ইংল্যান্ড: ১৭২ (হ্যারি ব্রুক ৫২, ওলি পোপ ৪৬, মিচেল স্টার্ক ৭-৫৮, ব্রেনড্যান ডোগেট ২-২৭) ও ১৬৪ (গাস অ্যাটকিনসন ৩৭, স্কট বোল্যান্ড ৪-৩৩, ব্রেনড্যান ডোগেট ৩-৫১, মিচেল স্টার্ক ৩-৫৫)
অস্ট্রেলিয়া: ১৩২ (অ্যালেক্স ক্যারি ২৬, বেন স্টোক্স ৫-২৩, ব্রাইডন কার্স ৩-৪৫) ও ২০৫-২ (ট্র্যাভিস হেড ১২৩, মার্নাস লাবুশানে ৫১ নট আউট, ব্রাইডন কার্স ২-৪৪)
খবর অনলাইন ডেস্ক: অ্যাশেজ সিরিজে ১০৪ বছর পর আবার ঘটল এই কাণ্ড। ১৯২১ সালে নটিংহ্যাম টেস্টের ফয়সালাও দু’দিনেই হয়েছিল এবং সেই টেস্টেও জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া। একই সঙ্গে টেস্টের দ্রুত ফয়সালার নিরিখে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সকে হারিয়ে দিল অস্ট্রেলিয়ার পার্থ। ইডেনে প্রায় সপ্তাহখানেক আগে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে প্রথম টেস্টে হার স্বীকার করেছিল ভারত। সেই টেস্ট শেষ হয়ে গিয়েছিল আড়াই দিনে। সেই টেস্টে খেলা গড়িয়েছিল ২০৪ ওভার। আর পার্থে খেলা শেষ হয়ে গেল দু’দিনেই, ১০৪ ওভারেই।
অ্যাশেজের প্রথম টেস্টে ইংল্যান্ডকে বিধ্বস্ত করে জিতল অস্ট্রেলিয়া। পার্থে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ট্রাভিস হেডের বিধ্বংসী সেঞ্চুরির উপর ভর করে করল আয়োজক দেশ। হেড মাত্র ৬৯ বলে সেঞ্চুরি তুলে নেন, যা অ্যাশেজ ইতিহাসের দ্বিতীয় দ্রুততম শতক। তার ১২৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংসের সুবাদে ২০৫ রানের লক্ষ্য অস্ট্রেলিয়া পূরণ করে মাত্র ২৮.২ ওভারে, আট উইকেট হাতে রেখে।
ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংসে ৪০ রানের লিড পেয়েছিল। টসে জিতে তারা ব্যাট নেয় এবং প্রথম ইনিংসে করে ১৭২ রান। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস তারা শেষ করে দেয় ১৩২ রানে। ফলে তারা ৪০ রানের লিড পায়। কিন্তু ব্যাটিং ব্যর্থতায় ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে ভেঙে পড়ে।

বল হাতে খেল দেখালেন মিচেল স্টার্ক। ছবি ‘X’ থেকে নেওয়া।
ইংল্যান্ডের শেষ ৯ উইকেটের পতন ৯৯ রানে
মিচেল স্টার্কের দুর্ধর্ষ বোলিং—ম্যাচে ১০ উইকেট—ইংলিশ ব্যাটিংকে শুরু থেকেই চাপে রেখেছিল। ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে স্টার্ক ৭ উইকেট নেন ৫৮ রানে এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেট দখল করেন ৫৫ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৩৪.৪ ওভারে ১৬৪ রানে অলআউট হয়ে যায় বেন স্টোকসের দল। একপর্যায়ে ১১ ওভারে ৩৯ রানে ছয় উইকেট হারিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি হাতছাড়া করে তারা।
ওলি পোপ, হ্যারি ব্রুক ও জো রুট— ছয় বলের মধ্যে এই তিন ব্যাটার প্যাভিলিয়নে চলে যাওয়ায় ইংল্যান্ডের মিড্ল অর্ডার ধসে পড়ে। শেষ দিকে গাস অ্যাটকিনসন ও ব্রাইডন কার্স অর্ধশত রানের জুটি গড়লেও দলকে বিপর্যয় থেকে ফেরাতে তা যথেষ্ট ছিল না। শেষ নয় উইকেট পড়ে মাত্র ৯৯ রানে।
আগ্রাসী ব্যাটিং অস্ট্রেলিয়ার
জয়ের জন্য ম্যাচের সর্বোচ্চ রান তাড়া করতে নেমেও দারুণ আগ্রাসী ব্যাটিং দেখায় অস্ট্রেলিয়া। ইংল্যান্ডের পেসাররা, যারা মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে অস্ট্রেলিয়াকে বিপদে ফেলেছিল, এবার সম্পূর্ণ ব্যর্থ। পার্থ স্টেডিয়ামের দর্শকরা হেডের ব্যাটিং তাণ্ডবে মেতে ওঠে। আর তাণ্ডবে হেডের সঙ্গী ছিলেন মার্নাস লাবুশানে। তিনি ৫১ রান করে নট আউট থাকেন।
এই জয়ের ফলে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল অস্ট্রেলিয়া। টানা ১৬ টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ইংল্যান্ডের জয়শূন্য থাকার হতাশাজনক পরিসংখ্যান আরও দীর্ঘ হল। এই টেস্টে স্বাভাবিক ভাবেই ‘প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ’ হলেন মিচেল স্টার্ক। সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট আগামী ৪ ডিসেম্বর ব্রিসবেনে ডে-নাইট ম্যাচ হিসেবে শুরু হবে।


