বঙ্গ জুড়ে কাঁপুনি ধরানো ঠান্ডা। শীতের দাপটে বাড়ি বাড়ি বেরিয়ে পড়েছে লেপ, কম্বল আর বালাপোশ। আধুনিক সময়ে অনেকেই হালকা কম্বল ব্যবহার করলেও বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে ভিন্ন তথ্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারী ও মোটা কম্বল বা weighted blanket মুড়ি দিয়ে শোওয়ার ফলে শুধু ঠান্ডা থেকে রক্ষা নয়, বরং মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যেও মিলতে পারে উপকার।
গবেষকরা বলছেন, ভারী কম্বলের চাপ শরীরে ‘ডিপ প্রেসার স্টিমুলেশন’ তৈরি করে। এতে হৃদ্স্পন্দন কমে, শরীর শান্ত হয় এবং স্নায়বিক চাপ কমে আসে। ফলে দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগ প্রশমিত হয়। একইসঙ্গে ফিল-গুড হরমোন অক্সিটোসিন এবং সেরোটোনিন নিঃসরণ বাড়ে, যা মন ভালো রাখতে সাহায্য করে।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, অটিজম স্পেকট্রাম থাকা শিশু বা প্রাপ্তবয়স্কদের ঘুমের সমস্যা থাকে। ভারী কম্বলের চাপ সেই ক্ষেত্রে উপকারী। কারণ, এতে ঘুম বৃদ্ধিকারী হরমোন মেলাটোনিন নিঃসরণ বাড়ে, ফলে গভীর ঘুম আসে। একইভাবে ইনসমনিয়া বা দীর্ঘদিনের ঘুমের সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিরাও স্বস্তি পেতে পারেন। ভারী কমবলের সুরক্ষাবোধ ও আরাম ঘুম আসতে সাহায্য করে এবং টানা ঘুম বজায় রাখতে সহায়ক হয়।
তবে চিকিৎসকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, গুরুতর শ্বাসপ্রশ্বাসের অসুবিধা, বুকে চাপের সমস্যা বা শিশুদের ক্ষেত্রে বয়সভেদে ব্যবহার নিয়ে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
এই মুহূর্তে ঠান্ডার চোটে যখন ঘুম ব্যাহত হচ্ছে, তখন ভারী কম্বল অনেকের জন্য হতে পারে কার্যকর ও আরামদায়ক সমাধান।


