কলকাতা লিগ: এগিয়ে থেকেও ড্র মহমেডান স্পোর্টিং-এর সঙ্গে, সুপার সিক্সের দরজায় পৌঁছোল মোহনবাগান

0

মহমেডান স্পোর্টিং ক্লাব ২ (রেমসাঙ্গা, ফৈয়াজ)   মোহনবাগান সুপার জায়েন্ট ২ (কিয়ান, টাইসন)

নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রথমার্ধে গোল করে এগিয়ে গিয়েছিল মহমেডান স্পোর্টিং। দ্বিতীয়ার্ধে সমতা ফিরিয়ে এগিয়ে যায় মোহনবাগান সুপার জায়েন্ট। ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ের শেষ দিকে যখন মনে হচ্ছিল এই ম্যাচ জিতেই মোহনবাগান কলকাতা লিগের সুপার সিক্সে যাবে, ঠিক তখনই ম্যাচে সমতা ফেরায় সাদা-কালো ব্রিগেড। যার ফলে সুপার সিক্সের দরজায় পৌঁছেও ঢুকতে পারল না সবুজ-মেরুন।

এ দিনের খেলার পর ১২ ম্যাচ থেকে ২৯ পয়েন্ট সংগ্রহ করে গ্রুপ ‘এ’-র শীর্ষে থাকল মহমেডান স্পোর্টিং। আপাতত দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ডায়মন্ড হারবার এফসি। ১১ ম্যাচ থেকে তাদের সংগ্রহ ২৬ পয়েন্ট। তারাও সুপার সিক্সে চলে গিয়েছে।  বৃহস্পতিবার ১ পয়েন্ট পেয়ে মোহনবাগানের সংগ্রহ হল ২৪ পয়েন্ট। কালীঘাটেরও সংগ্রহ ১২ ম্যাচ থেকে ২৪ পয়েন্ট। কালীঘাটের থেকে গোলপার্থক্যে ৫ গোলে এগিয়ে আছে। মোহনবাগানের শেষ খেলা ডায়মন্ড হারবারের সঙ্গে। সেই খেলায় মোহনবাগান ৬ গোলের পার্থক্যে হারবে না, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

প্রথমার্ধে মহমেডান ১-০ এগিয়ে

কল্যাণী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ, প্রতি-আক্রমণ চলছিল। কিন্তু ২০ মিনিটের মাথায় গোল করে এগিয়ে যায় মহমেডান। পেনাল্টি বক্সের বাঁ দিক থেকে নেওয়া রেমসাঙ্গার জোরালো শট জড়িয়ে যায় মোহনবাগানের জালে। ২৭ মিনিটের মাথায় গোলের সহজ সুযোগ হাতছাড়া করে মোহনবাগান। মহামেডানের ফাঁকা জালে বল ব্যর্থ হন কিয়ান নাসিরি।

৩৬ মিনিটের মাথায় লিড বাড়ানোর সুযোগ হাতছাড়া করে মহামেডান। বাগানের গোলকিপার জাহিদের ব্যাকশট থেকে বল ধরে বাঁ পায়ে জোরালো শট নেন জুইডিকা। বল চলে যায় মোহনবাগানের ক্রসবারের উপর দিয়ে। ৪০ মিনিটের মাথায় গোল করার সুযোগ হারায় মোহনবাগান। বিরতিতে ১-০ গোলে এগিয়ে থাকে মহমেডান।

দ্বিতীয়ার্ধে ৩ গোল

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে মোহনবাগান। মহমেডানের বক্সের ঠিক মাথায় জোড়া ফ্রি কিক পেয়ে যায় মোহনবাগান। ৪৭ মিনিটের মাথায় টাইসনকে আটকাতে ফাউল করেন মহামেডানের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়। তবে ফ্রি-কিক থেকে গোল করতে পারেনি সবুজ-মেরুন। দু’ মিনিট পরেই ফের ভালো জায়গা থেকে ফ্রি কিক পায় মোহনবাগান। এ বারেও শট মাঠের বাইরে চলে যায়। ৫৪ মিনিটের মাথায় দলকে গোল খাওয়া থেকে রক্ষা করেন মহমেডানের গোলকিপার বিয়াকা। কিয়ানের কর্নার থেকে ভাসানো বলে দুরন্ত হেড নেন দীপেন্দু। সেই হেড দারুণ ভাবে সেভ করেন বিয়াকা।

ক্রমান্বয়ে চেষ্টার পর ৫৮ মিনিটের মাথায় ম্যাচে সমতা ফেরায় মোহনবাগান। মহমেডান বক্সের ডানে দিকে উঁচু বল বুকে নিয়ে পায়ে নামান কিয়ান। তার পরে পায়ের হালকা টাচে বিয়াকার মাথার উপর দিয়ে মহমেডানের জালে বল জড়িয়ে দেন তিনি।

৮০ মিনিটের দুর্দান্ত গোল করে দলকে এগিয়ে দেন টাইসন সিং। বক্সের ঠিক বাইরে থেকে বাঁ পায়ের বাঁকানো শটে মহামেডানের গোলে বল পাঠিয়ে দেন টাইসন। গোলকিপার বিয়াকার নাগাল এড়িয়ে প্রথম পোস্ট ঘেঁষে গড়িয়ে গিয়ে বল জড়িয়ে যায় জালে। মোহনবাগান ২-১ গোলে এগিয়ে যায়।

ঠিক যে মুহূর্তে মনে হচ্ছিল গ্রুপের শীর্ষস্থানে থাকা মহমেডানকে হারিয়ে মোহনবাগান সুপার সিক্সে চলে যাচ্ছে ঠিক সেই সময়ে গোল করে বসে সাদা-কালো। অতিরিক্ত সময়ের শেষ মিনিটে হেড করে মোহনবাগানের জালে বল জড়িয়ে দেন ফৈয়াজ। ২-২ গোলে ম্যাচ ড্র হয়। একই সঙ্গে মোহনবাগানের সুপার সিক্সে কিছুটা ঝুলিয়ে রাখে মহমেডান।

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.