
অজন্তা চৌধুরী
ডিসেম্বরের ১৮ থেকে ২০ তারিখ পর্যন্ত বালিগঞ্জের দাগা নিকুঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এক অভিনব অনুষ্ঠান – ‘ফেব্রিক অফ মিউজিক’। উদ্যোগ ও আয়োজনে উইভার্স স্টুডিও এবং সৌমিক দত্ত আর্টস (যুক্তরাজ্য)। অনুষ্ঠানটির সহযোগিতায় ছিল সংগীত আশ্রম এবং অলকা জালান ফাউন্ডেশন। সংগীত, বস্ত্র ঐতিহ্য, গল্পকথন এবং শিল্পচর্চার এক অপূর্ব মেলবন্ধন রচিত হয় এই অনুষ্ঠানে।
১৮ এবং ১৯ ডিসেম্বর এই দু’দিনই শিল্প কর্মশালার আয়োজন করা হয়, যাতে যোগ দেন ১৮-৩৫ বছর বয়সি ১৫-২০ জন সংগীতশিল্পী। সৌমিক দত্তের নেতৃত্বে এবং পরামর্শে এই কর্মশালায় টেক্সটাইল ঐতিহ্য, সাউন্ড ম্যাপিং অনুশীলন, কোলাবরেটিভ ইমপ্রভাইজেশন প্রভৃতি বিষয়ে আলোচনা ও মতামত বিনিময় হয়।
শেষ দিনের অনুষ্ঠানে একক সরোদবাদন পরিবেশন করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সরোদশিল্পী সৌমিক দত্ত, সঙ্গে তবলায় ছিলেন দেবজিৎ পতিতুন্ড। সৌমিক সরোদে রাগ কৌশিকী কানাড়া-তে আলাপ-জোড়ের পর শোনালেন বিলম্বিত ঝাঁপতাল এবং তিনতালে মধ্যলয় গত। এর পর দ্রুত ঝালা দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ করেন। সরোদের সুরে সুরময় হয়ে ওঠে উপস্থাপনা। দেবজিৎ পতিতুন্ডর তবলাসঙ্গতও ছিল সমান উপভোগ্য।
সৌমিক দত্ত কেবলমাত্র একজন ধ্রুপদী সরোদ শিল্পীই নন, একই সঙ্গে সুরকার, ব্যান্ডলিডার এবং বিবিসি উপস্থাপক। ইতিমধ্যে শিল্পী আগা খান সংগীত সম্মানেও তিনি ভূষিত। ‘ভোগ’ ম্যাগাজিনের ভাষায়, তিনি ব্রিটেনের সেরা সংগীত প্রতিভাদের একজন। কিংবদন্তি সরোদশিল্পী পণ্ডিত বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের ছাত্র সৌমিক বিশ্বমঞ্চে ভারতীয় ধ্রুপদী সংগীতকে তুলে ধরার কাছে ব্রতী আছেন। তিনি বিবিসি প্রমস, গ্লাসটনবেরি ফেস্টিভ্যাল, ব্রিটেনের ওয়ার্ল্ড অফ মিউজিক আর্ট অ্যান্ড ডান্স, সেন্ট পলস ক্যাথিড্রাল-সহ অনেক আন্তর্জাতিক মঞ্চে যন্ত্রসংগীত পরিবেশন করেছেন। বিয়ন্সে, জে-জেড, নীতিন সনওয়ানে, জস স্টোন, অনুষ্কা শঙ্কর এবং অরিজিৎ সিংহের মতো শিল্পীদের সঙ্গে সুনামের সঙ্গে কাজ করেছেন। এখন তিনি ফিলহারমোনিয়া অর্কেস্ট্রার আর্টিস্ট ইন রেসিডেন্স।
২০ ডিসেম্বর ফেব্রিক অফ মিউজিক ফেস্টিভ্যালে বাংলার টেক্সটাইল ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার নিয়ে ‘টেক্সটাইলস অফ দ্য বেঙ্গল ডেল্টা: এপার ওপার’ নামে একটি তথ্যচিত্রও দেখানো হয়। এই চলচ্চিত্রটিতে বিশ্বব্যাপী টেক্সটাইল বাণিজ্যে বাংলার ঐতিহাসিক আধিপত্য – উপনিবেশ স্থাপন ও দেশভাগের মাধ্যমে এর ভাঙন, এর চলমান স্থিতিস্থাপকতা এবং পুনরুজ্জীবনের একটি সুস্পষ্ট চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে।