নিউজিল্যান্ড: ৩০০-৮ (ড্যারিল মিচেল ৮৪, হেনরি নিকোলস ৬২, ডেভন কোনওয়ে ৫৪, মহম্মদ সিরাজ ২-৪০, প্রসিধ কৃষ্ণ ২-৬০, হর্ষিত রানা ২-৬৫)
ভারত: ৩০৬-৬ (৪৯ ওভার) (বিরাট কোহলি ৯৩, শুভমন গিল ৫৬, ঋষভ পন্থ ৪৯, কাইল জেমিসন ৪-৪১)
খবর অনলাইন ডেস্ক: বডোদরার কোটাম্বি স্টেডিয়ামে প্রথম পুরুষদের ক্রিকেটে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচে দর্শকরা পেলেন এক রুদ্ধশ্বাস ফিনিশের উত্তেজনা। তবে যে ম্যাচ বেশির ভাগ সময় জুড়ে ভারতের কব্জায় ছিল, সেই ছবি বদলে যেতে শুরু করেছিল মাত্র সাত বলেই।
কাইল জেমিসনের ৭ বলের খেল
শেষ চারটি একদিনের ম্যাচে ৭৪ নট আউট, ১৩৫, ১০২ ও ৬৫ নট আউট — এই ধারাবাহিকতায় বিরাট কোহলি যেন ঘোষণা করে দিয়েছিলেন, তিন অঙ্কে না পৌঁছে আর আউট হওয়ার ইচ্ছে নেই তাঁর। ৩০১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারত যখন স্বচ্ছন্দে এগোচ্ছে, তখন কোহলি ৯৩ রানে অপরাজিত, ম্যাচের লাগাম পুরোপুরি তাঁর হাতে।

৭ বলে ৪ উইকেট নিয়ে খেল দেখালেন কাইল জেমিসন। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। ছবি এক্স থেকে নেওয়া।
ঠিক তখনই দৃশ্যপটে পরিচিত এক ‘নেমেসিস’। টেস্ট ক্রিকেটে বহুবার কোহলি ও ভারতকে ভুগিয়েছেন কাইল জেমিসন। প্রথম ওয়ানডেতেও ব্যতিক্রম হল না। মাত্র সাত বলের ব্যবধানে কোহলি, রবীন্দ্র জাদেজা ও শ্রেয়স আইয়ারকে ফিরিয়ে ম্যাচে নতুন প্রাণ ফেরালেন তিনি।
কিছুক্ষণ আগেও যেখানে জয়ের পথ নির্ভার ছিল ভারতের, সেখানে হঠাৎ সমীকরণ দাঁড়াল ৫৩ বলে ৫৯ রান, হাতে পাঁচ উইকেট। চোটের কারণে ওয়াশিংটন সুন্দর পুরোপুরি দৌড়োতে পারছিলেন না, আর নতুন ব্যাটারদের একজন ছিলেন মূলত নীচের সারির ব্যাটার হর্ষিত রানা।
মোড় ঘোরালেন হর্ষিত রানা, কেএল রাহুল
এই চাপের মুহূর্তেই নিজের সাহসী ইনিংসে ম্যাচের মোড় ঘোরালেন রানা। ২৩ বলে ২৯ রানের কার্যকর ইনিংস খেলে তিনি ষষ্ঠ উইকেটে কেএল রাহুলের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ৩৭ রানের জুটি গড়েন। মাঝপথে ড্যারিল মিচেলের হাতে মিডউইকেট বাউন্ডারিতে জীবন পেলেও সুযোগের সদ্ব্যবহার করেন রানা।
শেষ দিকে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে দৌড়োনো ওয়াশিংটন ও ঠান্ডা মাথার রাহুল একের পর এক সিঙ্গেল তুলে নিয়ে ম্যাচ এগিয়ে নেন। শেষ ওভারে প্রয়োজন যখন ৯ রান, তখন অভিষেক হওয়া ক্রিস্টিয়ান ক্লার্ককে টানা ৪, ৪, ৬ হাঁকিয়ে ছয় বল বাকি থাকতেই জয় নিশ্চিত করেন রাহুল।

ইনিংস গড়ছিলেন শুভমন আর বিরাট।
কোহলির ইনিংসে পুরোনো-নতুন মেলবন্ধন
এর আগে কোহলির ইনিংস ছিল পুরোনো ও নতুন যুগের মেলবন্ধন। শুরুতে আক্রমণাত্মক—প্রথম ২০ বলে ছয়টি চার। এর পর তিনি হয়ে ওঠেন ম্যাচের নিয়ন্ত্রক, যেন ফুটবলের গভীর প্লে-মেকার। ৭৫ থেকে ৭৯ রানে যাওয়ার পথে মিডল ওভারের ফিল্ডিং বিধিনিষেধকে কাজে লাগিয়ে ক্লার্ককে যে ভাবে ব্যাকওয়ার্ড স্কোয়ার লেগ দিয়ে বাউন্ডারি মারলেন, তা ছিল নিখুঁত ব্যাটিং-বুদ্ধির উদাহরণ।
তবে শতকের কাছাকাছি এসে জেমিসনের বলে মিড-অফ পার করতে না পেরে থামতে হয় তাঁকে। এর পর জাদেজা ও আইয়ারের বিদায়ে ভারতের ইনিংস হঠাৎই দুলে ওঠে। বডোদরার কালো মাটির পিচে ক্রস-সিম ডেলিভারির সামান্য আচরণ বদলই শট নির্বাচনে ভুলের খেসারত আদায় করে নেয়।

‘প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ’ হিসাবে সম্মানিত হওয়ার পরে নিজের প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন কোহলি। ছবি BCCI ‘X’ থেকে নেওয়া।
আশা জাগিয়েও জমে উঠল না কিউয়িদের জুটি
নিউজিল্যান্ডের ইনিংসেও শুরুটা ছিল আশাব্যঞ্জক। ডেভন কনওয়ে ও হেনরি নিকোলস প্রথম উইকেটে যোগ করেন ১১৭ রান। তবে ভারতীয় বোলাররা রানরেট কখনোই লাগামছাড়া হতে দেননি। হর্ষিত রানা দুই ওপেনারকেই ফেরান—নিকোলসকে ধীরগতির ওয়াইড ইয়র্কারে ও কনওয়েকে ইনডিউসারের ভেতরের কানায় বোল্ড করে।
এর পর একাধিক সম্ভাবনাময় জুটি তৈরি হলেও ঠিক জমে ওঠার আগেই ভেঙে পড়ে। কুলদীপ যাদব ফেরান গ্লেন ফিলিপসকে। ড্যারিল মিচেল ৫১ বলে হাফ-সেঞ্চুরি করে দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন। ৪৮তম ওভারে প্রসিধ কৃষ্ণের ওভারে ৪, ৬, ৪। এর মধ্যে শর্ট ফাইন লেগের ওপর দিয়ে স্কুপ করা চার ছিল ইনিংসের হাইলাইট। তবে পরের বলেই এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরতে হয় তাঁকে।
তিন ম্যাচের সিরিজে প্রথম ম্যাচে এক ওভার বাকি থাকতেই নিউজিল্যান্ডকে চার উইকেটে হারিয়ে ভারত এগিয়ে থাকল ১-০ ফলে। স্বাভাবিক ভাবেই ‘প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ’ হলেন বিরাট কোহলি।


