Homeরাজ্যশিলিগুড়িনতুন বছরের শুরুতেই সুখবর বেঙ্গল সাফারিতে, বিপন্নপ্রায় ম্যানড্রিলের সফল প্রজনন

নতুন বছরের শুরুতেই সুখবর বেঙ্গল সাফারিতে, বিপন্নপ্রায় ম্যানড্রিলের সফল প্রজনন

নতুন বছরের শুরুতেই সুখবর বেঙ্গল সাফারিতে। শিলিগুড়িতে বিপন্নপ্রায় ম্যানড্রিলের সফল প্রজনন। মা ও শাবক দু’জনেই সুস্থ, খুশি বনদপ্তর ও জু কর্তৃপক্ষ।

প্রকাশিত

ইংরেজি নতুন বছরের শুরুতেই নতুন অতিথির আগমনে খুশির হাওয়া শিলিগুড়ির বেঙ্গল সাফারিতে। বাঘ, সিংহ ও হিমালয়ান ব্ল্যাক বিয়ারের পর এবার বিপন্নপ্রায় ম্যানড্রিলের সফল প্রজননে আরও এক নজির গড়ল এই সাফারি পার্ক। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অ্যান্ড নেচার (IUCN)-এর তালিকায় অতি বিপন্নপ্রায় প্রাণী হিসেবেই চিহ্নিত ম্যানড্রিল। সেই প্রজাতির শাবকের জন্মে খুশি বনদপ্তর ও জু-অথরিটি।

রাজ্যে একমাত্র উত্তরবঙ্গের বেঙ্গল সাফারি পার্ক-এই রয়েছে এই বিশেষ প্রজাতির বাঁদর। সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সদ্যোজাত ম্যানড্রিল শাবক ও তার মা—দু’জনেই সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এই সাফল্যকে বড় প্রাপ্তি হিসেবেই দেখছেন কর্তৃপক্ষ।

পৃথিবীর সবচেয়ে রঙিন ও আকর্ষণীয় বাঁদর প্রজাতির মধ্যে ম্যানড্রিল অন্যতম। মূলত আফ্রিকা মহাদেশেই এদের বসবাস। আকারে বড় ও শক্তিশালী এই প্রজাতির পুরুষ ম্যানড্রিল স্ত্রীদের তুলনায় অনেকটাই বড় হয়। উজ্জ্বল রঙিন মুখই ম্যানড্রিলের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য—পুরুষ ম্যানড্রিলের নাকে টকটকে লাল দাগ এবং দু’পাশে নীল রঙের খাঁজ থাকে।

সাফারি পার্ক সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রাণী বিনিময় কর্মসূচির আওতায় জামশেদপুর জুওলজিক্যাল পার্ক থেকে তিনটি ম্যানড্রিল আনা হয়েছিল বেঙ্গল সাফারিতে। পার্কের ডিরেক্টর বিজয় কুমার জানান, প্রায় ২৩ লক্ষ ৫৪ হাজার টাকা খরচ করে ম্যানড্রিলদের জন্য আলাদা এনক্লোজার তৈরি করা হয়েছে। প্রবল শীতের সময় যাতে তাদের কোনও সমস্যা না হয়, তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে সেখানে।

দু’বছরের অপেক্ষার পর সেই উদ্যোগেরই ফল মিলেছে। তিনটি ম্যানড্রিলের মধ্যে বিষ্ণু ও নিয়তি দম্পতি। গত সপ্তাহেই একটি শাবকের জন্ম দিয়েছে নিয়তি। শীতের কথা মাথায় রেখে শাবকের জন্য চটের বস্তা ও খড়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি মা নিয়তির শরীর গরম রাখতে খাবার তালিকাতেও বিশেষ পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

রাজ্যের বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা বলেন, “বিপন্নপ্রায় প্রাণী সংরক্ষণে রাজ্য সরকারের বিশেষ নজর রয়েছে। সেই কারণেই ম্যানড্রিলের প্রজননের উপরও আমরা গুরুত্ব দিয়েছিলাম। দু’বছরের মধ্যেই সাফল্য মিলেছে।”

বেঙ্গল সাফারিতে ম্যানড্রিলের এই সফল প্রজনন রাজ্যে বিপন্নপ্রায় প্রাণী সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আপনার প্রশ্ন, আমাদের উত্তর

সাম্প্রতিকতম

ক্ষেতে নীরব ক্ষতি? কীটনাশকে ভাঙছে কৃষকের মন

পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন কীটনাশক ব্যবহারের ফলে কৃষকদের স্মৃতিশক্তি, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে—নতুন গবেষণায় উঠে এল উদ্বেগজনক তথ্য।

তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও সংক্রান্তিতে কাঁপুনির পূর্বাভাস

দক্ষিণবঙ্গে তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও সংক্রান্তিতে ফের নামবে পারদ। উত্তরবঙ্গের ছয় জেলায় ঘন কুয়াশার সতর্কতা, শীতের দাপট চলবে মাঘের শুরু পর্যন্ত।

বিউটি পার্লারে চুল ধোয়াই ডেকে আনতে পারে স্ট্রোক! জানুন বিপদ

বিউটি পার্লারে চুল ধোওয়া বা বিউটি ট্রিটমেন্টের সময় ভুল ভঙ্গিতে ঘাড় রাখলে হতে পারে ‘বিউটি পার্লার স্ট্রোক সিনড্রোম’। কী এই রোগ, উপসর্গ কী, কারা বেশি ঝুঁকিতে—জানুন বিস্তারিত।

এজলাসে হইচই, আইপ্যাক মামলার শুনানি স্থগিত

এজলাসে ভিড় ও হইচইয়ের জেরে আইপ্যাক সংক্রান্ত জোড়া মামলার শুনানি শুরু করা গেল না। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ শুনানি ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মুলতুবি রাখায় কলকাতা হাই কোর্টে রাজনৈতিক ও আইনি উত্তেজনা বেড়েছে।

আরও পড়ুন

ধসে বিপর্যস্ত! মেরামতির জন্য বন্ধ থাকবে পশ্চিমবঙ্গ-সিকিম সড়ক, কত দিন জেনে নিন

দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ে ভয়াবহ ধসের জেরে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত। ১৩ থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত সেবক থেকে রংপো পর্যন্ত রাস্তায় সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা। বিকল্প পথে পর্যটকদের যাতায়াতের ব্যবস্থা করছে প্রশাসন।

পাহাড়ে ঘন ঘন ভূমিধস: নেপথ্যে কি উন্নয়নের চাপ ও নিয়ন্ত্রণহীন পর্যটন! কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

দার্জিলিং ও কালিম্পঙে লাগাতার ধস ও বন্যার কারণ হিসেবে উঠে এল বেপরোয়া নির্মাণ, পাহাড় কেটে রাস্তা ও হোটেল তৈরি, এবং নিয়ন্ত্রণহীন পর্যটন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই পদক্ষেপ না নিলে পাহাড়ের ক্ষতি হবে স্থায়ী।

উত্তরবঙ্গে বন্যা ও অতিবৃষ্টিতে একাধিক ট্রেন বাতিল, পর্যটকদের জন্য বিশেষ বাস পরিষেবা

উত্তরবঙ্গে প্রবল বর্ষণ ও বন্যার জেরে আলিপুরদুয়ার ডিভিশনে একাধিক ট্রেন বাতিল, ঘুরপথে চালানো ও সংক্ষিপ্ত রুটে থামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল।