দেশ, বিদেশ ও রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে নজর রাখুন খবর অনলাইনের লাইভ আপডেটের পাতায়। সর্বশেষ ঘটনাটি সবচেয়ে ওপরে দেখা যাবে।
দুবাই এয়ার শোতে প্রদর্শনের সময় ভেঙে পড়ল ভারতের তেজস যুদ্ধবিমান। শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেল ২টা ১০ মিনিটে আল মাকতুম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে ঘটে দুর্ঘটনাটি। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রদর্শনের সময় হঠাৎ বিমানটি নিচের দিকে নেমে আসে এবং কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই রানওয়ে সংলগ্ন ভবনের আড়ালে গিয়ে আছড়ে পড়ে। মুহূর্তেই আকাশে উঠে যায় ঘন কালো ধোঁয়ার স্তম্ভ।
এক আসনের এই লাইট কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট (LCA) হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL)-এর তৈরী। ইন্ডিয়ান এয়ার ফোর্স এক্স-এ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় পাইলটের মৃত্যু হয়েছে। শোকবার্তায় আইএএফ লিখেছে—“তেজস বিমানটি আজ দুবাই এয়ার শো-তে দুর্ঘটনায় পড়ে। পাইলট মারা গিয়েছেন। আমরা তাঁর পরিবারের প্রতি গভীর সহানুভূতি জানাচ্ছি। দুর্ঘটনের কারণ জানতে আদালতীয় তদন্ত শুরু করা হবে।”
গত দুই বছরের মধ্যে এটি দ্বিতীয় তেজস দুর্ঘটনা। এর আগে ২০২4 সালের মার্চ মাসে রাজস্থানের যাইসলমেরে ভেঙে পড়ে এক তেজস বিমান, যদিও তখন পাইলট ইজেক্ট করে প্রাণে বাঁচেন।
দুবাই এয়ার শো-র দর্শক ও কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে দুর্ঘটনার মুহূর্তে। প্রদর্শনী চলাকালীন তেজসের আচমকা উচ্চতা কমে যাওয়া এবং পরে বিস্ফোরণের মতো শব্দ শোনা যায় বলে জানিয়েছেন অনেকে।
বাংলাদেশে ভূমিকম্পে মর্মান্তিক ঘটনা—মৃত্যু হয়েছে তিন জনের, আহত হয়েছেন ৫০-রও বেশি মানুষ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোর প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে, ঢাকার কসাইটুলি এলাকায় একটি বহুতলের রেলিং ধসে পড়ে পথচারীদের উপর। ধ্বংসাবশেষে চাপা পড়েই মৃত্যু হয় তিন জনের, যাঁদের মধ্যে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাফিউল ইসলামও রয়েছেন।
এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে রাস্তার ধারের দেওয়াল ধসে প্রাণ হারিয়েছে ১০ মাসের একটি শিশু। আহতদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং গাজীপুরের তাজউদ্দীন মেডিক্যালে ভর্তি করানো হয়েছে। দমকল ও পুলিশ ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে।
সাতসকালে বরাহনগরের নর্দান পার্ক এলাকায় দুষ্কৃতীদের গুলিতে অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন সরকারি কর্মী বিকাশ মজুমদার। শুক্রবার সকালে আবর্জনা ফেলে ফেরার পথে মোটরবাইকে আসা দুই দুষ্কৃতী তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় প্রাণহানি হয়নি, তবে বারুদের ছিটে তাঁর গায়ে লেগে আহত হন।
বিকাশ জানিয়েছেন, তাঁর কোনও শত্রুতা বা বিবাদ নেই। স্থানীয়রাও তাঁকে অত্যন্ত শান্তিপ্রিয় মানুষ হিসেবে চেনেন। কেউ কেউ মনে করছেন, দুষ্কৃতীরা ভাড়াটে হতে পারে, অন্যরা অনুমান করছেন— লক্ষ্য ভুল হয়েছিল। ঘটনাস্থলে বরাহনগর থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
শুক্রবার সকালে হঠাৎই ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। সকাল ১০টা ৮ মিনিট নাগাদ মাঝারি তীব্রতার কম্পন অনুভূত হয়। সামাজিক মাধ্যমে বহু বাসিন্দা দাবি করেছেন, কম্পনের সময় ঘরের পাখা, চেয়ার, টেবিল দুলে ওঠে। আকস্মিক কাঁপনে আতঙ্কিত হয়ে অনেকেই বাড়ি থেকে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।
কলকাতার পাশাপাশি হুগলি, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার কিছু অংশেও কম্পন টের পাওয়া গিয়েছে। বাংলাদেশেও স্পষ্টভাবে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের দাবি।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের কেন্দ্র বাংলাদেশের নরসিংদী, ঢাকা থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার পশ্চিমে। সংশ্লিষ্ট ভূকম্পবিদ্যা দফতর জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫.৫।
কম্পন অনুভূত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো বড় ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা সামনে আসেনি। তবুও প্রশাসন সতর্ক রয়েছে এবং পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে।
