কলকাতা: কলকাতার বিশেষ কয়েকটি বারোয়ারি এখনও দশমীতে বিসর্জন দেওয়ার প্রথা মেনে আসছে। এ ছাড়া বাড়ি ও আবাসনের পুজোর প্রতিমা সাধারণত দশমীতে বিসর্জন দেওয়া হয়। প্রতিমা নিরঞ্জনের জন্য বুধবার কলকাতার প্রত্যেকটি ঘাটে বিশেষ ব্যবস্থা রাখছে পুলিশ-প্রশাসন।

১৬টি গঙ্গার ঘাটে প্রতিমা নিরঞ্জনের ব্যবস্থা

শারদোৎসবের সমাপ্তি পর্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল প্রতিমা নিরঞ্জন। সমস্ত রকমেরই প্রস্তুতি সেরে রেখেছে কলকাতা পুরসভা।

পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সকাল থেকে কলকাতার ১৬টি গঙ্গার ঘাটেই প্রতিমা নিরঞ্জনের ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিটি ঘাটেই রয়েছে ক্রেন। ঘাটে উপস্থিত কলকাতা পুরসভার স্বেচ্ছাসেবক, স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রতিনিধিদল। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই মূলত বাড়ির প্রতিমাগুলিই বিসর্জন হবে বলে মনে করছেন পুরসভার আধিকারিকরা। তাই অনেক ক্ষেত্রেই তাঁদের ওপর চাপ কিছুটা হলেও কম থাকবে বলে মনে করছেন তাঁরা।

এই বিসর্জন প্রক্রিয়ায় গঙ্গা যাতে কোনো ভাবেই দূষিত না হয়, সেদিকেই নজর রাখা হচ্ছে। তাই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দুর্গা প্রতিমাগুলি জলে পড়লেই কাঠামোগুলি ক্রেন দিয়ে তুলে নিতে হবে। জানা গিয়েছে, দশমীতে ১০০০-১২০০ প্রতিমা বিসর্জন হবে ধরেই প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

বিসর্জনের শোভাযাত্রায় নিষিদ্ধ ডিজে

কলকাতার বেশিরভাগ বারোয়ারি পুজোর বিসর্জন হবে না দশমীতে। তার উপর নবমীর মধ্যে যাদের ঠাকুর দেখা শেষ হবে না, সেই দর্শনার্থীদের ভিড় থাকবে বড় মণ্ডপগুলিতে। তাই একদিকে যেমন কলকাতার বড়ো মণ্ডপগুলিতে থাকবে পুলিশি ব্যবস্থা, তেমনই প্রত্যেকটি ঘাটেও থাকছে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ।

দশমীর দুপুর থেকেই কলকাতার ৩৫টি ঘাটে থাকছে জোরদার পুলিশি ব্যবস্থা। এর মধ্যে শুধু পানি ঘাটে বিসর্জন হবে না। বাকি ৩৪টি ঘাটে প্রতিমা বিসর্জন হবে। তার জন্য ইতিমধ্যেই পুরসভার কর্তাদের সঙ্গে পুলিশকর্তারাও ঘাট পরিদর্শন করেছেন। পরিষ্কার রাখা হয়েছে সবকটি ঘাট। ঘাটগুলিতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। একইসঙ্গে বিসর্জনের জন্য দক্ষিণ শহরতলি ও বেহালা অঞ্চলের মোট ৩৪টি পুকুর, সরোবর ও ঝিল শনাক্ত করা হয়েছে। সেগুলিতও থাকছে পর্যাপ্ত পুলিশি ব্যবস্থা। নিরাপত্তার জন্য কলকাতা, এমনকী হাওড়ার দিকের ঘাটগুলির আশপাশে টহল দেবে কলকাতার জল পুলিশের চারটি লঞ্চ। গোয়ালিয়র ঘাট, আউট্রাম ঘাট ও নিমতলা ঘাটে থাকছে তিনটি পুলিশ ক্যাম্প।

উল্লেখযোগ্য ভাবে, বিসর্জনের শোভাযাত্রায় নিষিদ্ধ ডিজে। কোনও পুজো কমিটি যাতে ডিজে না বাজায়, সে দিকে কড়া নজর রাখবেন কলকাতার ২৩৮টি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পিকেটে থাকা পুলিশকর্মী ও আধিকারিকরা।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন