Homeরাজ্যদার্জিলিংদার্জিলিঙে ভয়াবহ বৃষ্টি ও ধস! ১৩ জনের মৃত্যু, বন্ধ রোহিণী রোড, পর্যটকদের...

দার্জিলিঙে ভয়াবহ বৃষ্টি ও ধস! ১৩ জনের মৃত্যু, বন্ধ রোহিণী রোড, পর্যটকদের জন্য বিশেষ নির্দেশিকা জারি

দার্জিলিঙে টানা বৃষ্টিতে ভয়াবহ পরিস্থিতি। মিরিকের লোহার সেতু ভেঙে ১৩ জনের মৃত্যু, রোহিণী রোড-সহ একাধিক রাস্তা বন্ধ। পর্যটকদের জন্য জিটিএ-র বিশেষ নির্দেশিকা জারি।

প্রকাশিত

দার্জিলিঙে এক রাতের প্রবল বর্ষণে বিপর্যস্ত পাহাড়। মিরিক ও সুখিয়া এলাকায় ধস এবং সেতু ভেঙে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত অনেকে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

রাতভর বৃষ্টিতে মিরিকের লোহার সেতু ভেঙে পড়েছে, সেখানে পাঁচটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সুখিয়ায় মৃত্যু হয়েছে চার জনের। দুর্যোগের জেরে দার্জিলিং, কালিম্পং এবং সিকিমের সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

তিস্তার জল বিপদসীমা ছাড়িয়ে জাতীয় সড়কে উঠে এসেছে।
তিস্তাবাজারের কাছে ২৯ মাইল ভালুখোলায় তিস্তার জল বইছে সড়কের উপর দিয়ে। ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক সম্পূর্ণ বন্ধ।

যাতায়াত সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত

  • রোহিণী রোড, যা দার্জিলিঙে ওঠার অন্যতম প্রধান রাস্তা, সেখানে ধস নেমে রাস্তার একাংশ ভেঙে নদীতে পড়েছে।
  • দিলারাম ও সুখিয়া এলাকার রাস্তা বন্ধ, ফলে শিলিগুড়ি থেকে মিরিকের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।
  • দার্জিলিঙের দিকেও যাতায়াত বন্ধ, যা খুবই বিরল ঘটনা।

মিরিক থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কার্শিয়াং) জানিয়েছেন,

“মিরিকে মৃতদেহ উদ্ধার চলছে। আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজে প্রচণ্ড সমস্যা হচ্ছে। আটকে পড়া পর্যটক ও বাসিন্দাদের নিরাপদে বার করার চেষ্টা চলছে।”

পর্যটকদের জন্য সতর্কতা ও নির্দেশিকা

জিটিএ (Gorkhaland Territorial Administration) রবিবার সকালে দুর্যোগ সংক্রান্ত একটি নির্দেশিকা জারি করেছে।

  • আপাতত টাইগার হিলরক গার্ডেন বন্ধ রাখা হয়েছে পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে।
  • পর্যটকদের পাহাড়ি রাস্তায় না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
  • আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নতুন বুকিং স্থগিত রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে হোটেল মালিকদের।
  • পর্যটকদের বলা হয়েছে স্থানীয় প্রশাসনের আপডেট অনুসরণ করতে এবং বিপদসীমা পার নদীর ধার ঘেঁষে না যেতে।

 প্রকৃতির বিপর্যয়ে বন্যপ্রাণীরাও দিশাহারা

জলবন্দি পরিস্থিতিতে জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসছে বন্যপ্রাণী। স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার করা হয়েছে দু’টি হরিণ। পাহাড়ের একাধিক নদী এখন বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে।

 পর্যটকদের জন্য জরুরি তথ্য:

  • দার্জিলিং, মিরিক, কালিম্পং ও সিকিমগামী রাস্তায় আপাতত যাত্রা স্থগিত রাখুন।
  • রেল পরিষেবা ও বিমান পরিষেবা স্বাভাবিক আছে, তবে গন্তব্যে যাওয়ার আগে সর্বশেষ আপডেট দেখে নিন।

আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস: আগামী ২৪ ঘণ্টায় উত্তরবঙ্গে আরও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

আপনার প্রশ্ন, আমাদের উত্তর

সাম্প্রতিকতম

প্রয়াত বর্ষীয়ান রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী অর্ঘ্য সেন, শোকপ্রকাশ মুখ্যমন্ত্রীর

প্রয়াত হলেন বর্ষীয়ান রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী অর্ঘ্য সেন। ৯০ বছর বয়সে শিল্পীর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কেষ্টপুরের সুকান্ত পার্কে হয়ে গেল ‘নহলী’র একাদশ অন্তরঙ্গ নাট্যোৎসবের দ্বিতীয় পর্যায়

অজন্তা চৌধুরী কেষ্টপুরের সুকান্ত পার্কে ‘নহলী’র নিজস্ব অন্তরঙ্গ প্রাঙ্গণ ‘বেলাভূমি’তে হয়ে গেল ‘নহলী’র একাদশ অন্তরঙ্গ...

ট্রেনে অগ্রিম আসন সংরক্ষণ বুকিংয়ে বড়ো পরিবর্তন: জেনে নিন বিস্তারিত

খবর অনলাইন ডেস্ক: যাত্রী পরিষেবা আরও স্বচ্ছ ও সুরক্ষিত করতে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বুকিং...

গিগ কর্মীদের নিরাপত্তায় ‘১০ মিনিটে ডেলিভারি’ ট্যাগলাইন সরাচ্ছে ব্লিঙ্কিট, কেন্দ্রের চাপে পদক্ষেপ

গিগ কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের জেরে ব্র্যান্ডিংয়ে বড় বদল আনতে চলেছে ব্লিঙ্কিট। কেন্দ্রীয় সরকারের...

আরও পড়ুন

১৮২ বছরের ঐতিহ্যবাহী দার্জিলিংয়ের সেন্ট অ্যান্ড্রুজ চার্চের সংস্কার সম্পন্ন, ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা

দার্জিলিংয়ের ১৮২ বছরের ঐতিহ্যবাহী সেন্ট অ্যান্ড্রুজ চার্চের সংস্কার কাজ সম্পন্ন হল। প্রায় ১.৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার হওয়া এই চার্চের ভার্চুয়াল উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

৩ মাস ধরে থেমে থাকা দার্জিলিংয়ের ঐতিহ্যবাহী টাওয়ার ক্লক ফের সচল হবে, তৈরি হচ্ছে নতুন পর্যটন জোন

দার্জিলিংয়ের ক্যাপিটল হলের ঐতিহ্যবাহী টাওয়ার ক্লক তিন মাস ধরে বন্ধ। এবার পূর্ণ সংস্কার করে ঘড়িটিকে সচল করার পাশাপাশি তৈরি হবে মিউজিয়াম, ব্যাঙ্কোয়েট ভেন্যু ও সেলফি পয়েন্ট। প্রশাসনের লক্ষ্য—ঐতিহ্যের গৌরব ফিরিয়ে আনা ও নতুন পর্যটন আকর্ষণ গড়ে তোলা।

দার্জিলিং কমলায় জিআই ট্যাগ: পাহাড়ের ‘রানি’ রপ্তানিতে প্রস্তুত, কার্শিয়াংয়ে প্রথম লটে ৪৫০ কেজি কমলা সংগ্রহ

দার্জিলিংয়ের কমলা পেল জিআই ট্যাগ। প্রশাসন রপ্তানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েছে, প্রথম পর্যায়ে ৪৫০ কেজি কমলা দক্ষিণবঙ্গে পাঠানো হবে। দার্জিলিংয়ের কমলার বিশেষত্ব ও জিআই প্রাপ্তির পথ জানুন।