পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগর এলাকার হাকিমপুর সীমান্তে গত দু’দিন ধরে প্রায় ১৫০ জন বাংলাদেশী নাগরিক জড়ো হয়েছেন নিজেদের দেশে ফিরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে। সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ জানিয়েছে, এরা সকলেই দীর্ঘদিন ধরে বৈধ নথিপত্র ছাড়াই ভারতে বসবাস করছিলেন এবং এখন ‘স্বেচ্ছায়’ বাংলাদেশে ফিরে যেতে চাইছেন।
বিএসএফের ১৪৩ নম্বর ব্যাটালিয়নের সদস্যরা প্রত্যেককে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। নেওয়া হচ্ছে আঙুলের ছাপ। জানা গেছে, কারও বিরুদ্ধে ভারতে কোনও অপরাধের অভিযোগ রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখার পর তাঁদের বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডসের (বিজিবি) হাতে তুলে দেওয়া হবে।
ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন ও কাশ্মীর হামলার পর বদলানো পরিস্থিতি
বিএসএফ জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন (SIR) শুরু হওয়ার পর থেকেই অবৈধভাবে ভারতবাসী বেশ কিছু বাংলাদেশী নিজেদের দেশে ফিরে যাচ্ছেন। কাশ্মীরের পহেলগাম হামলার পর বিভিন্ন রাজ্যে অবৈধ বিদেশি শনাক্তকরণের অভিযানও তৎপরতা বাড়িয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গ সীমান্ত দিয়েই দৈনিক প্রায় ১০০ জন বাংলাদেশ ফেরত যাচ্ছেন বলে দাবি বিএসএফের এক সিনিয়র কর্মকর্তার। সাধারণত ছোট ছোট দলে সীমান্তে আসা হলেও হাকিমপুরে একসঙ্গে দেড়শ মানুষের জড়ো হওয়া কিছুটা ব্যতিক্রম বলেই জানিয়েছেন কর্মকর্তা।
হাকিমপুরে নারী-শিশুসহ বড় দল
স্থানীয় সূত্র জানাচ্ছে, দুই দিন ধরে নারী-শিশুসহ বাংলাদেশী নাগরিকরা সীমান্ত চেকপোস্ট থেকে কিছু দূরে রাস্তার ধারে অপেক্ষা করছেন। তাঁদের সঙ্গে রয়েছে ব্যাগ, কম্বল ও জামাকাপড়।
স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় বহুজন জানান—এসআইআর শুরু হওয়ায় তাঁরা আর ভারতে থাকতে পারবেন না। দীর্ঘদিন ধরে বৈধ নথি ছাড়াই দিনমজুরি, গৃহকর্ম বা অন্যান্য পেশায় কাজ করেই তাঁরা সংসার চালাচ্ছিলেন। এছাড়া শুকনো খাবার, জল ও বিস্কুট দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশীদের বক্তব্য
সাতক্ষীরার বাসিন্দা মোমেনা বেগম বলেন, “প্রায় ১৫ বছর ধরে নিউটাউনের ঘূর্ণি অঞ্চলে লোকোর বাড়িতে কাজ করতাম। এখন দেশে ফিরে যাচ্ছি। থাকতে পারব না।”
হাওড়ায় দিনমজুরি করা শহিদুল মল্লিক জানান, “ডোমজুড় এলাকায় থাকতাম। এসআইআর হচ্ছে। আমরা বিদেশি। পেটের জ্বালায় এসেছিলাম, এখন দেশে ফিরছি।”
পাশে দাড়িয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা
প্রথমদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের একটা অংশ খাবার বিক্রি করতে অস্বীকার করছিলেন। এর ফলে অসূবিধার মধ্যে পড়েন তারা। পরে তাঁদের পাশে দাঁড়ান স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বাসিন্দা ও সমাজসেবীরা। ত্রিপল টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে একবেলা করে খিঁচুড়ি খাওয়ানো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
ভুয়া ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগ
এদিকে, বাংলাদেশীদের ‘বিপুল সংখ্যায়’ দেশে ফেরার নামে বেশ কিছু ভুয়া ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়েছে। অল্টনিউজ নিশ্চিত করেছে—তার মধ্যে একটি ভিডিও বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলার মংলার নদীঘাটের।
সীমান্তে কড়াকড়ি বাড়িয়েছে বিজিবি
স্থানীয় সূত্র জানাচ্ছে, এতদিন বাংলাদেশীরা ছোট ছোট দলে সীমান্ত পেরোতে পারলেও সম্প্রতি বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডস এ বিষয়ে কড়াকড়ি শুরু করায় ফেরত যাওয়ার প্রবণতা হঠাৎ বাড়ছে।
বর্তমানে বিএসএফ নজরদারি ও শনাক্তকরণের কাজ করছে, আর বিজিবির কাছে প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হলে তাঁদের দেশে পাঠানো হবে।
আরও পড়ুন: শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের ঢাকার অনুরোধ কি ফিরিয়ে দিতে পারে ভারত? কী বলছে প্রত্যর্পণ চুক্তি
