Homeউৎসবসাহিত্যে রথযাত্রা কী? অজানা তথ্যগুলি সম্পর্কে জেনে নিন

সাহিত্যে রথযাত্রা কী? অজানা তথ্যগুলি সম্পর্কে জেনে নিন

প্রকাশিত

রথযাত্রা আর্যজাতির একটি প্রাচীন ধর্মোৎসব। কিন্তু এখন রথযাত্রা বললে সাধারণত জগন্নাথদেবের রথযাত্রাকেই বোঝায়।

কিন্তু একসময় ভারতবর্ষে সৌর, শক্তি, শৈব, বৈষ্ণব, জৈন, বৌদ্ধ সব ধর্ম-সম্প্র্রদায়ের মধ্যে স্ব স্ব উপাস্যদেবের উৎসববিশেষে রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হতো। প্রাচীন ভারতীয় গ্রন্থ ব্রহ্মাণ্ডপুরাণ এবং পদ্মপুরাণ-এও এ রথযাত্রার উল্লেখ পাওয়া যায়।

সাহিত্যে রথযাত্রা-

রথের মেলা মানেই পাঁপড় ভাজা। এটা রথের সঙ্গে এমন অঙ্গাঙ্গি ভাবে জড়িয়ে গেছে যে, লোকেরা এ দিন বাড়িতেও পাঁপড় ভাজেন। সঙ্গে থাকে জিলিপি। মেলায় তো এগুলো পাওয়া যায়ই, থাকে খেলনাবাটি, বন্দুক ছুড়ে বেলুন ফাটানো, লটারি,  মেয়েদের সাজের জিনিস, ফুচকা, পেটাই পরটা, কাপ-ডিস, হাতা, খুন্তি, সাঁড়াশি, হাঁড়ি-পাতিল, রঙিন মাছ, ইলেকট্রিক মেয়ে, ম্যাজিক শো আর যেটা অবশ্যই থাকে, সেটা হল নাগোরদোলা। ইদানিং শুরু হয়েছে বিভিন্ন রাইড। এইগুলো ছাড়া রথের মেলা ভাবাই যায় না।

আর রথ? রথ বলতেই শ্রীরামপুরের মাহেশের রথ, গুপ্তিপাড়ার বৃন্দাবনচন্দ্র মঠের্র রথ, ধামরাই জগন্নাথ রথ, পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদলের রথ কিংবা ইসকনের রথ। ইসকনের উদ্যোগে পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি দেশে যতই মহাসমারোহে জাঁকজমক করে রথ বেরোক না কেনো, রথ বলতে লোকে কিন্তু পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের রথকেই বোঝে।

প্রতি বছর নতুন কাঠ দিয়ে একদম নতুন করে তৈরি করা হয় এই রথ এবং প্রতি বছর অবিকল একই রকম দেখতে হয়।

রথযাত্রার আগে সাত দিন বন্ধ থাকে মন্দিরের দরজা। প্রচলিত আছে, এই সময় তুমুল জ্বরে আক্রান্ত হন জগন্নাথ। জ্বর কমলে হাওয়া বদলের জন্য আষাঢ় মাসের অষধু শুক্লপক্ষের দ্বিতীয় তিথিতে জগন্নাথ, সুভদ্রা আর বলরাম রথে চড়ে যান রাজা ইন্দ্রদ্যুম্নের পত্নী গুণ্ডিচার বাড়ি। এটাকে বলা হয় জগন্নাথের ‘মাসির বাড়ি’। সেখানে সাত দিন থেকে আবার ফিরে আসেন তাঁরা। রথে চড়ে এই যাওয়াকে সোজারথ আর ফেরাটাকে উল্টোরথ বলে।

এই যাত্রাকে রথযাত্রা ছাড়াও পতিতপাবন যাত্রা, নবযাত্রা, গুণ্ডিচাযাত্রা, মহাদেবী যাত্রা বা নন্দীঘোষ যাত্রাও বলে। কথিত আছে, এই রথযাত্রা বা পুনর্যাত্রা, মানে উল্টোরথের দড়ি টানলে এবং রথে থাকা ভগবান জগন্নাথ, বলরাম আর সুভদ্রাকে চাক্ষুস করলে নাকি সঙ্গে সঙ্গে সাত জন্মের মহাপাপও ধুয়েমুছে সাফ হয়ে যায়। তার আর পুনর্জন্ম হয় না।

লোকে এটাকে এতটাই মান্য করেন যে, যতক্ষণ না সোনার ঝাঁটা দিয়ে রথ চলার রাস্তাটা কেউ ঝাঁট দিয়ে পরিষ্কার করে না দিচ্ছেন, এই রথযাত্রা শুরুই হয় না।

রথযাত্রার সময় প্রথমে থাকে বলরামের রথ তালধ্বজ। রথটিতে থাকে চোদ্দোটি চাকা। উচ্চতায় বিয়াল্লিশ ফুট। রথের রং নীল।

তার পরে থাকে সুভদ্রার রথ দর্পদলন। উচ্চতায় প্রায় তেতাল্লিশ ফুট। এটায় থাকে মোট বারোটি চাকা। এই রথটির ধ্বজা বা পতাকায় ‘পদ্মচিহ্ন’ আঁকা থাকে দেখে এই রথটিকে’পদ্মধ্বজ’ও বলা হয়। এই রথটির রং লাল।

আর একদম শেষে থাকে জগন্নাথের রথ নন্দীঘোষ। এই রথের পতাকায় কপিরাজ হনুমানের মূর্তি আঁকা থাকে। তাই এই রথের আর এক নাম— কপিধ্বজ। তিনটির মধ্যে এই রথটিই সবচেয়ে বড়। উচ্চতায় পঁতাল্লিশ ফুট। এতে থাকে ষোলোটি চাকা। প্রতিটি চাকার ব্যাস সাত ফুট। রথটির রং হলুদ।

পুরীর এই মন্দিরই একমাত্র মন্দির, যেখানকার বিগ্রহ গর্ভগৃহের বাইরে আনা হয়। জন্মগত ভাবে হিন্দু না হলে এই মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশ করা নিষেধ। তাই অন্য ধর্মের মানুষেরা পিছন দিকের দক্ষিণের দরজা দিয়ে বলরাম, জগন্নাথ, সুভদ্রাকে দর্শন করেন। শুধুমাত্র এই রথযাত্রার দিনই ভেঙে দেওয়া হয় এই জাতপাতের বেড়া।

শোনা যায়, স্বপ্নাদেশে রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন সাগরে দারুব্রহ্ম পাওয়ার পর গুণ্ডিচা মন্দিরে এনে মহাবেদী নির্মাণ করে যজ্ঞ করেন। যজ্ঞ শেষ হওয়ার পর দেবর্ষি নারদ মুনির পরামর্শে সেই দারুব্রহ্ম বৃক্ষটি কাটিয়ে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা দেবীর বিগ্রহ তৈরি করার জন্য রাজা মেতে ওঠেন। এ জন্য দেশের সেরা সেরা কাঠের মিস্ত্রীদের ডেকে আনা হয়। কিন্তু দেখা যায়, মূর্তি গড়ার জন্য বৃক্ষের গায়ে যখনই হাতুড়ি, ছেনি বা কুঠার, যাই-ই ঠোকা হচ্ছে, সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাচ্ছে।

রাজা পড়লেন মহা সমস্যায়। সে সময় ভগবান বিশ্বকর্মা, কারও কারও মতে অবশ্য ভগবান বিষ্ণু, এক ছুতোরের ছদ্মবেশে এসে সেই মূর্তি তৈরি করার ভার নেন।

তিনি এসে বলেন, আমার নাম অনন্ত মহারাণা। আমি মূর্তি গড়ে দেব। আমাকে শুধু একটি বড় ঘর আর ২১ দিন সময় দিন, ব্যাস। তবে একটি শর্ত আছে। আমি একুশ দিন দরজা বন্ধ করে কাজ করব। সে সময় কেউ যেন সেই ঘরের দরজা না খোলে। রাজা তাতেই সম্মত হলেন।

ছদ্মবেশী বিশ্বকর্মা ঘরে ঢোকামাত্র বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হল। রাজার নির্দেশে বসানো হল কড়া প্রহরা। যাতে কাক-পক্ষীও ভেতরে ঢুকতে না পারে।

ভেতরে কাজ চলতে লাগল। একদিন যায়। দু’দিন যায়। সপ্তাহও পেরিয়ে গেল। রানি গুণ্ডিচা আর ধৈর্য ধরে রাখতে পারলেন না। তিনি ভাবলেন, আহা, কারিগরটি কেমন মূর্তি গড়ছে, একবার দেখব না! এই ভেবে মহারানি চোদ্দো দিনের মাথায়, কারও কারও মতে ন’দিনের মাথায় যেই না দরজা খুলে ভিতরে ঢুকলেন, অমনি কারিগর ক্রুদ্ধ হয়ে অদৃশ্য হয়ে গেলেন।

অসম্পূর্ণ জগন্নাথ, বলরাম আর সুভদ্রার মূর্তি দেখে রানি তো ভিরমি খান আর কী। হাত নেই, পা নেই, কী বীভৎস্য চোখ। এটা কী বানিয়েছেন উনি।

খবর পেয়ে ছুটে এলেন রাজা। রানির কীত্তি দেখে ভীষণ রগে গেলেন তিনি। মুখে যা এল, তা-ই বলে রানিকে তিরস্কার করলেন।

রাজাকে সেই রাত্রেই ভগবান বিষ্ণু আবার স্বপ্নে দেখা দিলেন। বললেন, আমার ইচ্ছায় দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা এই মূর্তি নির্মাণ করতে এসেছিলেন। কিন্তু তোমার স্ত্রী শর্ত ভঙ্গ করায় তিনি রেগে গিয়ে এ রকম অসমাপ্ত মূর্তি রেখেই চলে গেছেন। উনি আর কাজ করতে আসবেন না। তবে তোমার আফসোস করার কোনও কারণ নেই। তুমি তো আমার পরম ভক্ত, ঠিক আছে, আমি এই অসম্পূর্ণ মূর্তিতেই তোমার পূজা নেব।

সেই থেকে আজও পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে জগন্নাথ, বলরাম আর সুভদ্রা পূজিত হয়ে আসছেন সেই অসমাপ্ত রূপেই।

পুরীর বেশির ভাগ লোকই বিশ্বাস করেন, জগন্নাথ দেবের উপরে কেউ নেই! কারণ, ওখানকার লোকেরা লক্ষ্য করে দেখেছেন, মন্দিরের মাথায় কোনও পাখিকে দেখা যায় না। দেখা যায় না ওই মন্দিরের ওপর দিয়ে কোনও কিছুকে উড়ে যেতে। তাই তাঁরা দাবি করেন, জগন্নাথ দেবের উপর কেউ নেই। আর সেটা বজায় রাখার জন্যই ইসকন থেকে পুরীতে যে জগন্নাথ মন্দির তৈরি করার তোড়জোড় চলছে, ঠিক করা হয়েছিল সেই মন্দির হবে পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু মন্দির। কিন্তু প্রশাসন থেকে তাদের স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, পুরীর মন্দিরের চেয়ে উঁচু মন্দির সেখানে নির্মাণ করা যাবে না।

সারা বছর সাদা বেশ পরালেও রথযাত্রার আগে স্নানযাত্রার সময় জগন্নাথকে পরানো হয় হাতি বেশ। কেন এই বেশ পরানো হয়, তার পেছনে একটি গল্প আছে।

কথিত আছে, বহু শতক আগে পুরীর রাজদরবারে এসেছিলেন তৎকালীন বিখ্যাত পণ্ডিত গণেশ ভট্ট। রাজা তাঁকে জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রা দেখবার জন্য আহ্বান জানান। কিন্তু সেটা দেখতে যাওয়ার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা ছিল না তাঁর। কারণ, তাঁর আরাধ্য দেবতা ছিল গণপতি, মানে গণেশ। তবু রাজা বলেছেন দেখে তিনি প্রায় বাধ্য হয়েই গিয়েছিলেন। কিন্তু স্নানযাত্রায় গিয়ে গণেশ ভট্ট দেখলেন, তিনি যে জগন্নাথের স্নান দেখতে এসেছেন, সেখানে জগন্নাথ কোথায়! এ তো গণেশ ঠাকুর! তখন শুধু জগন্নাথই নয়, পৃথিবীর সমস্ত দেবদেবীই যেন তাঁর কাছে গণেশ ঠাকুরের আদল নিয়ে ধরা দিয়েছে।

না, সময় লাগল না। মুহূর্তের মধ্যে মুখে মুখে সারা রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ল এই খবর। আর তার পর থেকেই স্নানযাত্রায় জগন্নাথের বেশ হয়ে উঠল হাতিবেশ।

জগন্নাথ দেবের সৃষ্টি সম্বন্ধে ওড়িয়া মহাভারতে এক অদ্ভুত আখ্যান আছে। লীলা সংবরণের আগে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ যখন বৈকুণ্ঠে যাওয়ার চিন্তা করতে লাগলেন, তখন যদু বংশ গৃহযুদ্ধে ধ্বংস হয়ে গেছে। বলরাম যোগবলে দেহ রেখেছেন। তাই তিনি বনে গিয়ে একটি গাছের ওপরে উঠে মহাভারতের কথা চিন্তা করতে লাগলেন। সে সময় তাঁর ঝুুলন্ত পা’দুটিকে লাল পাখি ভেবে জরা নামক এক ব্যাধ তির ছুঁড়লেন। বলা হয়, এই ব্যাধ আগের জন্মে বালী-পুত্র অঙ্গদ ছিলেন। ভগবান রাম বালীকে বধ করে অঙ্গদকে বর দিয়েছিলেন, পর জন্মে শ্রীকৃষ্ণ রূপে তিনি অঙ্গদের শরে দেহ রাখবেন।

পরে শ্রীকৃষ্ণ দেহ রাখলে তাঁর দেহকে দ্বারকায় সমুদ্র তটে চন্দন কাঠে, খাঁটি গরুর ঘিয়ে দাহ করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ছ’দিন ধরে বিপুল চন্দন কাঠ দাউদাউ করে জ্বললেও দেখা গেল, ভগবানের শরীর একটুকুও পোড়েনি। তখন দৈববাণী হল ভগবান শ্রীকৃষ্ণের এই নশ্বর দেহ আগুনে দাহ করা যাবে না। এই পবিত্র দেহ সমুদ্রে বিসর্জন দাও।

ফলে সেই দেহ তুলে অতি যত্নে সমুদ্রে বিসর্জন দেওয়া হল। পরে সেই দেহ কাঠে রূপান্তরিত হয়ে ভাসতে ভাসতে রোহিনীকুণ্ডে এসে ভেড়ে। সেই কাঠ দিয়েই জগন্নাথ, বলরাম আর সুভদ্রার বিগ্রহ তৈরি হয়।

উৎসবের খবরের আপডেট পেতে পড়ুন খবর অনলাইন

সাম্প্রতিকতম

আইপিএল ২০২৪: এবার ম্যাচ কেকেআর বনাম সানরাইজার্স হায়দরাবাদ, রাজস্থান রয়্যালস্‌ বনাম আরসিবি

খবর অনলাইন ডেস্ক: এবারের আইপিএল-এ প্লে-অফে কোন চারটে দল খেলবে তা আগেই ঠিক হয়ে...

২৫ দিন পর বাড়ি ফিরে এলেন ‘তারক মেহতা…’র ‘নিখোঁজ’ অভিনেতা গুরুচরণ সিং  

খবর অনলাইন ডেস্ক: দিনপঁচিশেক ‘বেপাত্তা’ পর বাড়ি ফিরে এলেন হিন্দি সিরিয়ালের অভিনেতা গুরুচরণ সিং।...

মৃণাল সেনের ‘কোরাস’ এবং কিছু কথা

পঙ্কজ চট্টোপাধ্যায় না, তখনও তার গ্র‍্যাজুয়েশন শেষ হয়নি। নামমাত্র বোধহয় দুটো টিউশনি করে সে, মানে...

বিজেপিতে বড় ভাঙন! বিদায়ী সাংসদ যোগ দিলেন তৃণমূলে

ঝাড়গ্রাম: রবিবার আনুষ্ঠানিক ভাবে তৃণমূলে যোগ দিলেন ঝাড়গ্রামের বিদায়ী সাংসদ কুনার হেমব্রম। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের...

আরও পড়ুন

বড়দিনে উৎসব মুখর কলকাতা, ভিড় উপচে পড়ল পার্ক স্ট্রিট থেকে চিড়িয়াখানায়

কলকাতা: বড়দিনে জনসমুদ্র উপচে পড়ল পার্ক স্ট্রিটের রাস্তায়। বড়দিনের রাতে পার্ক স্ট্রিটের ভিড় যেন...

রাখি বন্ধন উৎসবে বাড়িতে বানাতে পারেন এই ৪ রকমের রাখি, কীভাবে বানাবেন জেনে নিন

রাখি বন্ধন উৎসব প্রায় এসেই গেল। ভাই-বোনের ভালোবাসার প্রতীক রাখি বন্ধন উৎসব। হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমায় এই উৎসব পালিত হয়। রাখি উপলক্ষে বাজারে বিভিন্ন ধরনের রাখি কিনতে পাওয়া যায়।

রাখিবন্ধনে উৎসবে কী ভূমিকা শ্রীকৃষ্ণ ও দ্রৌপদী, শুভ ও লাভ, যম ও যমুনার? এই অজানা কাহিনীগুলি কী জানেন?  

রাখি পূর্ণিমার পবিত্র উৎসব হল ভারতীয় উপমহাদেশের ভাই বোনের প্রেম প্রীতির অন্যতম বন্ধন উৎসব। এই উৎসব যত না উৎসবের আনন্দ তার চেয়েও অনেক বেশি দায়িত্বের।