমা নেই, অসুস্থতার ছুটি নেই, পেনশন বা গ্র্যাচুইটির অধিকার নেই। উল্টে ডেলিভারিতে সামান্য দেরি হলেই জরিমানা বা সরাসরি অ্যাপ-আইডি ব্লক করে দেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রেই গ্রাহকদের দুর্ব্যবহার, হেনস্থা বা অভিযোগের কারণে কর্মীদের কাজ হারাতে হয়। তাঁর অভিযোগ, এই পরিস্থিতিতে সরকার এবং প্ল্যাটফর্ম উভয়েই শ্রমিকদের প্রতি দায় এড়িয়ে যাচ্ছে। তাই কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপের দাবি তুলেছেন তাঁরা।
গোরানা আরও জানান, বিভিন্ন সংস্থা এখন ১০ থেকে ২০ মিনিটে ডেলিভারির প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। কিন্তু এই সময়সীমা বাস্তবে অনেকক্ষেত্রে সম্ভব নয়। তা সত্ত্বেও সময়মতো না পৌঁছলে কর্মীদের আইডি ব্লক করে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়, যা তাঁদের জীবিকার ওপর সরাসরি আঘাত। ডেডলাইন ও পেনাল্টির এই চাপ বন্ধ না হলে অসংখ্য শ্রমিক প্রতিনিয়ত অন্যায়ের শিকার হবেন বলেই তাঁদের মত।
গিগ ও প্ল্যাটফর্ম কর্মীদের সবচেয়ে বড় সমস্যার জায়গা হল তাঁদের আইনগত পরিচয়। তাঁরা কর্মচারী নন, আবার শ্রমিক হিসেবেও স্বীকৃত নন। এই অবস্থায় শ্রম আইন, আট ঘণ্টা কাজের নিয়ম, ওভারটাইম ভাতা, বীমা, ছুটি, কর্মক্ষেত্রে বিশ্রামকক্ষ বা প্রাথমিক চিকিৎসার সুবিধা— কোনও কিছুই তাঁরা পান না। অনেক ওয়্যারহাউস ও কর্মস্থলে বিশ্রাম বা চিকিৎসা ঘর পর্যন্ত নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিই দেশজুড়ে ক্ষোভ বাড়িয়ে তুলেছে।
ধর্মঘটের লক্ষ্য, বলছে ইউনিয়ন, শুধুই পরিষেবা বন্ধ নয়—বরং ন্যায়বিচারের দাবি জানানো। নির্মল গোরানা জানান, “সরকার যদি এই সমস্যা সমাধানে এগিয়ে না আসে, তাহলে আন্দোলন আরও জোরদার হবে।”


