দীর্ঘ অনিশ্চয়তার অবসান। All India Football Federation (AIFF) ঘোষণা করেছে, ২০২৫-২৬ মরসুমের Indian Super League (ISL) আয়োজন করবে তারাই। এআইএফএফ-এর জরুরি কমিটি (Emergency Committee) আইএসএল–এআইএফএফ কো-অর্ডিনেশন কমিটির রিপোর্ট পর্যালোচনা করার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। লিগ শুরুর দিনক্ষণ আগামী সপ্তাহে ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে ফেডারেশন।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রাক্তন বাণিজ্যিক স্বত্বাধিকারীর সঙ্গে মাস্টার রাইটস অ্যাগ্রিমেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকেই আইএসএল শুরুর বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এআইএফএফ-এর নির্দেশ অনুযায়ী, কো-অর্ডিনেশন কমিটি ২০২৫ সালের ২ জানুয়ারি তাদের রিপোর্ট জমা দেয়। সেই রিপোর্ট আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছে জরুরি কমিটি।
কমিটির সুপারিশে বলা হয়েছে, লিগ শুরু নিয়ে আর দেরি না করে দ্রুত সূচি ঘোষণা করা উচিত। পাশাপাশি, কোনও ক্লাব যদি অংশগ্রহণে অস্বীকার করে, তবে তাকে অযোগ্য ঘোষণা করে অবিলম্বে নিম্ন ডিভিশনে নামিয়ে দেওয়ার সুপারিশও করা হয়েছে।
পরিচালনাগত দিক থেকে কমিটি জানিয়েছে, রেফারিদের খরচ ও সম্প্রচার (ব্রডকাস্ট) প্রোডাকশনের ব্যয় বহন করবে এআইএফএফ। তবে ক্লাবগুলিকেই আগের মরসুমগুলির মতো নিজেদের হোম ম্যাচ আয়োজন করতে হবে। এছাড়াও প্রতিটি ক্লাবের জন্য ১ কোটি টাকা করে অংশগ্রহণ ফি ধার্য করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
যদিও এই অংশগ্রহণ ফি নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে। সূত্রের খবর, ক্লাবগুলিকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ওই ১ কোটি টাকা জমা দেওয়ার সময়সীমা দেওয়া হতে পারে। বিশেষ ক্ষেত্রে চলতি মরসুমে অপারেশনাল খরচের একটি অংশ এআইএফএফ বহন করতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
প্রতিযোগিতার ফরম্যাট নিয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বাকি। এআইএফএফ একদিকে হোম ও অ্যাওয়ে ভিত্তিক সিঙ্গল-লিগ ফরম্যাট, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ভেন্যুতে আয়োজন— এই দুই বিকল্প নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছে। যদি সব ১৪টি দল অংশ নেয়, তবে প্রতিটি দল প্রায় ১৩টি করে ম্যাচ খেলবে। ফরম্যাট চূড়ান্ত হওয়ার পর এআইএফএফ, Asian Football Confederation (AFC)-এর ২৪ ম্যাচের নিয়ম থেকে ছাড় (exemption) চাওয়ার পরিকল্পনাও করছে, যাতে মহাদেশীয় প্রতিযোগিতায় যোগ্যতা নির্ধারণে সমস্যা না হয়।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ১ জানুয়ারি ১৪টি আইএসএল ক্লাবের মধ্যে ১৩টি ক্লাব এআইএফএফ-কে চিঠি দিয়ে জানায়, যদি অংশগ্রহণ ফি না নেওয়া হয় এবং প্রতিযোগিতার আর্থিক দায় এআইএফএফ নেয়, তাহলে তারা খেলতে রাজি। পাশাপাশি ক্লাবগুলি লিগের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে একটি স্পষ্ট ও সময়বদ্ধ রোডম্যাপ চেয়েছে— যেখানে নতুন কমার্শিয়াল পার্টনার বা ব্রডকাস্টার নিয়োগ এবং আর্থিকভাবে স্বনির্ভর লিগ গঠনের সময়সীমা উল্লেখ থাকবে।
ক্লাবগুলির আরও দাবি, আইএসএল মরসুমকে টেকসই করতে কেন্দ্রীয় সরকার বা প্রাতিষ্ঠানিক স্তর থেকে আর্থিক ও বাণিজ্যিক সহায়তা পাওয়ার বিষয়েও উদ্যোগ নিক এআইএফএফ।
সব মিলিয়ে, এআইএফএফের এই সিদ্ধান্তের ফলে ২০২৫-২৬ মরসুমের আইএসএল আয়োজন নিয়ে তৈরি হওয়া জট অনেকটাই কাটল বলেই মনে করছেন ভারতীয় ফুটবল মহলের একাংশ।
