সুব্রত গোস্বামী
১২ জানুয়ারি বিশ্ববরেণ্য বীর সন্ন্যাসী, ভারতমায়ের অমৃতসন্তান স্বামী বিবেকানন্দের ১৬৩তম জন্মবার্ষিকী পালিত হল। সোমবারের এই পুণ্য প্রভাতে, জীবন্ত ঈশ্বরের আরাধনায় বালি ইটভাটার পরিশ্রমী মানুষদের হাতে কম্বল তুলে দিল ‘গড়িয়া সহমর্মী সোসাইটি’। সোসাইটির জন্মলগ্ন থেকেই স্বামীজি তাদের আরাধ্য, তাদের পথপ্রদর্শক আলোকবর্তিকা।
স্বামীজির অমোঘ বাণী শিখিয়েছে – ঈশ্বরকে খুঁজতে হলে তাঁকে মন্দিরে নয়, খুঁজতে হবে মানুষের মাঝে, মানুষকে ভালোবাসার মধ্যেই ঈশ্বরের প্রকৃত আরাধনা। সমাজের দরিদ্র ও অবহেলিত মানুষ কোনো দয়ার পাত্র নন, তাঁরাই আদতে জীবন্ত নারায়ণ।
আমরা ‘গড়িয়া সহমর্মী সোসাইটি’র সদস্যরা, মনে করি মানবসেবা কোনো দয়া নয়, এটি আমাদের কর্তব্য, আমাদের সাধনা, আমাদের আত্মোন্নতির পথ। আমরা মনে করি, প্রকৃত ধর্ম মানুষকে দুর্বল করে না, বরং মানুষের অন্তরে আত্মসম্মান, সাহস ও শক্তির দীপ জ্বালিয়ে তোলে।
এই মহান দর্শনই ‘গড়িয়া সহমর্মী সোসাইটি’র আদর্শ, প্রেরণা। স্বামীজির বাণী – “আত্মনো মোক্ষার্থং জগদ্ধিতায় চ” অর্থাৎ, নিজের মুক্তির সঙ্গে সঙ্গে জগতের কল্যাণ – এই যুগল সাধনাকেই সোসাইটি জীবনের ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেছি।
সোমবারের পুণ্য প্রভাতে ইটভাটার পরিশ্রমী মানুষদের হাতে কম্বল তুলে দিতে গিয়ে আমরা অনুভব করলাম এক অনির্বচনীয় তৃপ্তি। তাঁদের মুখের প্রশান্ত হাসির মধ্যেই যেন খুঁজে পেলাম আমাদের সাধনার সার্থকতা, আর নিজেদেরই মুক্তির পথের এক ক্ষুদ্র কিন্তু দৃঢ় পদচিহ্ন। স্বামীজির আদর্শ বুকে ধারণ করে মানুষের সেবাতেই ‘গড়িয়া সহমর্মী সোসাইটি’ ঈশ্বরকে খুঁজে চলেছে।
আরও পড়ুন: বীরভূমের আদিবাসী গ্রামে ‘জীবন্ত ঈশ্বরের আরাধনা’য় গড়িয়া সহমর্মী সোসাইটি


