খবর অনলাইন ডেস্ক: বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা এল কে আডবাণীর মন্তব্য উদ্ধৃত করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ বলেন, সাংস্কৃতিকভাবে সিন্ধু ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং ভবিষ্যতে সীমান্ত পরিবর্তনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। রবিবার তিনি এই মন্তব্য করেন।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ বলেছেন, “সীমান্ত বদলাতেও পারে” এবং “একদিন সিন্ধু আবার ভারতের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।” আডবাণীর মন্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি জানান যে সিন্ধুর বিচ্ছেদ এখনও অনেক সিন্ধি হিন্দুর মনে বেদনার কারণ।
দিল্লিতে সিন্ধি সম্প্রদায় আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজনাথ সিংহ বলেন, “আডবাণীজি তাঁর এক বইয়ে লিখেছেন যে সিন্ধি হিন্দুরা, বিশেষ করে তাঁর প্রজন্মের মানুষ, এখনও সিন্ধুর বিচ্ছেদ মেনে নিতে পারেননি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, হাজার হাজার বছর ধরে সিন্ধু নদ ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ।
রাজনাথ বলেন, “আজ সিন্ধু ভূমি ভারতের অংশ না হলেও সভ্যতার দিক থেকে সিন্ধুর সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক চিরস্থায়ী। আর ভূমির কথা বলতে গেলে—সীমান্ত বদলাতেও পারে। কে জানে, আগামীকাল সিন্ধু আবার ভারতের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।” তাঁর মতে, সিন্ধু নদ ও সিন্ধি জনগোষ্ঠী ভারতের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
তিনি বলেন, ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর সিন্ধু নদীর বড় অংশ ও সম্পূর্ণ সিন্ধু প্রদেশ পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হলেও ভারতের কাছে ‘সিন্ধু, সিন্ধ এবং সিন্ধি’ আজও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
জাতীয় সঙ্গীতের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, “আজও আমরা গর্ব করে গাই—‘পাঞ্জাব, সিন্ধ, গুজরাট, মরাঠা’। এই উচ্চারণ চিরকাল থাকবে।”
এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ২০১৭ সালের একটি অনুষ্ঠানে এল কে আডবাণীও বলেছিলেন, “সিন্ধু ছাড়া ভারতকে অসম্পূর্ণ মনে হয়।” আডবাণী, যিনি ১৯২৭ সালে করাচিতে জন্মগ্রহণ করেন, বহু বার তাঁর জন্মভূমির বিচ্ছেদ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
অনুষ্ঠানে রাজনাথ সিংহ বলেন, “সিন্ধুর সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কেবল ভৌগোলিক নয়, গভীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেও নিহিত।”
